করোনারোগী মুসলিমার স্বাস্থ্যের অবনতি, নেয়া হচ্ছে ঢাকায়

করোনারোগী মুসলিমার স্বাস্থ্যের অবনতি, নেয়া হচ্ছে ঢাকায়

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারে শনাক্ত হওয়া প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী মুসলিমা খাতুনের স্বাস্থ্যের অবস্থার অবনতি হয়েছে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালে টানা ১১ দিন চিকিৎসার পরও কোন ধরণের স্বাস্থ্যগত উন্নতি হয়নি। বরং শুক্রবার (২৭ মার্চ) তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য আজই (শনিবার) তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এই রিপোর্ট লেখাকালিন মুসলিমা খাতুনকে ঢাকাস্থ কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ঢাকায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নির্ধারিত ১১টি হাসপাতালের মধ্যে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল একটি।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মহিউদ্দিন ও রোগীর বড় ছেলে, কক্সবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মুসলিমা খাতুনের পারিবারিক সুত্র দাবি করেছেন, ঢাকাস্থ আইইডিসিআর থেকে একদল চিকিৎসক এসে মুসলিমা খাতুনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। ওই চিকিৎসার পরই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মহিউদ্দিন জানান, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর আগে থেকেই এজমাসহ বিভিন্ন জটিল রোগ ছিলো। মহিলাটির এসব রোগসহ করোনা রোগের সমন্বিত চিকিৎসা করা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই করোনা রোগীর স্বজনদের সাথে পরামর্শ করেই তাকে ঢাকাস্থ উত্তরার ৬ নাম্বার সেক্টরে অবস্থিত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, সরকারি ভাবে ঢাকায় যে ১১টি হাসপাতালকে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে, তার মধ্যে কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা সেবায় শীর্ষে রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সদর হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, আইইডিসিআর থেকে আসা চিকিৎসক দল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা রোগী চিকিৎসা দিয়ে গেছেন। তারা হাসপাতালের চিকিৎসকদের জানিয়ে গিয়েছিলেন, তাদের চিকিৎসার পর রোগীর স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে। তবে বেশি অবনতি হলে তাকে যেন ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ওই চিকিৎসকের মতে, এতোদিন করোনা রোগী মুসলিমার স্বাস্থ্যগত তেমন পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার থেকে তার অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এসময় জ্বরের মাত্রা ও পাতলা পায়খানা বেড়ে যায়।

হোম কোয়ারান্টাইনে থাকা করোনা মহিলা রোগীর ছেলে, কক্সবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ঢাকা থেকে আসা চিকিৎসকদের দেয়া কিছু ওষুধ খাওয়ার পর তার মায়ের অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে অন্যান্য অসুখের সাথে প্রচন্ড ডায়রিয়া শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো মাকে এ্যামবুলেন্সে আজ (শনিবার) বিকেল ৪টার মধ্যে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিকেল ৩টায় তিনি জানান, তার মা ও বোনকে ঢাকায় পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে। এখন বেশি কথা তিনি বলতে পারছেন না।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল সুত্র জানিয়েছে, বিশেষ ব্যবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে করোনা রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। রোগী ও রোগীর সাথে থাকা নিকটাত্মীয়দেরও পিপিই (পারসোনাল প্রোটেকশন ইকুইপমেন্ট) পরিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে এমন অ্যাম্বুলেন্স নিতে হবে যাতে চালকের কেবিন ও রোগীর কেবিন আলাদা থাকে। এমন হলে আর অ্যাম্বুলেন্সের চালককে আর পিপিই পরতে হবে না, শুধু মাস্ক ও হাত গ্লাভস পরতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ ফেব্রুয়ারী সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালনে গিয়েছিলেন মুসলিমা খাতুন। ওমরাহ পালন করে তিনি গত ১৩ মার্চ তার এক ছেলেসহ দেশে ফেরেন। পরে ১৭ মার্চ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ‘বিদেশ থেকে আসার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে’ তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২২ মার্চ মহিলাটির চিকিৎসকরা তার শরীরের স্যাম্পল সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য ঢাকার আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠান। গত ২৪ মার্চ টেস্ট রিপোর্ট আসলে জানা যায়, তার শরীরে করোনা ভাইরাস জীবাণু সংক্রমিত হয়েছে। পরে গত ৪ দিন যাবৎ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত মহিলাটিকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের পঞ্চমতলায় ৫০১ নাম্বার কেবিনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল।

মুসলিমা খাতুনের জ্বর, কাঁশি, সর্দি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও পাতলা পায়খানার উপসর্গ ছিল।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!