একজন ডাক্তারের শরীরে করোনা, ৪৩ পরিবার ‘ঘরবন্দি’ আমির আলী ম্যানশনে!

করোনায় ৮ দফা সুপারিশ দিল জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শ কমিটি

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

ভয়াবহ থাবা যখন নিজের গায়েই আসলো, তখনো জানতেন না যে তিনি করোনায় আক্রান্ত! দেশের এই ক্লান্তিলগ্নে প্রথম সারির ফ্রন্টলাইনের তিনিও একজন যোদ্ধা। কিন্তু তার সামান্য অবাসধানতায় হলে গেল ৪৩ পরিবারের ‘বন্দি জীবন’। তিনি যে বাড়িতে বসবাস করতেন, সেই কক্সবাজার শহরের ভিআইপি সড়কের আমির আলী ম্যানশন ‘লকডাউন’ হওয়ায় কেউ ঘর থেকে ইচ্ছে করলেও আর বের হতে পারছেন না।

বলছিলাম কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কর্মরত ‘কোভিড ১৯’ পরীক্ষায় করোনাভাইরাস ধরা পড়া এক চিকিৎসকের কথা। তিনি এই হাসপাতালেরই কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট। ওই চিকিৎসক গত শুক্রবার (পহেলা মে) চট্টগ্রামের লোহাগড়ায় নিয়মিত চেম্বারে রোগী দেখতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে করোনা স্যাম্পল জমা দেন তিনি। মঙ্গলবার (৫ মে) কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে তাঁর করোনা পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ ধরা পড়ে। এর আগে তিনি লোহাগাড়া থেকে এসে নিয়মিত যাতায়াত করেছেন ‘হাজী আমির আলি ম্যানশনে’র তার নিজের ভাড়া করা ৫ম তলার ফ্ল্যাটে।

শহরের নিউ সার্কিট হাউস সড়কের ওই ভবনটির পাশে ১০তলা আরও একটি ভবন রয়েছে। একই মালিকানাধীন দুই ভবনের মূল ফটক একটি হওয়াতে চরম বেকায়দায় পড়েছেন দুই ভবনে ভাড়া থাকা ৪৩টি পরিবার। মঙ্গলবার ওই চিকিৎসকের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পরই হাজী আমির আলী ম্যানশনের দুই ভবনেই লকডাউন করে দেয় প্রশাসন।

বিষয়টি কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন হাজী আমির আলী ম্যানশনের ব্যবস্থাপক চিংহলা মং।

তিনি জানান, ৫তলা বিশিষ্ট ওই ভবনে ২০টি ফ্ল্যাট রয়েছে, আর ১০তলা ভবনে রয়েছে ২৩টি ফ্ল্যাট। ওই ফ্ল্যাট গুলোতে বসবাস করছেন ৪৩টি পরিবার। তারা ইতিমধ্যে ‘বন্দি জীবন’ যাপন করছেন। কেউ ইচ্ছে করলেই বের হতে পারছেন না। বাজার করতে পারছেন না।

তিনি কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, যে ডাক্তার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, তিনি লোহাগাড়া থেকে ফিরেই এই ভবনে এসেছিলেন। তার সাথে রুমমেট হিসেবে ছিলেন আন্তর্জাতিক রেডক্রসের একজন কর্মকর্তা। তিনিও এখন চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

আমির আলী ম্যানশনের দুই ভবনের যেহেতু একটিই ফটক, তাই দুই ভবনই লকডাউন করে দেয় প্রশাসন।

এই দুই ভবনে ১৪ জন ডাক্তার, শীর্ষ পর্যায়ের এনজিও কর্মী ছাড়াও একটি ফ্ল্যাটে একটি গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন, সদর মডেল থানার একজন ইন্সপেক্টর পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন। তারা কেউই বাসা থেকে বের হতে পারছেন না।

হাজী আমির আলী ম্যানশনে দুইটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একটি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি, অন্যটি রাইট যশুর নামে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও আসা যাওয়া করতে পারছেন না।

সদর মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মাসুম খান কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে বলেন, করোনা আক্রান্ত রোগী যেহেতু এই ভবনে ছিলেন সেক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়েছে। এই ভবনের ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা দুই ব্যক্তি যদি করোনা টেষ্টে ‘নেগেটিভ’ আসে, তাহলে আগের মতো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

এদিকে কক্সবাজার শহরের ভিআইপি সড়কের আমির আলী ম্যানশনের পার্শ্ববর্তী অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে ফোন করে জানিয়েছেন কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে। তারা আশংকা করছেন, ওই চিকিৎসক যেহেতু করোনা আক্রান্ত হবার পরেও এই ভবনে যাতায়ত করেছেন সেক্ষেত্রে অদৃশ্য জীবাণু ছড়িয়ে যেতেই পারে!

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!