ধর্ষণ: ডেকে নিয়ে গৃহপরিচারিকার ‘ইজ্জত নিয়ে খেলা’ করলো আনিছ

ধর্ষণ: ডেকে নিয়ে গৃহপরিচারিকার ‘ইজ্জত নিয়ে খেলা’ করলো আনিছ

কুমিল্লায় বাসার সামনে থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে এক গৃহপরিচারিকাকে (১৮) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। জেলার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বারপাড়া গ্রামে ইয়াছিনের বাড়িতে গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই গৃহপরিচারিকা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ঘটনায় গৃহপরিচারিকার ভাই বাদী হয়ে অভিযুক্ত আনিছসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেছেন।

অভিযোগে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ওই গৃহপরিচারিকা বারপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসার সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইলে কথা বলছিলেন। এ সময় তাকে ওই এলাকার সফিক সর্দারের ছেলে আনিছ (২৮) ও তার সহযোগী হাসেম সর্দারের ছেলে জাবেদ (৩০), সজিব (২৫) ও মিঠু (২৪) কৌশলে পার্শ্ববর্তী ইয়াছিন মিয়ার বাড়ির একটি মেসের কক্ষে ডেকে নিয়ে যান। পরে সেখানে থাকা মেসের সদস্যদের বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে কক্ষ থেকে বের করে দেন। একপর্যায়ে গৃহপরিচারিকার সঙ্গে থাকা মোবাইল এবং এক হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা। এতে বাঁধা দেয়ায় ওই গৃহপরিচারিকাকে বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে দরজা বন্ধ করে আনিছ তাকে ধর্ষণ করে।

বর্তমানে ওই গৃহপরিচারিকা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ধর্ষণের শিকার ওই গৃহপরিচারিকা বলেন, আমি তাদের কোনো ক্ষতি করিনি। আমাকে কেন এভাবে নির্যাতন করলো। আমার মোবাইলও নিয়েছে, টাকাও নিয়েছে। এসব আমার দরকার নেই। তারা কেন আমার ইজ্জত নিয়ে খেলা করলো। আমি তাদের ফাঁসি চাই। যাতে এ ধরণের আচরণ আর কারো সঙ্গে না করতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, বারপাড়া এলাকায় বসবাসকারী ভাড়াটিয়ারা আনিছ ও তার সহযোগিদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। বিভিন্ন সময় তারা এলাকায় নেশা করে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন করে। এছাড়াও ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত।

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল হক জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, ধর্ষণের শিকার ওই গৃহপরিচারিকার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দেবন্ডাল গ্রামে। তিনি বারপাড়া এলাকায় তার বড় ভাইয়ের ভাড়া বাসায় থেকে বিভিন্ন বাসায় কাজ করতো। তার বড় ভাই ওই এলাকায় ইট ভাঙার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আসছেন।