‘কোভিড ১৯’ চিকিৎসায় র‌্যাপিড টেষ্ট, ডা. শাহজাহান নাজিরের ভাবনা

‘কোভিড ১৯’ চিকিৎসায় র‌্যাপিড টেষ্ট, ডা. শাহজাহান নাজিরের ভাবনা

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সন্তান আর জেলার একমাত্র সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির। তিনি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক। একই সাথে তিনি বিশ্বে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস (কোভিড ১৯) নিয়েও গবেষণা করছেন।

এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক করোনাভাইরাসের এই সময়ে ‘র‌্যাপিড টেষ্ট’ নিয়ে কথা বলেছেন। সংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে র‌্যাপিড টেষ্ট কতটা জরুরি সেটি তুলে ধরে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফেসবুকে। ‘করোনা যুদ্ধে ভাবনা’ শিরোনামের ওই স্ট্যাটাসটি সংশোধিত আকারে কক্সবাজার ভিশন ডটকম পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

করোনা যুদ্ধে ভাবনা

র‍্যাপিড টেস্ট উন্নয়নশীল দেশের সংক্রামক রোগ দমনের জন্য নিয়ামক। এ টেস্ট কম খরচে, দ্রুততম সময়ে, যে কোন পরিবেশে করা যায় বলে, রোগীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্তও নেয়া যায় দ্রুত। সংক্রামক রোগ দমনের মূল শর্ত EDPT (Early Diagnosis and Prompted Treatment) মানে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও তড়িৎ চিকিৎসা কেবল র‍্যাপিড ডায়গোনস্টিক টেস্ট করে সম্ভব।

যেমন,
এইডস
এইডস বা এইচআইভি rtPCR করা অনেক দূরূহ ব্যাপার, তাই র‍্যাপিড ৩টি টেস্ট (Determine + Unigold+Fast Response) একত্রে করলে যারা সেনসিটিভিটি ৯৯%, মানে রোগ ধরার ক্ষমতা ৯৯%। যা আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় নিয়ামক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় মিলে ৫০০ এর বেশী এইডস রোগ নির্ণয় করে তাদের চিকিৎসা চলছে এই ৩ র‍্যাপিড টেস্ট করে।

ম্যালেরিয়া
সত্যি বলতে কি ম্যালেরিয়া মাইক্রোস্কোপির মাধ্যমে নির্ণয় করা অনেক ল্যাব টেকনোলজিস্টের জন্য দূরহ এবং সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই এতদিন ম্যালেরিয়া অনিয়ন্ত্রিত ছিল, যখনই র‍্যাপিড টেস্ট বাজারে আসলে যে কোন জায়গায়, স্বল্প সময়ে পরীক্ষা করে চিকিৎসা শুরু করাতে এখন পুরাপুরি নিয়ন্ত্রণে।

ডেঙ্গু
ডেঙ্গুর যদি পিসিআর করা লাগতো, গত মৌসুমে এক লাখ রোগীর মধ্যে কতজনের যে প্রাণহানী হতো, আল্লাহ মালুম। শুধু র‍্যাপিড টেস্ট করাতে কক্সবাজারের মতো জায়গায়ও ৬০০ এর বেশি রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয়েছে, যেখানে মৃত্যুর হার শুন্য ছিল।

কালাজ্বর
কালাজ্বরের কালচার করে রোগ নির্ণয় করতে মাইক্রোবায়োলজিস্টের ঘাম বের হয়। তাই কালাজ্বরের আগেকার দিনের ভয়াবহতা যারা দেখেছেন, তারা র‍্যাপিড টেস্ট আসার পরে, তার উপর নির্ভর করে দেন। এখন বাংলাদেশ কালাজ্বর মুক্ত বললেই চলে।

তাই কভিড ১৯’র জন্য দ্রুততম সময়ে রোগ নির্ণয়ের জন্য র‍্যাপিড টেস্ট, যা USFDA ও EUA এর অনুমোদিত। যার রোগ ধরার ক্ষমতা ৯৯% এর উপরে এবং কোন রোগহীন মানুষকে ভুল করে রোগী বানায় না, মানে স্পেসিফিসিটি বেশী। অন্যান্য করোনা জীবাণুর সাথেও ক্রস রিয়েক্ট করে না, যা দ্রুততম সময়ে ঘন্টায় ৩০০ এর বেশী পরীক্ষা করা যাবে, যে কোন সময়ে, যে কোন স্থানে। ভারতেও “ফেলুদা” নামক র‍্যাপিড টেস্ট বাজারে নিয়ে আসছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মতো দেশে কভিড ১৯’র চিকিৎসা করা সহজ হবে।

ডাঃ মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির
সহকারী অধ্যাপক
ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন
৬/৫/২০

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!