‘জীবন বিসর্জন দিয়ে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা পৈশাচিক’, করোনায় যা বললেন ডা. শাহাদত

‘জীবন বিসর্জন দিয়ে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করা পৈশাচিক’, করোনায় যা বললেন ডা. শাহাদত

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

নিজের ফেসবুক পেইজ থেকে লাইভে এসে নিয়মিত টেলিমেডিসিন চিকিৎসাসেবা দেয়ার সময় দেশের করোনা পরিস্তিতি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, ওয়ার্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন (WHO) যেটা আশঙ্কা করেছিল, মে মাস করোনার জন্য একটি ঝুকিপূর্ণ মাস। এই সময়টাতে
বিশ্বব্যাপী করোনা আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়তে পারে। প্রতিদিনের করোনা আপডেট সেটা থেকে বোঝা যাচ্ছে, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু আমাদের ইনভেস্টিগেশনের পরিমাণ অনেক কম, যেটি খুবই হতাশাজনক।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমি মনে করি যত বেশি টেস্ট, তত বেশি রোগ নির্ণয় এবং তত বেশি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। কিন্তু আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন জায়গায় পিসিআর মেশিন নেই, কিংবা যেখানে পিসিআর মেশিন আছে সেগুলো নষ্ট, আবার অনেক জায়গায় হয়তো ৩-৪টা আছে যেগুলোকে আমরা কাজে লাগাতে পারছি না।

তার মতে, এই সমন্বয়হীনতার কারণে আজকে আমাদের দেশে যেটা হচ্ছে সেটি খুবই দুঃখজনক। কাজেই আমরা যত বেশি ইনভেস্টিগেশন করতে পারবো আমরা তত বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো।

ডা. শাহাদত বলেন, আজকে আমরা যদি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভূটান বা মালদ্বীপের দিকে দেখি, যেখানে প্রতি ১০ লক্ষ মানুষের বিপরীতে টেস্ট হচ্ছে ১১-১২ হাজার, সেখানে আমাদের দেশে হচ্ছে ২৫০-৩০০। যেটি কিছুদিন আগেও ২০০ এর নিচে ছিল। কাজেই
আমরা দেখতে পাচ্ছি বিশ্বব্যাপী আমরা টেস্টিংয়ের দিক দিয়ে পিছিয়ে আছি। তাই আমাদের অনেক ইনভেস্টিগেশন কিটের প্রয়োজন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ আরো অনেকে এগিয়ে এসেছে, তাদের আমি সাধুবাদ জানাই।

তিনি বলেন, চায়না, সাউথ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানসম্মত টেস্ট কিট দ্রুত আমদানি করে বাংলাদেশে পিসিআরসমৃদ্ধ ল্যাবে প্রতিনিয়ত ১৫-২০ হাজারের বেশি টেস্ট করাতে হবে। এই ১৫-২০ হাজার টেস্ট আমরা নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে এটা কিন্তু আমাদের জন্য দুঃখজনক এবং এ করোনাভাইরাস ম্যানেজমেন্ট আমাদের জন্য একটা ফেলিউর হিসেবে চিহ্নিত হবে। কাজেই আমাদের এখনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সেবা অধিদপ্তরগুলো সবাই একটা কম্বিনেশনের মাধ্যমে কাজ করতে হবে।

তিনি মনে করেন, আমরা যেটা বারবার বলছি দলমত নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে ও ন্যাশনাল টাস্কফোর্স গঠন করে এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।

ডা. শাহাদত হোসেনের মতে, আমাদের যদি বাজেট কম হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে আমরা আমাদের পক্ষ থেকে আমরা একটা প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা বিভিন্ন এলাকাকে ‘জোনিং’ (ZONING) করাটাকে গুরুত্ব দিতে পারি। যেমন, যেখানে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী রয়েছে, সেখানে
আমরা রেড জোন (RED ZONE) করতে পারতাম। আর যেখানে করোনা রোগী আরেকটু কম রয়েছে সেখানে আমরা অরেন্জ জোন (ORANGE ZONE) এবং যেখানে একদম করোনা রোগী নেই সেখানে আমরা গ্রীণ জোন (GREEN ZONE) করতে পারতাম।

তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বলতে চাই আজকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরকে যদি রেড জোন করতে পারতাম, তাহলে হয়তোবা এই মহামারী বিপদাকার ধারণ করতো না। আজকে কোনো ধরণের সমন্বয় না থাকার কারণে, জোনিং না করার কারণে, আজকে জীবিকার কারণে জীবনকে বিসর্জন দিয়ে মানুষ বের হয়ে গিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকার সেটিকে রেকমেন্ড করেছে। এইভাবে গরীব মানুষের জীবন বিসর্জন দিয়ে হার্ড ইমিউনিটি (HERD IMMUNITY) অর্জন করা পৈশাচিক।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!