গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দিলেই কমবে চাল চুরি

গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দিলেই কমবে চাল চুরি

#আইনের প্রয়োগ করলে কালোবাজারি ও চুরি কমবে
#রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় মামলাগুলো ঝুলে যায়
#রাজনৈতিক কারণে জামিন পায় অপরাধীরা
#মোবাইল কোর্টে লঘুদণ্ড, সাজা খেটে সাহস পেয়ে যায়

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস দুর্যোগেও থেমে নেই সরকারি চাল চুরি ও কালোবাজারি। থেমে নেই মজুতদারি ও কালোবাজার কারবারির অপতৎপরতাও। ত্রাণের চাল মজুত করে বিক্রি করা হচ্ছে কালোবাজারে। অনেক স্থানে দুস্থরা সরকারি চাল না পেয়ে করছে আহাজারি। সড়ক অবরোধ ও বিক্ষেভ মিছিলও হচ্ছে। দেশের এমন সংকটময় মুহূর্তে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল পাচ্ছেন না প্রকৃত হতদরিদ্ররা।

যদি এটা করা যায় যে যারা অপরাধী এবং সাজাপ্রাপ্ত তারা কখনো জনপ্রতিনিধি হতে পারবে না। খালাস পাওয়ার পরও কমপক্ষে ১০ বছর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে না সেক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজরা কিছুটা হলেও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকবে

চাল চুরি ও কালোবাজারি করছেন অনেক অসাধু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। চাল চুরি ও কালোবাজারি ঠেকাতে ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে বিশেষ ক্ষমতা আইন। আইনে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই মৃত্যুদণ্ড গুলি করে বাস্তবায়ন করারও বিধান রয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও অনেকেই তোয়াক্কা করছে না চুরি ও কালোবাজারি করতে। কারণ হিসেবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই জানে না মজুতদারি অথবা কালোবাজারি ঠেকাতে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। আবার অনেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে জামিন নিয়ে মামলার কার্যক্রম ঝুলিয়ে দিচ্ছেন। আবার কোনো ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চাল চোরদের সাময়িক শাস্তি দেওয়া হলে মুক্তি পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। মজুতদারি অথবা কালোবাজারের কারবারের অপরাধে আইনের বাস্তবায়ন হলে এ ধরনের পুনরাবৃত্তি হতো না বলে মনে করেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় মামলাগুলো এক সময় ঝুলে যায়
এ বিষয় জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার জাগো নিউজকে বলেন, প্রথমত এ ধরনের মামলায় দৃষ্টান্তমূলক কোনো সাজার নজির নেই। মামলা হয়, কিন্তু এক সময় তা মানুষ ভুলে যায়। রাজনৈতিক পরিচয় থাকায় মামলাগুলো এক সময় ঝুলে যায়। সরকার যদি এ ধরনের অপরাধের মামলার বিচার দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি করার উদ্যোগ নেন, দ্রুত সময়ে অপরাধীদের সাজার ব্যবস্থা করা হয়, তবে অপরাধ অনেকাংশে কমে আসতো। যত দিন না অপরাধীরা অপরাধ করেও বার বার পার পাওয়ার পথ বন্ধ না হবে, দুনিয়ার কোনো আইন দিয়েই অপরাধ ঠেকানো যাবে না।

আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, সরকারি চাল চুরি ও কালোবাজারিদের জন্য ১৯৭৪ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। আইনে অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই আইনে সাজা মৃত্যুদণ্ড গুলি করে কার্যকরের বিধানও রয়েছে। এই আইন সম্পর্কে চাল চোররা অবগত নয়। কয়েকজন অপরাধীকে যদি গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো তাহলে চাল চুরি বা কালোবাজারি করতো না। এছাড়া রাজনৈতিক ছায়ায় অপরাধীরা জামিন নিয়ে নেন। তাই তারা পরে আবারও চুরি করতে সাহস পান।

আইনে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন থাকা সত্ত্বেও দেশে অনেক জাগায় দেখা গেছে চাল চুরি বা মজুত করার অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে লঘু দণ্ড দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক আহম্মেদ বলেন, চাল চুরি এটা মারাত্মক অপরাধ। তাই বিশেষ ক্ষমতা আইনে বিচার করা উচিত। লঘুদণ্ডের কারণে আবার একই কাজ করছেন অপরাধীরা।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জি এম মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের অতি উৎসাহী কিছু লোক এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। আমাদের মাঝে দেশাত্মবোধ ও নৈতিকতার অভাব থাকায় দেশের এ ক্রান্তিলগ্নে জনপ্রতিনিধিরা দেশের সেবার চেয়ে নিজের প্রয়োজন বেশি মনে করায় এ ধরনের অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না থাকায় আইন ভাঙাই যেন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। আইন বাস্তবায়ন জরুরি। অনেককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হচ্ছে।

এতে অপরাধীদের লঘুদণ্ড হচ্ছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে মিজানুর রহমান বলেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা একটি তাৎক্ষণিক সমাধান এবং একটি লঘু সাজা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, নিয়মিত আইনে দায়ের করা মামলা বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা থাকে। সেখানে পাবলিক সাক্ষীরা জনপ্রনিধিদের পরিচিত থাকায় ভয়ে বা চোখের লজ্জার খাতিরে সত্য গোপন করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে বাধ্য হয়। এতে প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। যদি এটা করা যায় যে যারা অপরাধী এবং সাজাপ্রাপ্ত তারা কখনো জনপ্রতিনিধি হতে পারবে না। খালাস পাওয়ার পরও কমপক্ষে ১০ বছর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে না সেক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজরা কিছুটা হলেও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকবে। বর্তমানে আমাদের দেশে রাজনীতি একটা ব্যবসা! দেশের সেবা করা তাদের উদ্দেশ্য নয়।

মজুতদারি অথবা কালোবাজারের কারবারের অপরাধের বিষয়ে আইনে যা আছে

অপরাধ প্রমাণ হলে মৃত্যুদণ্ড
১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘মজুতদারি অথবা কালোবাজারের কারবারের অপরাধে কেউ দোষী সাব্যস্ত হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা ১৪ বছর পর্যন্ত যে কোনো মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন। এবং তাহাকে জরিমানাও করা যাইবে।’

অপরাধসমূহ আমলযোগ্য ও জামিনের অযোগ্য
বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন অনুসারে বিচারযোগ্য অপর কোনো অপরাধে দোষী বা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে, যদি সে হাজতে আটক থাকে, তবে তাহাকে জামিনে বা তাহার নিজের মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া যাইবে না।’

ফাঁসি অথবা গুলি করে দণ্ড কার্যকর
বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৩৪ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি এই আইন অনুসারে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হইলে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মোতাবেক তাহাকে ফাঁসি দিয়া অথবা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে গুলি করিয়া দণ্ড কার্যকর করা হইবে।’

তবে আইনের ৩০ নম্বর ধারায় বলা আছে, হাইকোর্ট বিভাগে অনুমোদিত না হওয়া পর্যন্ত দণ্ডাদেশ কার্যকর হবে না।
সুত্রঃ জাগোনিউজ।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!