ফেসবুক কর্ণার

খুরুশকুলে করোনা, যা বলছেন ডা. শাহীন আবদুর রহমান

আনছার হোসেন
সম্পাদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

ডা. শাহীন মোহাম্মদ আবদুর রহমান। পেশায় তিনি চিকিৎসক হলেও তাঁর জন্মও কোন না কোন গ্রামে। আর তাঁর সেই গ্রামটি হলো ‘খুরুস্কুল’। এখানেই তাঁর জন্ম আর বেড়ে উঠা। যদিও তিনি ও তাঁর পরিবার এখন সেখানে থাকেন না। চট্টগ্রাম শহরে ভাই-বোন আর অন্যরা স্থায়ী নিবাস গড়লেও তিনি চাকুরির সুবাদে কক্সবাজারে আছেন।

খুরুস্কুলকে গ্রাম বলাটা ঠিক হয়নি। এটি একটি ইউনিয়ন। অনেকগুলো গ্রাম নিয়ে একটি ওয়ার্ড আর ৯টি ওয়ার্ড নিয়েই খুরুস্কুল ইউনিয়।

ডা. শাহীন আবদুর রহমান এখানে না থাকলেও নাড়ির টান ঠিকই আছে! টান আছে বলেই খুরুস্কুল ইউনিয়নের দুই বাসিন্দা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় তিনিও বিচলিত হয়ে উঠেছেন। খুরুস্কুলবাসিকে করোনা থেকে বাঁচাতে তাঁর মন আকুলি-বিকুলি করছে। তাই হয়তো ফেসবুকে নাতিদীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১ মে) দেয়া ওই স্ট্যাটাসটি কক্সবাজার ভিশন ডটকম পাঠকদের জন্য তুলে ধরলাম।

খুরুশকুলে করোনা
শাহীন আবদুর রহমান
১ মে, ২০২০. কক্সবাজার।

শেষ পর্যন্ত খুরুশকুলেও করোনার আগমন ঘটলো। আজ পর্যন্ত খুরুশকুলে দুইজন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। নিঃসন্দেহে আমার জন্মভূমির জন্য এটা একটা দুঃসংবাদ। শেষ রক্ষা আর হলো না।

এই দুইজন রোগীর ক্রিটিক্যাল এনালাইসিস করলে কয়েকটি বিষয় পরিলক্ষিত হয়। দুইজনই ঢাকা ফেরত। দুইজনই বয়সে তরুণ। এবং দুইজনই শারীরিক ভাবে সুস্থ আছেন। তাদের নিকটতম কেউ এখনো আক্রান্ত হয়নি।

এখান থেকে আমরা আপাতদৃষ্টিতে ধরে নিতে পারি খুরুশকুলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। এটাকে সত্যি ধরে নিয়ে আমরা জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি (যদিও এটা আমার সম্পূর্ণ নিজস্ব মতামত)

? খুরুশকুলে ওয়ার্ডভিত্তিক একটি শক্তিশালী করোনা প্রতিরোধ বা তদারকি কমিটি গঠন করা।

? খুরুশকুলে গত ১৪ দিনে যারা কক্সবাজারের বাইরে ভ্রমণ করেছেন ওয়ার্ডভিত্তিক তালিকা করে তাদের হিস্ট্রি ভালভাবে নেয়া।

? প্রাথমিকভাবে যাদের শারিরিক সমস্যা হচ্ছে তাদের টেস্ট করা। পর্যায়ক্রমে সবাইকে টেস্টিংয়ের আওতায় নিয়ে আসা।

? যারা টেস্ট পজিটিভ হবে তাদের আইসোলেশান নিশ্চিত করা।

? টেস্ট পজিটিভদের কন্টাক্ট ট্রেসিং বা সংস্পর্শে আসার ইতিহাস নিয়ে তাদের সবার ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা।

? আগামী ১ মাস কেউ দূরে ভ্রমণ না করা বা বাইরে থেকে ফেরত না আসা।

? খুরুশকুলের বাজার গুলোকে আগামী একমাস সংকুচিত করা বা সপ্তাহে ১ বা ২ দিন চালু রাখা বা বড় কোন মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে সরিয়ে নেয়া, যেখানে ১০-১৫ ফুট দূরত্বে বিক্রেতারা বসবেন এবং ক্রেতারা কমপক্ষে ৬ ফুট দুরত্ব বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন।

? বাজার বা দোকান বা রাস্তায় কেউ মাস্ক ছাড়া যেতে পারবেন না। সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। প্রয়োজনে শাস্তি আরোপ করা যেতে পারে।

? মসজিদের মাইকের মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক ঘোষণা প্রদান। প্রতিরোধ কমিটি এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে।

? করোনা প্রতিরোধ কমিটি সংশ্লিষ্ট এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগী বা তার পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এবং যে কোন ধরণের অপমানজনক ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ প্রতিহত করতে সচেষ্ট থাকবেন।

প্রিয় এলাকাবাসী, আর মাত্র একমাস। তারপর করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে, ইনশা আল্লাহ। সারাবিশ্বের ডিজিজ ট্রেন্ড এ আমাদের তাই মনে হচ্ছে। আসুন, সবাই আমাদের এই প্রাণের জনপদকে করোনার হিংস্র থাবা থেকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হই।

মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন।

ডা. শাহীন আবদুর রহমান, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ও বিশেষায়িত জরুরী বিভাগের প্রধান, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!