করোনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে দেরি হলে যেসব ঝুঁকি

<b>জাতীয় ডেস্ক</b> কক্সবাজার ভিশন ডটকম

করোনা চিকিৎসায় জাপানি ওষুধ ‘পুরোপুরি কার্যকর’?

শরীরে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কিছু লক্ষণ দেখেই মানুষ পড়িমড়ি করে ছুটছেন পরীক্ষাকেন্দ্রে। পরবর্তীেতে ফলাফল পাওয়ার জন্য এক রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষায় থাকতে হয়। কারণ পরীক্ষার ফলাফল না পাওয়া পর্যন্ত সে নিশ্চিত নন যে করোনায় আক্রান্ত কি না।
এদিকে জ্বর, সর্দি, কাশির মত লক্ষণ নিয়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার জন্য নমুনা জমা দিলেও পরীক্ষার ফলাফল আসতে চার-পাঁচ দিন অপেক্ষা করার ঘটনা ঘটেছে অনেকের ক্ষেত্রে।

এরকম ঘটনার শিকার নারায়নগঞ্জের এক বাসিন্দা। পরিবারের একজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় পর পুরো পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠান তিনি। চারদিন পর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল হাতে আসার পর তিনি জানতে পারেন তার পরিবারের একাধিক সদস্য করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছেন। গত এক-দেড় মাসে নারায়নগঞ্জের ওই বাসিন্দার মতো অনেকেই পড়েছেন এই বিড়ম্বনায়। কারো কারো অভিযোগ, ফলাফল জানতে এক সপ্তাহের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের।

এ প্রসঙ্গে আইডিসিআরের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোশতাক হোসেন বলেন, দেশে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাসের উপসর্গ যাদের মধ্যে থাকবে, তাদের সবাইকেই করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের মতই সতর্কতার সঙ্গে সেবা দিতে হবে।সেই নির্দেশনা অনুযায়ী, নমুনা পরীক্ষা করতে দেয়ার সময় থেকে ফলাফল আসার আগ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীকে বাসায় বা সেবা কেন্দ্রে আইসোলেশনে রাখা উচিত।

তিনি জানান, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে কিনা তা না জানা পর্যন্ত অন্য রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না । এসময় করেনা পরীক্ষার ফলাফল সময়মতো না আসায় অনেকের চিকিৎসা ব্যাহত হওয়াসহ বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

মোশতাক হোসেন বলেন, সঠিক রোগতাত্বিক চিত্র পাওয়ার লক্ষ্যে সঠিক সময়ে পরীক্ষার ফল জানা খুবই জরুরি। নমুনা পরীক্ষার ফল আসার আগ পর্যন্ত কোনো রোগীর চিকিৎসা যেন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা থাকলেও অনেকক্ষেত্রেই সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। অনেক জায়গাতেই দেখা গেছে যে চিকিৎসকরা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করছেন, রোগীকে হাসপাতালে ঢুকতে দিচ্ছেন না এবং কোনো ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে রোগী বাসায় বসে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালে রোগী বাছাই করার আলাদা সেন্টার থাকবে। সেখান থেকে রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ঐ অন্তর্বর্তীকালীন সময় রোগী আইসোলেশনে থাকবেন। আর আইসোলেশনে থাকার সময় রোগীর অন্যান্য রোগের চিকিৎসাও নিশ্চিত করতে হবে।

পুরনো শ্বাসকষ্টের রোগী যদি হাসপাতালে যান এবং তার নমুনা পরীক্ষা করতে পাঠিয়ে তার কোনো চিকিৎসা না দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেন চিকিৎসক, সেক্ষেত্রে পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলেও জানান তিনি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!