সন্ত্রাসের জনপদেই এসে গেল ‘শহর পুলিশ ফাঁড়ি’, এলাকাবাসির উচ্ছ্বাস

সন্ত্রাসের জনপদেই এসে গেল ‘শহর পুলিশ ফাঁড়ি’, এলাকাবাসির উচ্ছ্বাস

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া ও পাহাড়তলী, এই জনপদই পর্যটন রাজধানীর সন্ত্রাসি কর্মকান্ডের মুর্তিমান আতংকের নাম। শহরের অন্য এলাকার চেয়ে এ দুই এলাকাতেই একের পর এক চুরি, ছিনতাই আর হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটতে থাকে হরহামেশাই। কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সাধারণ মানুষ থানা পুলিশে আসতে আসতেই পাহাড়ী এলাকার সুযোগ নিয়ে খুব সহজেই ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যেতে পারে সন্ত্রাসিরা।

তবে সেই সুযোগ আর হয়ে উঠছে না। অবশেষে দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকাতেই সদর মডেল থানার ‘শহর পুলিশ ফাঁড়ি’ এসে গেছে।

ইতোমধ্যে শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া ডালিয়া কলোনীস্থ আব্দুল্লাহ ভবনে স্থানান্তর হওয়া ওই পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশী কর্মকান্ড শুরু করে দিয়েছে। নতুন করে ওই এলাকায় স্থাপিত হওয়া পুলিশ ফাঁড়ি গঠিত হয়েছে একজন পুলিশ পরিদর্শকের নেতৃত্বে চৌকস একটি বৃহত্তর টিম।

এলাকার সচেতন ব্যক্তিরা জানান, দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকাতে পুলিশের ক্যাম্প হওয়ার খবরে সন্ত্রাসি বাহিনী গা ঢাকা দিয়েছে। পালিয়ে গেছে অনেক ছিনতাইকারি। দু’একদিন ধরে কোন আওয়াজও নেই। এই এলাকার বসবাসকাসি জনগণই অনেক বেশি খুশি হয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি হওয়াতে।

তারা মনে করছেন, জানমাল নিরাপত্তায় সহজেই পুলিশকে পাবে সাধারণ মানুষ। এই কারণেই কক্সবাজার জেলা পুলিশ বিভাগকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন এলাকাবাসি। তবে একটি বিষয় নিয়ে আশাহত তারা। সদর মডেল থানার সামনে থেকে রুমালিয়ারছড়ায় স্থানান্থরিত পুলিশ ফাঁড়ি ভাড়া বাসাতেই কর্মকান্ড শুরু করতে হয়েছে।

এলাকার সচেতন মানুষ মনে করছেন, সরকারের পরিত্যক্ত খাস জমিতেই যদি স্থায়ীভাবে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতো, সেক্ষেত্রে আর সমস্যা থাকতো না।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাজাহান কবির বলেন, ‘এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই এলাকাতেই যাতে পুলিশের এক ফাঁড়ি হয়। তাই মান্যবর জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন উদ্যোগী হয়ে সদর মডেল থানার সামনে থেকে সরিয়ে দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকাতেই শহর পুলিশ ফাঁড়ি স্থানান্তর করেছেন।’

তিনি মনে করেন, এই এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি হওয়াতে অনৈতিক কর্মকান্ড কমে যাবে। কেউ সদর মডেল থানায় অভিযোগ জানালে দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, পাহাড়তলী, আলির জাহাল, পল্লানকাটা, সাহিত্যিকা পল্লীসহ আশেপাশের সন্ত্রাসী অধুষ্যিত যে সব এলাকা আছে সেখানে পুলিশ পৌঁছে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

নতুনভাবে শুরু হওয়া এই ফাঁড়ির প্রধান থাকবেন পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মোহাম্মদ ইয়াছিন।

তিনি জানান, একজন পুলিশ পরিদর্শক, দুইজন উপ-পরিদর্শক (এসআই), ৩ জন সহকারী উপ-পরিদর্শকসহ (এএসআই) অসংখ্য পুলিশ সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আছেন।

তিনি বলেন, এলাকাতে পুলিশের কার্যালয় দেখে অনেকেই অভিবাদন দিচ্ছেন। শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। এলাকাবাসি খুব সহজেই পুলিশের সেবা পাবেন। রাত-বিরাতে শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বপালন করবে পুলিশ।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!