মার্কেট-শপিংমল খুলতে চান তারা

মার্কেট-শপিংমল খুলতে চান তারা

ব্যবসার স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে মার্কেট ও শপিংমলগুলো খুলে দেয়ার দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও সীমিতকারে খুলে দেয়া হয়েছে পোশাক তৈরি কারখানা। রপ্তানি শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি মার্কেট ও শপিংমলগুলোতে যারা মূলধন বিনিয়োগ করেছেন তাদের কথাও বিবেচনা করতে হবে। কারণ এসব মাঝারি উদ্যোক্তারা সরকারের প্রণোদনা থেকেও কোনো অর্থ পাবে না।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যে ব্যবসায়ী ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে নিতেও দীর্ঘ সময় লাগবে। তাই শিগগির মার্কেটগুলো খুলে দেয়ার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঘোষণা করা হয় সাধারণ ছুটি। গত ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই ছুটির মেয়াদ পাঁচ দফা বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ ৫ মে পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। ফের ১৬ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়নোর সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ছুটিতে অন্যদের মতো বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও তারা ধারদেনা করে পণ্য কিনেছেন। মার্কেট বন্ধ থাকায় এখন তা তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ ধারের টাকা চাচ্ছে, দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের চাপ সব মিলিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। তাই দোকানপাট খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য সরকারের কাছে চিঠিও দিয়েছে দোকান মালিকদের সংগঠন।

মিরপুর-১ নম্বর এলাকার পোশাক ব্যবসায়ী দীন ইসলাম বলেন, ‘দেশে করোনা আসার আগেই আমরা মালামাল স্টক করছি। এখন এই মালামাল কী করবো? অনেক টাকা ধার করেছি, এখন সবাই টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। খুব বিপদে আছি।‘

নিউমার্কেটের পাইকারি পোশাক বিক্রেতা শুভ্র মাহমুদ জানান, জমানো টাকা, ধারদেনা করে রমজানের জন্য কাপড় কিনে রেখেছেন। এখন হাতে কোনো টাকা নেই, আয় নেই। দোকান বন্ধ থাকায় গত মাসের বাসা ভাড়া পর্যন্ত দিতে পারেননি। তাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সীমিত আকারে হলেও মার্কেট খোলার দাবি জানান তিনি।

শুভ্র বলেন, ‘গত ২৪ মার্চ থেকে মার্কেট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ। এভাবে চলতে থাকলে না খেয়ে মরতে হবে। মার্কেট কবে খুলবে তার তো কোন নির্দিষ্ট তারিখ এখনো জানায়নি। যারা বড় ব্যবসায়ী, তারা তো ঋণ নিয়ে তাদের ক্ষতিটা পুষিয়ে নেবেন, আমরা যারা ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসা করি তাদের এই ক্ষতি পোষাতে একবছর লেগে যাবে।’

মার্কেট খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিউমার্কেট দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো ব্যবসায়ীদের খবর কেউ রাখে না। দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে। মালিকের দোকান ভাড়া, কর্মচারীর বেতন দিয়ে সামান্য টাকা থাকে। যা দিয়ে সংসার চলে। আয় বন্ধ, এখন সবাই বিপদে আছেন। ঈদকে সামনে রেখে জুতা, পোশাক অনেকে আগেভাগে কিনে রেখেছেন। কেউ ব্যাংক লোন করেছেন। কেউ উচ্চসুদে ঋণ নিয়েছেন। শবেবরাতের আগে থেকেই ব্যবসায়ীদের এই প্রস্তুতি থাকে সব সময়। এবার যে এমন হবে কেউ তো বুঝতে পারেনি। এখন তারা বড় বিপদে আছেন। দোকান ভাড়া হয়তো দুমাস পরে দিবেন। কিন্তু দিতে তো হবে। একসঙ্গে এত টাকাই বা তখন পাবে কোথায়?’

মার্কেট খুলে দেয়া দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান খোলার অনুমতি দিতে পারে। তবে তার জন্য নিয়ম করে দিতে পারে। ছয়জন কর্মীর জায়গায় দুইজন করে শিফটিং ডিউটিতে দোকানে থাকবে। কারো ক্ষেত্রে এক সপ্তাহে দুইজন, পরের সপ্তাহে বাকি দুজন, এভাবে সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়। কিছু একটা তো করতে হবে।’

আশরাফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সবাই তো দোকান মালিক নয়। বেশির ভাগই ভাড়ায় দোকান চালান। তারা তো খুব বিপদে পড়ে যাবে। তারা তো ত্রাণের জন্যও হাত পাততে পারবে না।

তাদের কিন্তু ভাড়া দিয়ে দোকানপাট চালিয়ে হাতে খুব একটা টাকা থাকে তা কিন্তু না। এরা তো খুব বিপদে পরে যাবে। এরা তো রিলিফও পাবে না। কারো কাছে টাকাও চাইতে পারবে না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আসলে দিন আনে দিন খায় ধরণের মানুষ। এরা খুবই বিপদে পরে যাবে। এদের দিকে সরকারের একটু তাকানো উচিত ছিল।

যেহেতু গার্মেন্টস খুলে দিয়েছে, এখন মার্কেট বন্ধ রাখার কোনো যুক্তি আমি দেখি না। এই সিস্টেমে, একটা লিমিটে এনে করা যেত। সময় বেঁধে দেয়া যেতো। এখন আমরা সবাই সতর্ক হয়ে গেছি। সবাই আমরা একটা দূরত্ব বজায় রেখে চলছি। এভাবে চলুক। মানুষগুলোতো খেয়ে পড়ে বাঁচতো।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!