উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি

নাইক্ষ্যংছড়িতে জবরদস্তি করেই আইসোলেশনে আনতে হল ৩ করোনা রোগীকে!

নাইক্ষ্যংছড়িতে জবরদস্তি করেই আইসোলেশনে আনতে হল ৩ করোনা রোগীকে!

নাইক্ষ্যংছড়ির কম্বনিয়া গ্রামে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে হাতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে রোগীদের ঘর থেকে বাইরে আসার অনুরোধ করছেন ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আবছার।

মো. আবুল বাশার নয়ন, বান্দরবান
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

‘এই যেনো মশা মারতে কামান ব্যবহার’র মতো ঘটনা। করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার স্বার্থে নিজ থেকেই হাসপাতালে আসবেন এটাই ছিল স্বাভাবিক, কিন্তু সেই রোগীদের জনপ্রতিনিধি ও স্বাস্থ্য বিভাগকে অনেকটা জবরদস্তি করেই আইসোলেশনে আনতে হলো।

শুক্রবার (১ মে) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার কম্বনিয়া গ্রামের ঘটনা এটি।

এই পর্যন্ত গ্রামটিতে শিশু, নারী-পুরুষসহ মোট চারজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। তারা সবাই সম্পর্কে আত্মীয়স্বজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার কম্বনিয়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেনের স্ত্রী আলম আরা (৪০), শিশু পুত্র (৬) ও ১৮ বছরের মেয়ের শরীরে করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। নিজ পরিবার, গ্রামের নিরাপত্তা ও আক্রান্তদের চিকিৎসার স্বার্থে পরের দিন এই তিনজনকে আইসোলেশনে আনতে গেলে নানা জটিলতা তৈরি করেন গৃহকর্তা জামাল হোসেন।

এই ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আলী হোসেন জানান, করোনা শনাক্ত হওয়া তিনজনকে শুক্রবার চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য আইসোলেশনে নিতে চাইলে হাসপাতালে যেতে তারা আপত্তি জানান। এসময় নানা হুমকি ধমকি দেয়া হয় স্বাস্থ্যকর্মীদের।

স্থানীয়রা জানান, তিন করোনা আক্রান্তকে হাসপাতালে নিতে বাধা সৃষ্টি করার পাশাপাশি পুরো গ্রামের মানুষকে সিনক্রিয়েট করে উত্তেজনা তৈরি করেন জামাল হোসেন। যদিওবা পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পর অনেকটা জবরদস্তি করেই আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ আরো সক্রিয় ভুমিকা পালন করলে মানুষ জমায়েত হওয়ার সুযোগ পেতো না।

এই ব্যাপারে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আবছার ইমন বলেন, করোনা রোগীকে আইসোলেশনে আনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা পরিস্থিতি হয় কম্বনিয়ায়। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি।

এই প্রসঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, প্রথমে তারা হাসপাতালে আসতে চায়নি। পরে সদর ইউপি চেয়ারম্যান গিয়ে তাদের আইসোলেশনে নিয়ে এসেছেন।

এদিকে তিন রোগীকে হাসপাতালে আনার পর সেনাবাহিনীর একটি টিমসহ কম্বনিয়া গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রাম পৃথকভাবে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচি, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন, সদর ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আবছার।

এসময় গ্রামের লোকজনকে পরিবার, সমাজ ও দেশকে করোনা মহামারী থেকে রক্ষার জন্য সামাজিক দূরত্ব ও ঘরে থাকার আহ্বান জানান।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!