কক্সবাজারে করোনা জয় করে বাড়ি ফিরছেন আরও ৪ জন

নারায়ণগঞ্জে একদিনেই ৫০ জনে ছড়াল করোনা

মহিউদ্দিন মাহী
প্রধান প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

এই মুহুর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন রোগ ‘কোভিড ১৯’ করোনাভাইরাস। যে সংক্রমিত রোগটির এখনও পর্যন্ত ওষুধ সৃষ্টি হয়নি। এই রোগ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে গোটা দুনিয়াজুড়ে। তবে দেশে কক্সবাজার জেলায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরছেন চার ব্যক্তি। এদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। তারা হলেন সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের মোহাম্মদ ইদ্রিস, দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর অঞ্জলী বালা বড়ুয়া, হেলাল উদ্দিন ও হোসাইন সাব্বির।

তারা এতোদিন করোনা আক্রান্ত রোগিদের জন্য তৈরি করা কক্সবাজারের রামু ডেডিকেটেঢ আইসোলেশন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত মঙ্গলবার (৫ মে) কক্সবাজার মেডিকেলে কলেজ ল্যাবে ২য় দফা করোনা টেষ্টে তাদের রিপোর্ট ‘নেগেটিভ’ আসে। কয়েকদিন আগেও একইভাবে তদের করোনা টেষ্টে নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছিল।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যেই মেডিকেল কলেজের ল্যাব থেকে করোনা ‘পজিটিভ’ তালিকা থেকে ওই চারজনের নাম বাদ দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে আজই তাদের ছাড়পত্র দিতে পারে।

তাদের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল অফিসার ডা. ওলিউর রহমান কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, ডেডিকেটেঢ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার মাঝেই তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ফিরেছে। দুই দফা করোনা টেষ্টে নেগেটিভ হওয়ায় তাদের বাড়ি ফিরতে আর কোন বাধা নেই। আজ বিকালে হাসপাতাল থেকে তাদের ছাড়পত্র দেয়া হবে।

ডা. ওলিউর রহামন বলেন, ‘যে চারজন বাড়ি ফিরছেন তারা যখন আক্রান্ত হয়েছিলেন তাদের মৃদু উপসর্গই ছিল। কারো উপসর্গ ৩ দিন, আবার কারো ৪ দিন পরপর দেখা গেছে। করোনা রোগিদের চিকিৎসায় জাতীয় ভাবে যে গাইডলাইন আছে সে উপসর্গ অনযায়ী তাদের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে।’

রামু উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. নোবেল কুমার বড়ুয়া কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, করোনামুক্ত এই চারজনকে রামুর ডেডিকেটেড হাসপাতালের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদায় জানাবেন। তাদের প্রত্যেককে ফুল দেয়া হবে। এ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ঘর পর্যন্ত পৌছে দেয়া হবে করোনামুক্ত এই রোগীদের।

তিনি জানান, বাড়িতে পৌছেও তাদের ১৪ দিন পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। এরপরেই স্বাভাবিক ভাবে আগের মতো মানুষের সাথে চলাফেরা করতে পারবেন।

কক্সবাজারের একমাত্র সংক্রমণ রোগ বিষেশজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির জানান, তিনি করোনা রোগীদের জন্য তৈরি হওয়া রামুর ডেডিকেটেড আইসোলেশন হাসপাতাল এবং চকরিয়াতে আইসোলেশন হাসপাতালে রোগীদের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

প্রসঙ্গত, এই চারজনের আগেও কক্সবাজারে আরও চারজন ‘কোভিড ১৯’ আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে ৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!