খুলনায় কোয়ারেন্টাইনের ধারে-কাছে নাই আ.লীগ নেতা ও প্রভাবশালীরা

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের সদস্যরা কোয়ারেন্টাইনের ধার ধারছেন না। বিদেশ থেকে আসা এসব নেতা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রকাশ্যে ঘুরছেন।

যাচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে, এমনকি উপাসনালয়েও তারা যাচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে নিয়োজিত পুলিশও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

সূত্র জানায়, গত ২২ মার্চ ভারতের ভ্যালোর থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরেছেন দিঘলিয়ার মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনের তোয়াক্কা না করেই ঘুরছেন প্রকাশ্যে। হাট-বাজারে ঘোরাফেরাসহ আজ শুক্রবার মসজিদে জুম্মার নামাজও আদায় করেছেন তিনি। অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না এলাকার কেউ। মো. রফিকুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ এর ভগ্নিপতি বলে জানা যায়।

১৯৯৭ সালে বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি রফিকুল ইসলামের কথা না শোনায় পুলিশ ও প্রশাসনের অনেককে বদলি ও হয়রানি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি বলেন, একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছেন। কোথাও যাচ্ছেন না। তবে আজ শুক্রবার মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে যাবার কথা স্বীকার করেন তিনি।

অপরদিকে এই উপজেলার সাবেক একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতার মেয়ে ও জামাতা ৪/৫ দিন আগে করোনা আক্রান্ত ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন। তারাও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। গত ২৬ মার্চ পুলিশ তাদের বাড়িতে গেলে দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন।

রফিকুল ইসলামের বিষয়ে দিঘলিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, আমি বিষয়টি এখনই দেখছি। তিনি বলেন, যাদের সচেতন হওয়ার কথা তারা যদি সচেতন না হয়। তাহলে আমরা আর কি করতে পারি। তিনি ২৬ মার্চ অপর সাবেক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে পুলিশ অপদস্তের কথাও স্বীকার করেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!