উখিয়ার ড্রেনগুলো বর্জ্যে ভরা, খালগুলোও অরক্ষিত

উখিয়ার ড্রেনগুলো বর্জ্যে ভরা, খালগুলোও অরক্ষিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

উখিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোর কাছে ড্রেনে ময়লার ভাগাড়। বাজারে ব্যবহ্নত পলিথিন থেকে শুরু করে পুরনো কাপড়ের স্তুপ, শিশুদের পরিত্যক্ত খেলনা, গৃহস্থালি বর্জ্য, বাসাবাড়ির অব্যবহ্নত আসবাবপত্র, দোকানের উচ্ছিষ্ট ময়লাসহ প্লাস্টিক ও পাটের বস্তায় ভরে ময়লা ফেলা হয়েছে ড্রেনে ও বিভিন্ন খালে। ফলে পানি প্রবাহ প্রায় নেই বললেই চলে।

ড্রেন ও খাল পরিস্কার করার দায়িত্ব কাদের তাও সাধারণ জনগণ জানেন না। খাল ভরাট হয়ে থাকে। ড্রেনেজ ব্যবস্থাও কাহিল। রাস্তার পাশে স্কুল কলেজে যাওয়ার পথে ময়লা জমে, তারপরও কেউ পরিস্কার করে না। মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্কার অভিযান চলতে দেখা যায়্। এখন করোনার ভয়ে ইউনিয়ন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তায় পানি ছিটানোর দৃশ্য দেখা যায়।

স্থানীয়দের দাবি, ড্রেন ও খাল পরিস্কার করে মানুষকে সুন্দর পরিবেশ উপহার দেয়া। জনগণের কল্যাণে দায়িত্ব নিতে হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে।

করোনার ভয়ে মানুষ সরকারের নির্দেশে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। প্রশাসন থেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্যে মাইকিং করা হচ্ছে। মূলতঃ ফুটপাত, রাস্তা বা অন্যান্য সবকিছু পরিস্কার করার পাশাপাশি ড্রেন ও খালটাও পরিস্কার রাখা দরকার বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

উখিয়ার ড্রেনগুলো বর্জ্যে ভরা, খালগুলোও অরক্ষিত

চারদিকে নদীবেষ্টিত উখিয়ার এক সময়ের ঐতিহ্য ছিল খাল। খাল উখিয়াতে জালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। এসব খাল গিয়ে মিশেছিল নদীতে। বৃষ্টি হলে উখিয়ার পানি গিয়ে পড়তো খালে, খাল দিয়ে পানি চলে যেতো নদীতে। পানির সাথে সাথে ময়লা আবর্জনা ধুয়ে-মুছে পরিস্কার হয়ে যেতো। দিনের পরিক্রমায় ভরাট, দখল আর দূষণে প্রায় নিঃস্ব হয়ে গেছে এসব খাল।

এমনই সময়ে উখিয়ার বালুখালিতে খাল খনন করায় এলাকাবাসির মনে আশা জেগেছে। যে খালগুলো এখনো বেঁচে আছে সেগুলোও দিন দিন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

উখিয়ার রেজু খালের পাশে স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, এখনো প্রতিদিন সকালে রেজু খালের মাছ বিক্রি করে অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছেন।

বালুখালির পানবাজার এলাকার মোস্তাক আহমদ বলেন, বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন যে খাল খনন করা হয়েছে তা প্রশংসার দাবি রাখে, তবে অযত্ন অবহেলায় ও দখলদারদের হাত থেকে এই খালটি বাঁচাতে হবে। এই খালের ওপর দিয়ে রাস্তা চলে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বালুখালী খাল দৃষ্টিনন্দন হয়েছে। খালের পাশে রোহিঙ্গাদের অবস্থান। রোহিঙ্গাদের গৃহস্থালি বর্জ্য এই খালে পতিত হলে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে অন্য খালের মতো এটারও একই অবস্থা হবে।

উখিয়ার সহকারি পুলিশ সুপারের বাসভবন সংলগ্ন দারো বাজারের ড্রেনটিতে স্খানীয় হিন্দু পরিবারের লোকজন প্রতিনিয়ত তাদের গৃহস্থলির ময়লা ফেলে রাখায় ড্রেনটি ভরাট হয়ে আছে। উখিয়া বঙ্গমাতা মহিলা কলেজের রাস্তার পাশের খালি জায়গায় বিশাল ময়লার স্তুপ। ছাত্রীরা নাকে রুমাল দিয়ে কলেজে যাতায়াত করেন। দুর্গন্ধে এ রাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারি মানুষকে নাক চেপে চলাচল করছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই ময়লা থেকে মশা-মাছি ও নানা রোগের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে আশপাশের এলাকায়।

উখিয়ার বিভিন্ন খাল দখলদারদের দখলে। এলাকাবাসী জানান, ড্রেন ও খাল দখলদাররা ধীরে ধীরে ভরাট করে বিল্ডিং নির্মাণ করেছে। খালে ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। কিছুদিন পরে বর্ষার মৌসুম শুরু হবে। মশা-মাছি বৃদ্ধি পাবে।

সে সময় আসার আগেই খাল পরিস্কার নিয়ে এখনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন পরিকল্পিত উখিয়া চাই’র আহবায়ক নুর মোহাম্মদ সিকদার।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!