সেনাটহল চলছে, ‘ফুল নিন, ঘরে যান’

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সারাদেশ এক প্রকার অঘোষিত লকডাউন হয়ে আছে। চারদিকে চলছে আতঙ্ক। ফাঁকা রাস্তাঘাট। বন্ধ গণপরিবহণ ও দোকানপাট। এই পরিস্থিতিতে জনগণকে সচেতন রাখার অংশ হিসেবে পর্যটননগরী কক্সবাজার জেলা ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার আটটি উপজেলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন। সেনা সদস্যরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের শ্লোগান হলো- !সকলে ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হবেন না, আতঙ্ক না ছড়িয়ে অন্যকে সহায়তা করুন।

টহলকালে এই ধরণের শ্লোগান দিয়ে সেনাবাহিনী হ্যান্ড মাইকে জনসাধারণকে কোন ধরণের গুজবে কান না দিয়ে ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। পাশাপাশি আতঙ্কিত না হওয়ার এবং সচেতন ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। এছাড়াও হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম মেনে চলতে অনুরোধ করা হচ্ছে মাইকিংয়ে।

সেনাটহল চলছে, 'ফুল নিন, ঘরে যান'

এক সেনা কর্মকর্তা বলেন, করোনায় সচেতনতা ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছে সেনাবাহিনী। অযথা বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেখা মানুষদের বুঝিয়ে শুনিয়ে ঘরে পাঠানো হচ্ছে। এছাড়াও হোম কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম মানাতে কাজ করছেন সেনা সদস্যরা।

মাঠে মোতায়েন করা সেনা সদস্যরা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছেন। পরিস্থিতি অনুকূলে না আসা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে রামু সেনানিবাস।

এছাড়াও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাটে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে পথচারীদের হাতে ফুল দিয়ে বাড়ি ফেরার অনুরোধ করতে।

শনিবার (২৮ মার্চ) কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁও বাজার ও বাস স্টেশনে এধরণের দৃশ্য চোখে পড়ে। সেনাবাহিনীর এমন উদ্যোগকে সম্মান জানিয়ে ঘরে ফিরেছেন পথচারীরাও।

ওই সময় পেটের দায়ে ঈদগাঁও বাস স্টেশনে রিক্সা নিয়ে উপস্থিত ছিলেন মনিরুজ্জামান।

ওই রিক্সাচালক বলেন, সেনাবাহিনীর এক সদস্য আমার দিকে এগিয়ে আসতে দেখে ভয়ে আমার হাত পা কাঁপছিল। কিন্তু সেনা সদস্য আমাকে হাতে ফুল দিয়ে সাহস যোগিয়ে বললেন, ‘চাচা, ভয় নেই। যদি সম্ভব হয় বাড়ি থেকে একটু কম বের হবেন।’

রিক্সাচালক মনিরুজ্জামান বলেন, গরিবের প্রতি সেনাবাহিনীর এমন ভালোবাসা দেখে আমার চোখে পানি চলে আসে। আমি সেনা সদস্যদের সম্মান জানাতে সঙ্গে সঙ্গে রিক্সা নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি।

অনেকেই তার মতো বাড়ি ফিরে গেছেন বলেও জানান তিনি।

সেনাটহল চলছে, 'ফুল নিন, ঘরে যান'

আলাউদ্দীন নামে আরেক পথচারী বলেন, ঈদগাঁও বাস স্টেশনে সেনাবাহিনীর গাড়ি দেখে আমি দৌড়ে পালাচ্ছিলাম। এমন সময় এহসান নামের এক সেনাসদস্যকে গাড়ি থেকে নেমে পথচারীদের ফুল দিতে দেখে আমি তার দিকে এগিয়ে গেলে আমার হাতেও ফুল ধরিয়ে দেন তিনি।

আলাউদ্দিন বলেন, পথচারীদের সবার হাতে ফুল দিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অবগত করাচ্ছেন। একই সঙ্গে বিনাকারণে বাজারে ঘুরাঘুরি না করে বাড়িতে অবস্থান করার অনুরোধ জানাচ্ছেন সেনা সদস্যরা।

জেলার টেকনাফ উপজেলায় গতকাল (২৯ মার্চ) বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ ১০ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যরা স্থানীয় জনসাধারণ এবং সেখানে বসবাসরত ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত’ মায়ানমার নাগরিকদের মাঝে করোনা ভাইরাস সচেতনতা তৈরিতে তাদের হাতে ফুল দিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য অনুরোধ করেন।

তারা ক্যাম্প পর্যায়ে রোহিঙ্গা মাঝি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক, সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বার্মিজ ও ইংরেজী ভাষায় লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি সব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দিনব্যাপি বার্মিজ ও রোহিঙ্গা ভাষায় সচেতনতামূলক মাইকিং করার কার্যক্রম চলমান রেখেছে।

একই সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সেনাবাহিনীর নতুন নতুন চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে জনসাধারণ ও সকল ধরণের যান চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বিনাপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করার লক্ষ্যে বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারের নির্দেশিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ টহলদল তথা বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্যরা একসাথে নিরলস কাজ করে চলেছেন। এছাড়াও প্রশাসনের বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দোকানপাটসহ অপ্রয়োজনীয় জনসমাগমস্থল।

সেনাবাহিনীর এ সব কর্মকান্ডে আপামর জনসাধারণ সাধুবাদ জানিয়েছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!