রামু ইউএনও’র স্ট্যাটাস, ত্রাণ বন্টনে জনমনে প্রশ্ন!

রামু ইউএনও স্ট্যাটাস, ত্রাণ বন্টনে জনমনে প্রশ্ন!

মুহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক, রামু
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

করোনাভাইরাস জনিত দূর্যোগে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায়, দুস্থ ও শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাল ও নগদ টাকা বরাদ্দ দিলেও কক্সবাজার জেলা সদরের কাছের উপজেলা রামুতে সেই বরাদ্দ সঠিক ভাবে বন্টন হচ্ছে কিনা, এই প্রশ্ন উঠেছে জনমনে।

এমন প্রশ্ন উঠায় রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমা গত ২ মে সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘দয়া করে ত্রাণের বরাদ্দ নিয়ে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। রামুবাসীর চাহিদা অনুযায়ি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ উপহার প্রদান করা হচ্ছে। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। আশা করি পাশে থাকবেন।’

উপজেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তার এই ধরণের স্ট্যাটাসে ত্রাণের বিলি-বন্টন নিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে। অনেকে ফেসবুকেও নানা প্রশ্ন তুলছেন।

ইউএনও প্রণয় চাকমার দেয়া ওই স্ট্যাটাসে অনেকেই কমেন্ট করে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। তাদের মধ্যে একজন ফয়সাল মাহমুদ জয়। তিনি লিখেন, ‘স্যার চাহিদা অনুযায়ী মানতে পারলাম না … রামুতে হত দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশী। তাই চাহিদা অনুসারে বেশী পাওয়া দরকার।’

এই কমেন্টের জবাব দিয়েছে ইউএনও রামু। তিনি লিখেন, ‘আমার কথা হচ্ছে যে প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বলা আছে যে, যারা হতদরিদ্র তারা যাতে একটুও বাদ না পড়ে। আপনার পরিচিত হতদরিদ্র থাকলে তাদের তালিকা দেন। আমরা ব্যবস্থা নিবো এবং এ পর্যন্ত যাদেরকেই আমরা পেয়েছি সাথে সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ উপহার পৌছিয়ে দিয়েছি। উপজেলা প্রশাসন, রামু সবসময় মাঠেই আছে।’

নবী আলম নকিব নামের একজন কমেন্ট করেন, ‘স্যার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ,,, কিন্তু স্যার এলাকার মাঝে ত্রাণ না পেয়ে জনগণ আওয়ামীলীগ সরকার ও নেতাদেরকে নিয়ে অনেক বাজে বাজে কথা বলে,, আপনি একটু সু দৃষ্টিতে দেখেন,,,,’।

এই কমেন্টেরও জবাব দিয়েছেন ইউএনও প্রণয় চাকমা। তিনি লিখেন, ‘চেয়ারম্যানকে তালিকা জমা দেন। যদি না দিতে পারি তখন বলবেন যে দিইনি।’

এই স্ট্যাটাসে ইউএনও অনেক কমেন্টেরই জবাব দিয়েছেন।

তবে গত মার্চ থেকে মে পর্যন্ত চলমান এই দীর্ঘ সময়ের লকডাউনে অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। গত ২৩ মার্চ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জরুরি ব্রিফিং করে এ সকল মানুষদের খোঁজখবর নিচ্ছেন। সেই আলোকে নির্দেশনাও দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিভাগটি সার্বক্ষনিক খোলা রয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ওয়ার্ড পর্যায়েও পুলিশরাও কাজ করে যাচ্ছেন।

আর এদিকে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রণয় চাকমাও প্রতিনিয়ত কাজ করে চলেছেন। গত শনিবারও (২ মে) তিনি সারাদিন কর্মব্যস্ত সময় পার করেন। এমনকি রাতেও তিনি লকডাউন করা বাড়ি, কর্মহীন ও হতদরিদ্রদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

তবে তাঁর সাথে উপজেলা প্রশাসনের অধীন পদস্থ কর্মকর্তাকে কখনও দেখা যায় না। এ নিয়েও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে। তারা কী আদৌ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অসহযোগিতা করছেন, নাকি ইউএনওর কোন কর্মকান্ডে তারা ক্ষুব্ধ এই প্রশ্নও উঠেছে।

এ বিষয়ে সরাসরি কেউ মুখ না খুললেও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা এ জন্য ইউএনও প্রণয় চাকমার দাপ্তরিক কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বাইরের লোকদের সাথে দহরম মহরমকে দায়ী করছেন।

তবে এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!