করোনায় যা ভাবছেন সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহজাহান

‘কোভিড ১৯’ চিকিৎসায় র‌্যাপিড টেষ্ট, ডা. শাহজাহান নাজিরের ভাবনা

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কক্সবাজারের একমাত্র সংক্রমণ রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির। তিনি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে চলা করোনাভাইরাস টেস্ট সংক্রান্ত মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করছেন।

নতুন প্রজন্মের এই চিকিসক কক্সবাজার জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে কী ভাবছেন সেটি তুলে ধরেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

ডা. শাহজাহান নাজির এ বিষয়ে শুক্রবার (১ মে) ভোরে ফেসবুকে নাতিদীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি স্ট্যাটাসটির শিরোনাম দিয়েছেন ‘করোনা যুদ্ধে ভাবনা’!

কক্সবাজার ভিশন ডটকম পাঠকদের জন্য সেই স্ট্যাটাসটি সংশোধিত আকারে তুলে ধরা হলো।

করোনা যুদ্ধে ভাবনা …

কক্সবাজারে মহেশখালী, কুতুবদিয়া ছাড়া বাকী সব উপজেলা এখন খুব ঝুঁকিপুর্ণ। কক্সবাজার শহরটা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

বাংলাদেশে ২৫০’র বেশী ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানি। প্রতিটি কোম্পানির একটি করে গাড়িও যদি কক্সবাজারে আসে কমপক্ষে ২৫০টি গাড়ির ড্রাইভার আসছেন। অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বা রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের গাড়ির কথা বাদই দিলাম। তারা দুইদিনের বেশী স্টে করলে অবশ্যই পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে, তাদের কোম্পানির নিজস্ব পরিবেশে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে।

যে কোন প্রকারেই হোক, আমাদের করোনা পরীক্ষার পরিমাণ ও ফলাফল প্রাপ্তির গতি আরো বাড়াতে হবে। সারাজেলার ইউনিয়ন পরিষদকে কাজে লাগিয়ে উপসর্গযুক্ত রোগী বা বহিরাগত যে কাউকে ব্যাপকভিত্তিক পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং শনাক্ত হওয়া রোগীদের পৃথক করে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

যে সব করোনার ক্লাষ্টার ক্রমবর্ধমান, সে সব এলাকায়, যেমন- রামুর কাউয়ারখোপ, খুরুস্কুল, কক্সবাজার শহর এলাকা দ্রুততম সময়ের মধ্যে যথাযথ লকডাউন বলবৎ করে সংক্রমণকে পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

লবণ বা অন্য কলকারখানা আরও এক মাস বন্ধ রাখা উচিৎ। সম্ভব না হলে কর্তৃপক্ষকে প্রত্যেক শ্রমিকের করোনা পরীক্ষা করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোয়ারনটাইন নীতিমালা অনুযায়ী কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

সব মার্কেট ও দোকানপাট আরো একমাস বন্ধ রাখা উচিৎ। অপারগতায়, কঠোর ভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মার্কেট কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।

স্কুল ও কলেজ সম্পূর্ণ করোনামুক্ত পরিবেশে খুলতে হবে।

স্যাম্পল কালেকশন প্রক্রিয়ায় একটি প্রতিবন্ধকতা হলো সোয়াবষ্টিক ও টেস্টটিউবের অপর্যাপ্ততা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ঢাকা থেকে আনইন্টারেপ্টেড এগুলোর সরবরাহ নিশ্চিত করা।

চিকিৎসকদের জন্য উন্নত চিকিৎসা, নিরাপদ কোয়ারেনটাইনস্থল, উন্নতমানের আহার, যাতায়াত ব্যবস্থা ও ঝুঁকি ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কর্মস্থলে অসন্তোষ বিরাজ করবে, যা কখনো কোভিড হসপিটালে কাম্য হতে পারে না।

গবেষনায় দেখা গেছে, জুতার তলার মাধ্যমে এই ভাইরাসটি হাসপাতাল থেকে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই ক্লোরিন পানি দিয়ে জুতার তলা ধুয়ে বাসায় প্রবেশ করতে হবে। সারাদিন হেক্সিসল ব্যবহার না করে ঘনঘন সাবান দিয়ে হাতধোয়া বেশী কার্যকর। তাই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে।

সর্বাবস্থায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে ও জনসমাগমস্থল পরিহার করতে হবে।

কোন অবস্থাতেই করোনা যভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা উচিত নয়। শতকরা ৯৫ ভাগ রোগী এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। প্রয়োজন হলে সরকারের স্বাস্থ্যসেবা গ্ৰহণ করতে হবে।

বর্তমানে সরকার তার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ১০০ ভাগ করোনা নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত করেছে। সম্পদের সীমাবদ্ধতা আছে, তা সকলের মাথায় রেখে অসহিষ্ণুতা পরিহার করতে হবে।

বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ সম্পূর্ণভাবে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ব্যর্থ হয়েছে। আবার অনেক মধ্যম আয়ের দেশ সফল হয়েছে। সফলতা বা বিফলতা নির্ভর করছে সরকার ও জনগণের সদিচ্ছার উপর।

ভাইরাসের বিস্তার প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলে আমরা কেউই রক্ষা পাব না, এই কথাটা চিন্তা করে বিভেদ বৈষম্য ও ইগো ত্যাগ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দূর্যোগ মোকাবেলায় হাতে হাত রেখে কাজ করে যেতে হবে।

আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

ডাঃ মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির
১/৫/২০২০

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!