পিএমখালীতে বয়স্ক ভাতার নামে চাঁদাবাজি!

পিএমখালীতে বয়স্ক ভাতার নামে চাঁদাবাজি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

করোনা মহামারি অবস্থায়ও থেমে নেই নানা অপরাধ। তারই ধারাবাহিকতায় ৪ মে সোমবার সকালে একাধিক মহিলার কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সকাল থেকে এই ঘটনায় ইউনিয়নজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

যদিও সরকারিভাবে কোন রকম এসব ভাতার ক্ষেত্রে ফি নাই, যা সম্পূর্ণ ফ্রী।

অভিযোগ মতে, কক্সবাজার সদরের পিএমখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই ধরণের অপরাধ করে যাচ্ছেন। যা স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারদের অগোচরে বলে জানা গেছে। তবে ৫নং ওয়ার্ডে মহিলা মেম্বারের বিরুদ্ধেও রয়েছে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ।

অভিযোগ সূত্রে সরেজমিনে তদন্ত করে জানা যায়, পিএমখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের উত্তর ডিকপাড়া মোস্তফা খাতুন, শাহিনা আক্তার, শাহানা আক্তার, ছমুদা আক্তার, সাকেরা বেগম নামের বয়স্কা মহিলাদের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করেছে একটি মহল। টাকা আদায়কারি ডিকপাড়া এলাকার নাজির হোসেন সওদাগরের ছেলে শাহজাহান বলেও ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

পরে ঘটনার মূল জানতে চেয়ারম্যান মাষ্টার আব্দুর রহিমসহ চেরাংঘর বাজারে পৌছলে বিষয়টি ক্লিয়ার হয়ে যায়। শাহজাহান স্বীকার করেন, তাকে টাকা তোলার দায়িত্ব দিয়েছেন একই ইউনিয়নের পরানিয়া পাড়ার মাষ্টার আব্দুর রশিদ।

পরে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে লুটে নেয়া টাকা ফেরত নিয়ে ভূক্তভোগীদের ফেরত দেয়া হয়।

বিষয়টি শুনে উপস্থিত সকলে চমকে যান। সবাই অবাক হন, কীভাবে এই চক্রটি অসহায়দের বোকা বানিয়ে সহজে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান বলেন, এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জার। এখন তো কোন ভাতার কার্যক্রম চলছে না। সরকারি ভাবে তো তালিকা হালনাগাদ চলছে না। তাছাড়া এসব বিষয় পরিষদের মেম্বারগণ করে থাকেন। সেখানে মাষ্টার আব্দু রশিদ কেনো এমন অপরাধ করলেন আমি বোধগম্য নই।

এই ব্যাপারে মুঠোফোনে ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার নুরুল হুদা বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। আমার ওয়ার্ডে এমন চাঁদাবাজি আমি মোটেও সহ্য করবো না।

তিনি বলেন, এর আগেও অনেকে বিভিন্নভাবে টাকা আদায় করেছে, আমার কাছে অভিযোগ রয়েছে। আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করছি।

এদিকে পিএমখালী ইউনিয়নে এমন ঘটনা নতুন নয়। মহিলা মেম্বার রৌশন আক্তার রেখার বিরুদ্ধেও পাওয়া গেছে এমন অভিযোগ। তিনি বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় প্রতিনিধি নিযুক্ত করে গরীব অসহায় মহিলাদের ভাতার লোভ দেখিয়ে ২ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ নয়াপাড়ায় রয়েছে একাধিক মহিলাদের অভিযোগ।

ভূক্তভোগীদের দাবি, নির্বাচিত হবার পর থেকে প্রতি বছরেই তিনি এই অপরাধ করে গেছেন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ উল্লাহ মারুফ বলেন, এটা অপরাধমূলক কাজ। অপরাধি যে-ই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!