সাতকানিয়াফেরত ৬৮ শ্রমিককে আটকে দিল কুতুবদিয়া প্রশাসন, সবাই গেল প্রাতিষ্টানিক কোয়ারেন্টাইনে

সাতকানিয়া থেকে আসা ৬৮ আটকে দিল কুতুবদিয়া প্রশাসন, সবাই গেল প্রাতিষ্টানিক কোয়ারেন্টাইনে

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের অন্যতম বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ব্রিকফিল্ড থেকে কাজ করে আসা ৬৮ জন শ্রমিককে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এবং একইদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দু’দফায় এ সকল শ্রমিক কুতুবদিয়া প্রবেশের পথে আটকিয়ে তাদের কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর বিষয়টি কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, করোনার ‘রেড জোন’ হিসাবে পরিচিত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এলাকার ব্রিকফিল্ডে কাজ শেষ করে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের কিছু শ্রমিক কুতুবদিয়া আসার খবর পেয়ে ইউএনও এবং উপজেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক জিয়াউল হক মীরের নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল চৌধুরীর নেতৃত্বে পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নৌবাহিনীর সদস্যরা তাৎক্ষণিক গিয়ে ওই সকল ব্রিকফিল্ড শ্রমিকদের আটকে দেন। পরে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ইউএনও জিয়াউল হক মীর কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, উপজেলা প্রশাসন কুতুবদিয়া প্রতিটি প্রবেশপথে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। ভিন্ন উপজেলা থেকে কোন লোক বা দীর্ঘদিন বাইরে থাকা কুতুবদিয়ার লোক কুতুবদিয়া উপজেলার ভৌগোলিক এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলেই তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনে তাদের হোম বা প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে বাধ্যতামূলকভাবে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

তিনি জানান, গত ৬ মে ২৮ জনকে এভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে কুতুবদিয়া উপজেলায় সর্বমোট ২৭৩ জনকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানো হয়। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইনে পাঠানোর এই সংখ্যা জেলার অন্যান্য উপজেলার চেয়ে কুতুবদিয়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি।

এছাড়াও কুতুবদিয়া উপজেলায় এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে ৬১ জনকে। এদের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারান্টাইন সেন্টার থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৩ জন।

হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে এ পর্যন্ত ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৭ জন।

ইউএনও জিয়াউল হক মীর বলেন, আল্লাহর অসীম রহমতে ৬ মে পর্যন্ত কুতুবদিয়া উপজেলার কোন বাসিন্দা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হননি।

এটা উপজেলা প্রশাসনের সবার সম্মিলিত কর্মের একটা ইতিবাচক ফলাফল বলে মনে করেন কুতুবদিয়ার ইউএনও জিয়াউল হক মীর।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!