মায়ের ভালোবাসায় পরাজিত হলো ‘করোনা’

মায়ের ভালোবাসায় পরাজিত হলো ‘করোনা’

মমতাময়ী মায়ের ভালবাসার কাছে পরাজিত হলো ‘করোনা’। টানা ১১ দিন কোভিড-১৯’র সাথে যুদ্ধ করে ১০ মাসের শিশু আবিরকে সুস্থ করে চন্দনাইশের বাড়ি ফিরলেন মা রুনা আক্তার।

শনিবার চট্টগ্রামের জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. জামাল খবরটি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, পরপর দু’বার নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ হয় আবির। সর্বশেষ গত ২৪ এপ্রিল দ্বিতীয়বার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ২৯ এপ্রিল মা রুনার আক্তারের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়, ১ এপ্রিল রাতে প্রকাশিত রিপোর্টে মা ও সন্তানের করোনা নেগেটিভ হওয়ায় শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। ওখান থেকে মায়ের কোলে চড়েই বাড়ি ফিরে আবির।

গত ১৭ এপ্রিল শিশু আবিরের জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে দ্বিতীয় দফা চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ২২ এপ্রিল নমুনা রিপোর্টে আবিরের করোনা পজিটিভ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নেয়া হয়।

এসময় তার মমতাময়ী মা নিজের জীবন বিপন্ন জেনেও সন্তানের সাথে আইসোলেশনে রয়ে যায়।

এদিকে শিশু আবিরের করোনা পজিটিভ হলে চন্দনইশে বেশ কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়। জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আবিরের চিকিৎসার পর দু’বার নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তাতে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। পরে মায়ের নমুনাতে করোনা নেগেটিভ আসে।

চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহিন হোসাইন চৌধুরী বলেন, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আবিরকে নিউমোনিয়াজনিত রোগে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১২ এপ্রিল বাড়ি ফিরে গেলে আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে আবির। ১৪ এপ্রিল চন্দনাইশ হাসপাতাল এবং সেখান থেকে ১৫ এপ্রিল পটিয়া হাসপাতালে নেয়া হয়। পরবর্তিতে দ্বিতীয় দফা ১৭ এপ্রিল চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

আবিরের মায়ের সাথে শনিবার বিকালে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে রুনা আক্তার (২৫) বলেন, দুই মেয়ের পরে প্রথম পুত্র সন্তান, তাই সন্তানের টানে মৃত্যুতে পরওয়া না করে সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের আইসোলেশনে যুদ্ধ শুরু করি। আল্লাহ্ আমাদের সেই যুদ্ধে জয়ী করেছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!