পেকুয়ার ‘চালবাজি’র তদন্তে এমপি জাফরসহ ৩৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ, ১৫ দিনেই রিপোর্ট

পেকুয়ার ‘চালবাজি’ তদন্ত করতে আসছেন ৩ সদস্যের কমিটি

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের বহুল আলোচিত পেকুয়া উপজেলার ত্রাণের ১৫ টন চাল আত্মসাতের ঘটনা তদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিটি গঠন হওয়ার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেই স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে জমা দেয়া হবে।

সোমবার (৪ মে) উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রধান, স্থানীয় সরকার বিভাগ, চট্টগ্রামের পরিচালক (জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত সচিব) দীপক চক্রবর্তী পেকুয়া উপজেলা পরিষদ ভবনে ১৫ টন চাল আত্মসাতের ঘটনায় বিভিন্নজনের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে একথা জানান।

স্থানীয় সরকার বিভাগ, চট্টগ্রামের পরিচালক (জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত সচিব) দীপক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি পেকুয়া উপজেলা পরিষদ ভবনে সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ৭ ঘন্টা ৩৬ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করে।

যাদের কাছ থেকে জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী বাদে পেকুয়া উপজেলার বাকি ৬ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ৭ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব, উপজেলার সকল বিভাগীয় কর্মকর্তা, সকল ট্যাগ অফিসার, সহকারি কমিশনার (ভূমি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদত, ৭ জন ঠিকাদার ও ইজারাদারসহ মোট ৩৬ জন।

তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার বিভাগ, চট্টগ্রামের পরিচালক দীপক চক্রবর্তী কক্সবাজার ভিশন ডটকমকে জানান, কমিটি কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমকে উপস্থিত থাকার জন্য কোন নোটিশ দেননি। কমিটির নোটিশ দেয়ার এখতিয়ারও নাই। কিন্তু তদন্ত চলাকালে সংসদ সদস্য মহোদয় নিজে স্বপ্রনোদিত হয়ে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে সংসদ সদস্য মহোদয় নিজে তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করতে কমিটিকে অনুরোধ জানালে কমিটি তাঁর বক্তব্যও গ্রহণ করে।

জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত সচিব দীপক চক্রবর্তী বলেন, সোমবার শুধু জবানবন্দি গ্রহণ করতে করতে ইফতারের সময় ঘনিয়ে আসায় কমিটি আর কোন কাজ করতে পারেননি। কমিটির অপর দুইজন সদস্যের সাথে আলাপ করে পুরো তদন্ত কমিটি আগামি ২/৩ দিনের মধ্যে চট্টগ্রামে বসবেন। তাঁরা সকল জবানবন্দি পর্যালোচনা, ফাইলপত্রসহ সব ডকুমেন্টস দেখে তদন্ত প্রতিবেদন ও করণীয় সম্পর্কে সুপারিশমালা তৈরি করবেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার বিভাগ, চট্টগ্রামের পরিচালক দীপক চক্রবর্তী এজন্য তদন্তকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত ২৮ এপ্রিল কমিটি গঠিত হওয়ার পর, কমিটিকে বেঁধে দেয়া সময় ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিবের কাছে জমা দেয়ার টার্গেট রয়েছে।

কমিটির অন্য দুইজন সদস্য হলেন কক্সবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (উপসচিব) শ্রাবস্তী রায় এবং কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম।

প্রসঙ্গত, পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে গত ৩১ মার্চ টৈটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীর নামে বরাদ্দকৃত ১৫ টন ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে এনে গত ২৮ অক্টোবর তাকে একমাত্র আসামি করে পেকুয়ার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিন স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এক আদেশে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

পরে গত ৩০ এপ্রিল একই ঘটনার রেশ ধরে পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদাতকে বদলী করা হয়। আবার ১ মে পেকুয়ার ইউএনও সাঈকা সাহাদাতের ৩০ এপ্রিলের বদলী আদেশ স্থগিত করা হয়।

পরে ১৫ টন ত্রাণের চাল আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে বর্ণিত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!