কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে সেনাটহল জোরদার, মানুষের ‘অভূতপূর্ব সাড়া’

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে সেনাটহল জোরদার, মানুষের ‘অভূতপূর্ব সাড়া’

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রামু সেনানিবাসের ১০ম পদাতিক ডিভিশনের সেনাদের কাজ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। সরকারের দেয়া নির্দেশনা মতো ‘সামাজিক দূরত্ব’ বজায় এবং করোনা প্রতিরোধে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতায় পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলা ও বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলার ৮টি উপজেলায় মাঠে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

কক্সবাজার জেলার সদর উপজেলা, রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও চকরিয়া এবং চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বোয়ালখালী, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগড়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় কাজ করে যাচ্ছে ১০ম পদাতিক ডিভিশন।

করোনা নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামার পর থেকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের সার্বিক কার্যক্রম জোরদার করেছে।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে সেনাটহল জোরদার, মানুষের ‘অভূতপূর্ব সাড়া’

কী করছে সেনাবাহিনী
‘আপনাদের সুস্থতাই আমাদের কাম্য’- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সেনা টহলদল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সকল মার্কেট, বাসটার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি প্রয়োজনে খোলা থাকা দোকান, কাঁচাবাজার ও ওষুধের দোকানে গিয়ে কতটুকু দূরত্ব বজায় রাখতে হবে তা চিহ্নিত করে দিচ্ছেন।

জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেনাসদস্যরা জেলার প্রত্যেকটি শহর, উপজেলা, গ্রাম, পাড়া-মহল্লা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করার পাশাপাশি বাইরে বিনাপ্রয়োজনে চলাচলরতদের বাসায় ফেরত পাঠানো, একজনের বেশি একসঙ্গে চলাচল না করা, রিক্সায় একজনের বেশি না ওঠা নিশ্চিত করাসহ বাস/গণপরিবহণে প্রতি দুই সিটে একজন বসা বাধ্যতামূলক করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

শহরের দোকান-পাট বন্ধ থাকায় এবং যানবাহন চলাচল সীমিত হওয়ার কারণে বদলে গেছে পুরো জেলার সার্বিক দৃশ্যপট। সেনাবাহিনী দাবি করছে, এই কৃতিত্ব তাদের সেনাদের।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে সেনাটহল জোরদার, মানুষের ‘অভূতপূর্ব সাড়া’

পরিচ্ছন্নতা কাজেও সেনারা
সচেতনাতামূলক প্রচারণা ছাড়াও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বিশেষভাবে নির্মিত গাড়ী থেকে জেলা ও উপজেলাগুলোর বিভিন্ন মসজিদ, রাস্তা ও হাসপাতালে জীবাণুনাশক স্প্রে করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় তারা দফায় দফায় গিয়ে জেলা প্রশাসনের চিহিৃত করে দেয়া নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করছেন।

উল্লেখ্য, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে তালিকা সংগ্রহ করে বিদেশফেরত ও সংশ্লিষ্টদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে থাকা, জনসাধারণদের বাসায় অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী গত বুধবার থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর এ সকল কর্মকান্ডকে জনগণ সাদরে গ্রহণ করেছেন। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে খুব কমসংখ্যক লোক রাস্তায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে সেনাটহল জোরদার, মানুষের ‘অভূতপূর্ব সাড়া’

রোহিঙ্গা শিবিরে সেনাবাহিনী
কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় ১১ লাখের বেশি লোকের ‘জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মায়ানমার নাগরিক’দের ৩৪টি ক্যাম্পে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত জনসচেতনতা তৈরিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন কাজ করছে।

ডিভিশনের সেনাসদস্যদের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্প পর্যায়ে রোহিঙ্গা মাঝি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক, সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বার্মিজ ও ইংরেজী ভাষায় লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি সব রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দিনব্যাপি বার্মিজ ও রোহিঙ্গা ভাষায় সচেতনতামূলক মাইকিং করার কার্যক্রম চলমান রেখেছে তারা।

একই সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সেনাবাহিনীর নতুন নতুন চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে জনসাধারণ ও সব ধরণের যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিনাপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করার লক্ষ্যে বেসামরিক প্রশাসনের সহযোগিতায় সরকারের নির্দেশিত লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ টহলদলেও কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী। যৌথ টহলদলে সেনাবাহিনীর সাথে রয়েছে বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব ও আনসার সদস্যরা। তারা সকলেই একসাথে নিরলস কাজ করে চলেছেন।

এছাড়াও প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দোকানপাটসহ অপ্রয়োজনীয় জনসমাগমস্থল।

সেনাবাহিনীর এসব কর্মকান্ডকে আপামর জনসাধারণ সাধুবাদ জানিয়েছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!