পেকুয়ায় অস্ত্রধারিদের ধাওয়া দিল গ্রামবাসি

পেকুয়ায় অস্ত্রধারিদের ধাওয়া দিল গ্রামবাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়ায় ভাড়াটে বহিরাগত অস্ত্রধারিদের ধাওয়া দিল জনতা। বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টাধাওয়া হয়েছে।

এক লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ৪/৫ জনের অস্ত্রধারির নেতৃত্বে একদল দুবৃর্ত্ত ব্যবসায়ীর বসতভিটায় হানা দেয়। এ সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাটি ভরাট কাজে বাধা দেয়। তারই সুত্র ধরে গ্রামবাসিরা জড়ো হন। এ সময় অস্ত্রধারিদের ধাওয়া দেয় উত্তেজিত গ্রামবাসি।

খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ওই স্থান পরিদর্শন করেছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসিরা সটকে পড়ে।

৩ মে (রোববার) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন সকালে গোঁয়াখালীতে খরিদকৃত জমিতে গোলাম বারীর ছেলে জসিম উদ্দিন বসতবাড়ির নির্মাণ কাজ করছিলেন। ১০ শতক জমি ওই ব্যক্তি ক্রয় করেন। ঘরভিটার জন্য শ্রমিক দিয়ে মাটি ভরাট করছিলেন। এ সময় একই এলাকার মৃত সোলেমানের ছেলে জামাল উদ্দিন, তার ভাই মোহাম্মদ হোছন ওরফে মাছন, মৃত আলী হোসেনের ছেলে ছিদ্দিকসহ অজ্ঞাত ১০/১৫ জনের ভাড়াটে লোকজন জসিম উদ্দিনের জমিতে অনুপ্রবেশ করে। এ সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে শ্রমিকদের তাড়িয়ে দেয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আমির হোসেন বলেন, আমরা গিয়ে মাছন, জামাল উদ্দিনসহ দুবৃর্ত্তদের ধাওয়া দিয়েছি।

ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম বলেন, আমরা গ্রামবাসীরা এদের ধাওয়া দিয়েছি। মোহাম্মদ হোছন প্রকাশ মাছন প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে জায়গায় এসেছিল। জায়গার মালিক জসিম দেখামাত্র উত্তেজিত হন। আমরা খুবই চিন্তিত ছিলাম। কেননা যে কোন মুহুর্তে বড় ধরণের অঘটন হয়ে যেতো।

ইউপি সদস্য সাজ্জাদ জানান, অস্ত্র দেখতে পেয়ে মানুষ ক্ষেপে গিয়েছে। এ ধরণের আচরণ খুবই জঘন্যতম।

প্রত্যক্ষদর্শী নুর উদ্দিন, পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য আলমগীর বলেন, জসিমের মাটি কাটা বন্ধ করতে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসেছিল। আমরা ধাওয়া না দিলে বড় ধরণের সংঘাত হতো।

মিজানুর রহমান, ফুরুক আহমদ, তারেক, কাইয়ুমসহ আরো অনেকে জানান, খুবই ভয়ংকর আচরণ ছিল। মানুষ রাস্তায় এসে এদের ধাওয়া দিয়েছে।

জায়গার মালিক পেকুয়া বাজারের ফাহিম ইলেকট্রনিক্সের স্বত্তাধিকারী জসিম উদ্দিন বলেন, জায়গা আমি কিনে নিয়ে বসতবাড়ি করতে মাটি কাটছিলাম। মাছন জামাল উদ্দিন, ছিদ্দিকসহ কয়েকজন অসাধু ব্যক্তি আমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তারা গত কয়েকদিন আগে থেকে আমাকে চাঁদার জন্য বারবার বিরক্ত করছিল। আমি স্থানীয়, তাছাড়া মালিকের কাছ থেকে জায়গাটি আমি কিনে নিয়েছি। কেন এদের চাঁদা দেব! টাকা না পেয়ে তারা অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে কাজে বাধা দিয়েছে।

তিনি বলেন, মেম্বার সাজ্জাদসহ গ্রামবাসীরা এগিয়ে না আসলে নিশ্চিত ওরা যে অস্ত্র এনেছিল সেটি দিয়ে স্যুট দিতো।

জেয়াসমিন, সাজেদা বেগম, নিলু আক্তারসহ প্রত্যক্ষদর্শী আরও একাধিক নারী বলেন, দিনদুপুরে এমন ঘটনা দেখে আমরা হতবাক হয়েছি। মানুষ জড়ো না হলে নিশ্চিত খুন খারাবী হতো।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল আজম বলেন, আমি পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তবে অস্ত্রের বিষয়টি আমাকে কেউ অবহিত করেনি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!