কক্সবাজারে ৯৪ টেষ্টে একজনও পজিটিভ নেই, অনেকদিন পর স্বস্তি

কক্সবাজারে এবার ৯ বছরের শিশুর শরীরে ‘করোনা’, উখিয়া ও চকরিয়ায় ৩ জনের ‘পজিটিভ’

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বেশ কয়েকদিন পর আজ যেন একটু স্বস্তি মিলেছে। প্রতিদিন কোন না কোন রোগী করোনা পজিটিভ হওয়ায় কক্সবাজার জেলাবাসি ছিলেন আতংকিত। কিন্তু আজ শনিবার (২ মে) ৯৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর করোনা টেষ্ট করে সবারই রিপোর্ট মিলেছে ‘নেগেটিভ’।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে এই পরীক্ষা হয়। তবে ৯৪ জনের মধ্যে বান্দরবান জেলার ছিল প্রায় ৪০টির মতো।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ও রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অনুপম বড়–য়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার শনাক্ত হওয়া দুইজনসহ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবের টেষ্টে এখন পর্যন্ত (২ মে) ৪৫ জন করোনা রোগীর টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এদের মধ্যে একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আজ শনিবার আরও তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

এছাড়াও কক্সবাজারের প্রথম রোগী মুসলিমা খাতুনও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। তবে তার করোনা টেষ্ট কক্সবাজার ল্যাবে হয়নি। তার টেষ্ট ঢাকাস্থ আইইডিসিআর ল্যাবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) করোনা আক্রান্ত হওয়া একজন বয়োবৃদ্ধ মহিলা ছেনোয়ারা বেগম কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৮টায় মারা গেছেন। তিনি হলেন কক্সবাজার জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া প্রথম ও একমাত্র রোগী।

সুত্র মতে, কক্সবাজার জেলায় এতদিন জেলার বাইরে থেকে আসা মানুষের মাঝে করোনা সংক্রমিত হয়েছিল। এখন সেই ধারাবাহিকতা পাল্টে গেছে। এখন আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা পরিবারের সদস্যদের মাঝে সংক্রমিত হচ্ছে। এই ক’দিনে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে এক হাজার ৪২১ জন সন্দেহভাজন রোগীর করোনা টেষ্ট করা হয়েছে। যাদের মধ্যে নেগেটিভ এসেছে এক হাজার ৩৭৬ জন।

অন্যদিকে কক্সবাজারের প্রথম করোনা রোগীর টেষ্ট হয়েছিল ঢাকার আইইডিসিআর ল্যাবে। ওই রোগীসহ কক্সবাজার জেলায় ৪০ জন এবং বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে ৫ জন ও বান্দরবান সদরে একজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে কক্সবাজারে চকরিয়ার খুটাখালী এলাকার প্রথম রোগী ও নাইক্ষ্যংছড়ির প্রথম রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ছেনোয়ারা বেগম (৫৮) করোনা শনাক্ত হওয়ার ৬ ঘন্টার মধ্যে মারা যান।

সুত্র মতে, এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই জেলার বাইরে থেকে এসে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই এসেছেন ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ থেকে আসা। এদের মধ্যে দুইজন মাছ ব্যবসায়ী, একজন আম ব্যবসায়ী, দুইজন তাবলীগফেরত এবং একজন গার্মেন্ট কর্মীও রয়েছেন। তবে টেকনাফের এক নারী চিকিৎসক উপজেলা হাসপাতালে রোগীর সেবা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এখন করোনা আক্রান্ত রোগীদের মাধ্যমে সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া জানান, গত শুক্রবার (১ মে) কক্সবাজার সদর হাসপাতাল, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরসহ জেলার উপজেলা ও পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও সদর উপজেলার ফ্ল্যু সেন্টার থেকে অনেক সন্দেহভাজন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এগুলো মধ্যে ৯৫ জনের টেস্ট হয়েছে। অবশিষ্ট নমুনা আগামিকাল টেষ্ট করা হবে।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেন, কক্সবাজার ল্যাবে প্রতিদিন ৯৬ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও এখন উপজেলা পর্যায় থেকে অনেক বেশি নমুনা পাওয়া যাচ্ছে। গত শুক্রবার (১ মে) ৭৮ জনের নমুনা টেস্ট হয়েছে। এছাড়াও গত (৩০ এপ্রিল) সর্বাধিক ১২৩ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ইতোপূর্বে গত ২৭ এপ্রিল একদিনে সর্বাধিক ১২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

তিনি জানান, শনিবারের ৯৪টি নমুনারই পরীক্ষা শেষে প্রতিবেদন ঢাকায় আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। ওখান থেকেই আনুষ্টানিক ভাবে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবটিকে ঢাকাস্থ রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্টান (আইইডিসিআর) করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করেছে। গত পহেলা এপ্রিল থেকে ল্যাবটি চালু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, প্রথম ৬ দিনে ২৪ জন, ৭ এপ্রিল ২৫, ৮ এপ্রিল ২৪ জন, ৯ এপ্রিল ২৭ জন, ১০ এপ্রিল ৩৭ জন, ১১ এপ্রিল ৯ জন, ১২ এপ্রিল ৩২ জন, ১৩ এপ্রিল ২৪ জন, ১৪ এপ্রিল ৩১ জন, ১৫ এপ্রিল ১৭ জন, ১৬ এপ্রিল ৪১ জন, ১৭ এপ্রিল ৩৯ জন, ১৮ এপ্রিল ১৩ জন, ১৯ এপ্রিল ৬৩ জন, ২০ এপ্রিল ৫১ জন, ২১ এপ্রিল ৪০ জন, ২২ এপ্রিল ৬৪ জন, ২৩ এপ্রিল ৫৩ জন, ২৪ জন ১০১ জন, ২৫ এপ্রিল ১৮ জন, ২৬ এপ্রিল ১০০ জন, ২৭ এপ্রিল ১২২ জন, ২৮ এপ্রিল ৭৬, ২৯ এপ্রিল ৯৫ জন, ৩০ এপ্রিল ১২৩ জন, পহেলা মে ৭৮ জন, ২ মে ৯৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর পরীক্ষা করা হয়েছে এই ল্যাবে। সব মিলিয়ে পরীক্ষা হওয়া রোগী সংখ্যা এখন এক হাজার ৪২১ জন। এদের মধ্যে ৪৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্থিত্ব পাওয়া গেছে।

জেলার প্রথম করোনা রোগীর টেষ্ট হয়েছিল ঢাকাস্থ আইইডিসিআর ল্যাবে। এই রোগীসহ জেলায় ৪০ জন ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ৫ জন ও বান্দরবান সদরে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। কক্সবাজারের প্রথম রোগী ও নাইক্ষ্যংছড়ির প্রথম রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের একজন রোগী মারা গেছেন। ছেনোয়ারা নামের বয়োবৃদ্ধা ওই মহিলা কক্সবাজার জেলায় মারা যাওয়া প্রথম করোনা রোগী।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!