লবণবাহী ট্রাক ও লবণমিল বন্ধে রাস্তায় ইসলামপুরবাসি, মানববন্ধন-বিক্ষোভ

লবণবাহী ট্রাক ও লবণমিল বন্ধে রাস্তায় ইসলামপুরবাসি, মানববন্ধন-বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

করোনা ভাইরাসজনিত লকডাউনে কক্সবাজার জেলার সবকিছুই বন্ধ হয়ে আছে। শুধু বন্ধ নেই সদর উপজেলাধীন লবণ মিলগুলো। প্রতিনিয়ত শত শত শ্রমিক এই মিলগুলোতে লোড-আনলোডের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু কী তাই, রাজধানী ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত এলাকা নারায়নগঞ্জ থেকে ট্রাক নিয়ে চালক-শ্রমিকরা ঢুকে পড়ছেন ইসলামপুরে। যাতে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে করোনা সংক্রমণের আশংকা।

এলাকাবাসির মতে, এই অবস্থা এভাবে চলতে থাকলে করোনামুক্ত কক্সবাজার জেলায় যে কোন সময় ছড়িয়ে পড়তে পারে মরণঘাতি এই ভাইরাস। এলাকার অসহায় মানুষগুলো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বাঁচানোর কোন সুযোগ থাকবে না। মানুষ বাঁচলেই তো দেশ বাঁচবে। আর তাই সময় থাকতেই নিতে হবে ব্যবস্থা।

এমন দাবি তুলে রাস্তায় নেমেছেন ইসলামপুরের সর্বস্থরের মানুষ। নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে হাতে ফেস্টুন নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছেন রাস্তায়। তারা লবণ মিলগুলো বন্ধ চান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্তি চান।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল থেকে ইসলামপুরের নাপিতখালী বটতলী স্টেশনজুড়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধনে অংশ নেন তারা। তাদের সবার দাবি একটাই- ‘ট্রাক চাই না, বাঁচতে চাই।’

ফেস্টুনে লেখা ছিল, ‘আপাততঃ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের ট্রাক নয়, লবণমিল বন্ধ রাখলে ভাল হয়।’, ‘আমরা সবাই বাঁচতে চাই, ইসলামপুর লকডাউন চাই।’

তবে নাপিতখালীর বটতলীতে বিসিকের পক্ষ থেকে চালক, হেলপারদের জীবানুমুক্তকরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সাধারণ মানুষ এই জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়াতে আস্থা রাখতে নারাজ। তারা চান, এই মুহুর্তেই ইসলামের লবণমিল বন্ধ করে দেয়া হোক। আর কক্সবাজারের বাইরে থেকে আসা ট্রাক, চালক-হেলপারদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হোক।

শুক্রবারের ওই বিক্ষোভে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুশ শুক্কুর, বটতলী ট্রাক টার্মিনালের পরিচালক আনোয়ারুল আজম খোকন, চ্যানেল কক্সের সম্পাদক মনছুর আলম, ইসলামপুর ব্লাড ডোনার’স এন্ড জনকল্যাণ সোসাইটির সভাপতি নুরুল আজিম মিন্টু, সহ-সভাপতি ইউছুফ নবী, সিনিয়র সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হুসেন সাঈদী, সহ-সভাপতি নুরুল হুদা, ছাত্রলীগ নেতা ছৈয়দ মোহাম্মদ তামিম, শিক্ষক এস কে জাকের হোসেন, শামসুর রহমান শামীম, সোহেল, শফিউল আলম, তাফসীর প্রমূখ।

লবণবাহী ট্রাক ও লবণমিল বন্ধে রাস্তায় ইসলামপুরবাসি, মানববন্ধন-বিক্ষোভ

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে উপস্থিত হন বিসিক কক্সবাজারের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান।

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন বিসিক কক্সবাজারের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান। এসময় স্থানীয় চেয়ারম্যান আবুল কালামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দেশে যে পরিমাণ লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে তাতে আরো অন্তত এক বছর চলবে। কোন ঘাটতি হবে না। সংকট দেখিয়ে লবণ আমদানির সুযোগ নেই।

ডিজিএম বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কোন শিল্পকারখানা বন্ধ না রাখার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। তাই মিলগুলো খোলা রাখা হয়েছে। তারপরও বাস্তবতা আমরা বিবেচনা করব। উর্ধ্বতন মহলকে বিষয়টি অবগত করবো।

তিনিও মনে করেন, মানুষকে ঝুঁকিতে ফেলে কোন কাজ করা উচিৎ হবে না। সব কিছু বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এ সময় ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম, ইসলামপুর লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি শামসুল আলম আযাদ, সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম (দাদা), বিসিক শিল্প সহায়ক কেন্দ্রের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রিদওয়ানুর রশিদ, সহকারী নিয়ন্ত্রক মনজুর আলম, ইসলামপুরের ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

ওই সময় জানানো হয়, বতটলীতে নির্ধারিত স্থানে থাকবে বিসিকের একটি টিম। তারা চালক, হেলপারসহ পুরো গাড়িতে স্প্রে করবে। তারপর দেয়া হবে একটি টোকেন। যা একপ্রকার বৈধতার অনুমতিপত্র। টোকেন ও স্প্রে ছাড়া কোন গাড়ি লবণ পরিবহণে যেতে পারবে না।

ইতোপূর্বে ইউপি চেয়ারম্যান, লবণমিল মালিকদের সাথে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে বৈঠক করেন বিসিক কর্মকর্তারা। সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। যা জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতিবেদন আকারে অবগত করবে বিসিক।

এ ব্যাপারে ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, বিসিকের সিদ্ধান্ত হলো, সমগ্র দেশের স্বার্থে ইসলামপুরের লবণ মিল চলবে। এটাই সরকারের নির্দেশ।