নারায়নগঞ্জের ‘প্রেমিকা বধূ’ই করোনা নিয়ে এলো ভারুয়াখালীতে!

নারায়নগঞ্জের ‘প্রেমিকা বধূ’ই করোনা নিয়ে আসলেন ভারুয়াখালীতে!

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের ওই যুবক ছিলেন সৌদি আরবে। আর তরুণী ছিলেন সেই সুদূর বাংলাদেশের শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা নারায়নগঞ্জে। এই দেশ থেকে সেই মরুর দেশে প্রেমিকের সাথে ইথারে তার পরিচয়। পরিচয় থেকে প্রেম। সেই প্রেম গাঢ় হতে হতে এমন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ালো যে, যুবককে সৌদি ছেড়ে ফিরে আসতে হলো দেশে।

মাস তিনেক আগে যুবক ফিরে আসলেন দেশে। তার বাড়ি কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীতে। দেশে ফিরেই যুবক গ্রামের বাড়ি ফিরলেও সহসায় চলে যান প্রেমিকার দেশ নারায়নগঞ্জে। ওখানে গিয়ে প্রেমিকার সাথে বিয়ে হয় তার। বিয়ের পর টানা প্রায় আড়াই মাস সংসারও পাতেন নারায়নগঞ্জে।

এই সময়ে ‘করোনা’ নামের এক অদেখা ভাইরাস এসে সবকিছু এলোমেলো দেয়। কিছুদিনের মধ্যেই রাজধানী ঢাকার পর নারায়নগঞ্জই হয়ে উঠে ‘করোনা সাম্রাজ্যের’ হটস্পট। দ্রুত ছড়াতে থাকে সেই ভাইরাস। আর প্রেমিক-প্রেমিকা থেকে সংসারি হওয়া দু’টো মানুষ শংকিত হয়ে উঠেন। সেই শংকা থেকেই মাত্র ৩ দিন আগে মাছবাহী ট্রাকে প্রেমিকা বধূকে নিয়ে সেই যুবক ফিরে আসেন কক্সবাজারে তার গ্রামের বাড়িতে।

প্রেমিক তার প্রেমিকা বধূকে নিয়ে উঠেন ভারুয়াখালীর করিম সিকদার পাড়ার নিজের গ্রামে বাড়িতে। নারায়নগঞ্জ ফেরত এই যুগলের কথা দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন গিয়ে তাদের করোনা জীবাণুর নমুনা সংগ্রহ করেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে টেষ্টে ওই প্রেমিকা বধূর শরীরে ধরা পড়ে করোনাভাইরাসের জীবাণু।

এই হলো সেই গল্প, সদরের ভারুয়াখালীর যে গৃহবধূর করোনা ‘পজিটিভ’ হয়েছে এই গল্প তার!

ভারুয়াখালী ইউনিয়নের করিম সিকদার পাড়ার স্থানীয় প্রতিবেশিরা এসব তথ্য কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানিয়েছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই ওই প্রেমিকা বধূর শ্বশুর বাড়িটি লকডাউন করেছে প্রশাসন। সেখানে লাল পতাকা টানিয়ে দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে ১৫০ জন সন্দেহভাজন রোগীর করোনা টেষ্ট করে ২০ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্থিত্ব ধরা পড়ে। এদের মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৬ জনের করোনা ‘পজিটিভ’ হয়। ভারুয়াখালীর ওই গৃহবধূ সেই ৬ জনের মধ্যে একজন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!