করোনা সংকট: কক্সবাজার শহরে ২০ হাজার শ্রমিক আর্থিক সংকটে, চান খাদ্য সহায়তা

করোনা সংকট: কক্সবাজার শহরে ২০ হাজার শ্রমিক আর্থিক সংকটে, চান খাদ্য সহায়তা

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলা ‘অঘোষিত লকডাউনে’ পড়ে কক্সবাজার শহরের অন্তত ২০ হাজার শ্রমিক আর্থিকভাবে বেকায়দায় পড়েছেন। এদের মধ্যে চরম বেকায়দায় আছেন অন্তত ৫ হাজার শ্রমিক।

শ্রমিক নেতাদের দাবি, আবাসিক হোটেল, রেস্তোঁরাসহ সব ধরণের কর্মকান্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন পড়েছেন ওই শ্রমিকরা। আর কাজ না থাকায় ‘প্রতিদিনের আয় প্রতিদিন করা’ এই শ্রমিকরা চরম অর্থ সংকটে পড়েছেন। অথচ এই শ্রমিকরা চলমান ‘লকডাউনে’ কোথাও শ্রম দিয়ে মজুরি পাওয়ার সুযোগ না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন।

তারা মনে করেন, কক্সবাজারের রেজিষ্ট্রার্ড ১৯টি শ্রমিক সংগঠনের ২০ হাজার সদস্য বেকায়দায় পড়লেও চরম সংকটে পড়া অন্তত ৫ হাজার শ্রমিককে সরকারি ভাবে আর্থিক অথবা খাদ্য সহায়তা দেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

কক্সবাজার জেলা শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কার্যকরি সভাপতি গোলাম ফারুক খান কায়সার ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হকের মতে, ওই শ্রমিকরা সরকারি সহায়তা না পেলে তাদের পরিবার-পরিজন অনাহারে দিন কাটাতে হবে। অথচ কারো কাছে গিয়ে হাত পেতে চাইতেও পারবেন না তারা!

করোনা সংকট: কক্সবাজার শহরে ২০ হাজার শ্রমিক আর্থিক সংকটে, চান খাদ্য সহায়তা

জেলা শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল হক জানান, জেলার রেজিষ্ট্রার্ড ১৯টি শ্রমিক সংগঠন নিয়ে গড়া ফেডারেশনের অধিভূক্ত অন্তত ২০ হাজার সদস্য করোনার ‘লকডাউনে’ পড়ে কক্সবাজার শহরেই আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৫ হাজার শ্রমিক সরকারি সহায়তা না পেলে এই দুঃসময়ে প্রাত্যহিক জীবনযাপনে চরম সংকটে পড়বেন।

তিনি জানান, তাদের ফেডারেশনে আবাসিক হোটেল কর্মচারি, নির্মাণ শ্রমিক, লোড-আনলোড শ্রমিক, দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন, ফ্লাওয়ার মিল শ্রমিক, বরফ কল শ্রমিক, রিক্শা শ্রমিক, ওয়ার্কশপ শ্রমিক, প্যাথলজি শ্রমিক, ইলেকট্রিক শ্রমিক, পেট্রোলিয়াম শ্রমিক, প্রকৌশল কর্মচারী, হোটেল শ্রমিক লীগ, হোটেল শ্রমিক দল, রেষ্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন, মৎস্য শ্রমিকদের ১৯টি রেজিষ্ট্রার্ড শ্রমিক সংগঠন অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।

জেলা শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি গোলাম ফারুক খান কায়সার বলেন, আমাদের সংগঠনের এমন কিছু শ্রমিক রয়েছেন যারা ‘লকডাউন’ হওয়ার সাথে সাথেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কর্ম নাই মানে মজুরিও নাই। আর মজুরি নাই মানে ঘরে চাল-ডালও নাই।

তিনি প্রশ্ন তুলেন, এই অবস্থায় তাদের সংসার কিভাবে চলবে?

শ্রমিক নেতা গোলাম ফারুক খান কায়সার জানান, শ্রমিক সংগঠন গুলোর পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছের আলাদা আলাদা ভাবে খাদ্য সহায়তা চেয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তিনি দাবি করেন, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের সাথে বৈঠক করে শ্রমিকদের জন্য খাদ্য সহায়তা দিতে পারে জেলা প্রশাসন।

শ্রমিক নেতা গোলাম ফারুক খান কায়সার ও মোহাম্মদ আমিনুল হক জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিকদের খাদ্য সহায়তা দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!