অনুভূতি

রামুই আমার সংসার!

রামুই আমার সংসার!

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

প্রণয় চাকমা, যিনি এখন নামেই পরিচিতি পেয়ে গেছেন। বেশ কিছুদিন ধরে কক্সবাজার প্রশাসনে সহকারি কমিশনার (ভূমি) পদে দায়িত্ব পালনের পর পদোন্নতি পেয়ে হয়ে যান রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। রামু ইউএনওর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি তার ক্যারিশমা দেখাতে শুরু করেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা যে একজন জনপ্রতিনিধির মতো মানুষের জন্য কাজ করতে পারেন তার নজির দেখাচ্ছেন এই প্রণয় চাকমা’য়। বিশেষ করে করোনাভাইরাস জনিত বিপয্যয় আসার পর থেকেই তিনি ছুটছেন তো ছুটছেনই।

যতটুকু জানা যায়, তিনি এই সময়ে রামু উপজেলাকে করোনামুক্ত রাখতে সাধ্যের সবটুকু করেছেন। এই কাজের তার কাছাকাছি অন্য কোন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আছেন কিনা, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে।

সেই মানুষটিও কাজ করতে গিয়ে হয়তো ছোটখাটো ত্রুটি করতেও পারেন। একজন মানুষ তো আর সবাইকে খুশি করতে পারেন না! এই কারণে কেউ কেউ হয়তো তার পেছনে লেগেছেন। এই পিছু লাগার কষ্ট নিয়ে তিনি ‘ইউএনও রামু’ নামে একটি ফেসবুক আইডিতে নিজের অনুভূতি গুলো তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেছেন, রামুই এখন তার সংসার!

সোমবার (৪ মে) সকাল ৯টা ১২ মিনিটে তিনি দীর্ঘ এই স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন। বিকেল পৌণে ৪টা পয্যন্ত স্ট্যাটাসটি ৭৭ জন শেয়ার করেছেন। আর ১৭৪ জন কমেন্ট ও ৪৭৮ জন রিয়েক্ট করেছেন।

গভীর রাতে ঘরবন্দি মানুষের দুয়ারে ইউএনও প্রণয় চাকমা

কক্সবাজার ভিশন ডটকম পাঠকদের জন্য সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো। এই স্ট্যাটাসে নিজের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর আবেগটাকেও ঢেলে দিয়েছেন।

আমি প্রনয় চাকমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, রামু করোনাকালের এই ষাটতম দিনেও মাঠে-ঘাটে চষে বেড়াচ্ছি, যাচ্ছি প্রতিটি মানুষের দুয়ারে। সচেতন করছি, ত্রাণ দিচ্ছি। যার বাসায় অন্ন নেই, তার বাসায় নিজে অন্ন দিয়েছি। এটি আমার গল্প। জীবনের তরে আমার জীবন উৎসর্গ করলাম। আমি মানুষটা এমনই।

এবার আসি উপজেলা প্রশাসন, রামুর কথায়। এটি আমার সংসার। আমি এই সংসারের ব্যবস্থাপক। আমার সংসারে উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীকে নিয়ে করোনাকালের এই সংকট মোকাবেলায় রাত-দিন কাজ করছি। আমরা সবাই রামুরই। কারণ আমরা রামুকে ভালোবাসি, রামুর মানুষকে ভালোবাসি এবং ভালোবাসব। আর ভালোবাসি বলেই এখনো আছি এবং থাকবো।

এখন আসি রামুর আপামর মানুষের কথায়, যারা আমার এবং আমাদের সংসারের মূল কেন্দ্র। যাদের নিয়ে আমরা রচনা করি আমাদের সাফল্যগাঁথা। করোনা সংকট শুরু হওয়ার সময় থেকেই রামুর সচেতন মানুষ আমাকে এবং আমার সংসারকে বেগবান করেছেন এবং করছেন বিভিন্ন তথ্য দিয়ে, যাতে রামুর আপামর জনসাধারণ করোনাকে চিনে এবং জানে। আমি এবং আমার উপজেলা প্রশাসন সমর্থ হয়েছি করোনাকালের ৫০তম দিনেও কোন করোনা পজিটিভ রোগী আমাদের রামুতে শনাক্ত হয়নি। এখানেই আমাদের সাফল্যগাঁথা। আর একজন যিনি হয়েছেন তিনি তো শনাক্ত হওয়ার একদিন আগে রামুতে আসছেন।

রামুর ইউএনও বদলির গুজব!

আর এখন আসি ত্রাণের কথায়। মাননীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনাক্রমে ১১ ইউনিয়ন পরিষদকে সাথে নিয়ে অসহায়-দুঃস্থ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে আমরা এখনো ত্রাণ পৌছাচ্ছি। আমরা আমাদের সবকিছু নিয়ে এই সংকটকে মোকাবেলা করছি, এটি আমাদের প্রত্যয়। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংগালি জাতির পিতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ০৭ই মার্চের সেই ভাষণ আমাদের প্রেরণা। এই যুদ্ধে আমরা সফল হবোই।

পরিশেষে আসি টমটম, সিএনজি বা মাহিন্দ্র এর কথায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন, রামুর বিরুদ্ধে কিছু সিএনজি, টমটম বা মাহিন্দ্র এর চাকা পাংচার হওয়ার কিছু ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই, আমরা এসব শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকে তাদের আমাদের নিজেদের ঘাম ঝরানো সংগ্রহকৃত নগদ টাকা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ উপহার প্রদান করেছি। মাননীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পরামর্শ ও নির্দেশনায় আমরা কাজ করছি যেগুলোর তথ্য উপাত্ত আমাদের হাতে ছবিসহ প্রমাণিত। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। এদেশের মাটি ও মানুষের ঘামের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে আপামর মানুষের সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করেছি। ক্ষমতার দাপট দেখাতে নয়, নিজেদের আপামর মানুষের সেবায় সপে দিতে। আমাদের পাশে থাকুন, দেখুন করোনার এই সংকটে আমরা কিভাবে কাজ করছি।

উপজেলা প্রশাসন, রামু সবসময় রামুর জনগণের পাশে আছে, থাকবে। আমরা কর্মী, মাঠের শ্রমিক। মাঠেই থাকবো। দয়া করে কেউ অপপ্রচার করবেন না। অপপ্রচারকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!