‘ভয় পাসনে বাবা, আমি কোনো অন্যায় করিনি’

নিখোঁজের প্রায় দুই মাস পর হঠাৎ করেই সন্ধান মিলল ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলের। তবে মুক্তভাবে নয়, তাকে উদ্ধারের পর মামলা হয়েছে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে। ইতিমধ্যে আদালতেও তোলা হয়েছে তাকে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ছুটে গেছেন উদ্ধার হওয়া এলাকা যশোরের বেনাপোলে।

সেখানে সাংবাদিক কাজলের ছেলে মনোরম পলক বাবাকে দেখেই বুকে জড়িয়ে ধরেন।

এসময় ছেলেকে অভয় দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভয় পাসনে বাবা, আমি কোনো অন্যায় করিনি। সত্যের জয় হবে।’

এসময় কান্না করে ফেলেন সাংবাদিক কাজল।

রোববার বিকাল ৩টার দিকে যশোরের বেনাপোল আমলি আদালতে সাংবাদিক কাজলকে তোলা হয়। আদালতের সামনে আনা হলে কাজলকে তার ছেলে মনোরম পলক জড়িয়ে ধরেন। শফিকুল ইসলাম কাজল এ সময় তার ছেলেকে এসব কথা বলেন।

সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ১১(সি) ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত অনুপ্রবেশ মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন। তবে আইসিটি আইনে মামলা থাকায় তাকে কারগারে পাঠায় পুলিশ।

এর আগে দুপুরে পোর্ট থানা পুলিশ হ্যান্ডকাপ পরিয়ে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে তাকে যশোরে নিয়ে আসে। বেনাপোল থেকে এনে তাকে যশোর ডিএসবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানিয়েছেন যশোর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) তৌহিদুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের পরপরই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। সীমান্ত অনুপ্রবেশের মামলা ছাড়াও ঢাকায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

বিকাল ৩টার দিকে যশোর ডিএসবি কার্যালয় থেকে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয় ফটোসাংবাদিক ও দৈনিক পক্ষকালের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজলকে।

‘ভয় পাসনে বাবা, আমি কোনো অন্যায় করিনি’

এ সময় তিনি মানসিকভাবে দৃঢ় ছিলেন। আদালত প্রাঙ্গণে তার ছেলে মনোরম পলক তাকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় কেঁদে উঠলেন সাংবাদিক কাজল। অশ্রুসিক্ত হয়ে শফিকুল ইসলাম কাজল তার ছেলেকে বলেন, ‘ভয় পাসনে বাবা, আমি কোনো অন্যায় করিনি। সত্যের জয় হবেই।’

যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার ওয়েস্টিন হোটেলকেন্দ্রিক কারবারে জড়িতদের নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কারণে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করেন সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর। সেই মামলার আসামির তালিকায় শফিকুল ইসলাম কাজলের নামও রয়েছে। গত ৯ মার্চ শেরেবাংলা নগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলাটি করেন শিখর।

এর একদিন পর সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল সন্ধ্যায় দৈনিক পক্ষকাল অফিস থেকে বের হন। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে পরদিন ১১ মার্চ চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসী নয়ন। পরে ১৮ মার্চ রাতে কাজলকে অপহরণ করা হয়েছে অভিযোগ এনে চকবাজার থানায় মামলা করেন তার ছেলে মনোরম পলক। তার সন্ধান দাবিতে সাংবাদিকরা কর্মসূচিও পালন করেন।

এরমধ্যেই হঠাৎ করে সন্ধান মিলে সাংবাদিক কাজলের। শনিবার রাতে বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুরের একটি মাঠের মধ্য থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে যশোর ৪৯ বিজিবির রঘুনাথপুর ক্যাম্পের টহল দল। পরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দিয়ে তাকে গভীর রাতে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি।

রঘুনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার আশেক আলী বলেন, রাতে বিজিবির টহল দলের সদস্যরা কাজলকে সাদিপুর সীমান্তের একটি মাঠের মধ্য থেকে উদ্ধার করে। অবৈধভাবে ভারত থেকে আসার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!