করোনাভাইরাসকে ‘অবহেলা’ করছেন ট্রাম্প

করোনা সংক্রমণে সকলকে পিছনে ফেলে দিল আমেরিকা। কাজ হারাচ্ছেন বহু মানুষ। তবুও নিশ্চিন্তে ট্রাম্প প্রশাসন। চীন, ইটালি, স্পেন সকলকে ছাড়িয়ে করোনা আক্রান্তের তালিকায় এক নম্বরে উঠে এসেছে আমেরিকা।

|আরো খবর
করোনা আতঙ্কের মধ্যেই ২৭ তম স্প্যান বসছে কাল
কোয়ারেন্টাইনের জন্য প্রস্তুত মিরপুর স্টেডিয়াম
করোনাভাইরাসের বাহক বনরুই
দেশটিতে শুক্রবার মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫ হাজার ৫০০ জনে। এখনও পর্যন্ত সেখানে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার অতিক্রম করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী তিন সপ্তাহে আরও মারাত্মকভাবে সংক্রমণ ছড়াবে আমেরিকায়। আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কয়েক লক্ষ মানুষের।

গত বছরের শেষ পর্বে চীনে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করে। তিন মাসে সেখানে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রায় ৮২ হাজার মানুষ। প্রায় তিন মাস ধরে করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে চীন এখন অনেকটাই ভাইরাস মুক্ত হতে পেরেছে।

কিন্তু তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে প্রায় গোটা পৃথিবীতে। এই মুহূর্তে ইটালি এবং স্পেনের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। ইটালিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। মৃত্যু হয়েছে আট হাজারেরও বেশি মানুষের।

স্পেনেও প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের পরবর্তী ভরকেন্দ্র আমেরিকা। বৃহস্পতিবার তা আরো স্পষ্ট হয়ে গেল। আশঙ্কা, সেখানে মোট ৮১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

কিন্তু তবু হেলদোল নেই ট্রাম্প প্রশাসনের। করোনাভাইরাসকে যে ট্রাম্প সেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, বার বার তা স্পষ্ট হচ্ছে।

দুই সপ্তাহ আগে ট্রাম্প টুইট করে বলেছিলেন, করোনা নিয়ে অকরাণে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। গত বছরের ফ্লুয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, সাধারণ ফ্লুতে যত সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়, করোনায় মৃত্যু তার চেয়ে অনেক কম। গোটা দেশে লকডাউনের প্রশ্নেও একগুঁয়েমি দেখিয়েছেন ট্রাম্প। মাত্র কয়েক দিন আগে তিনি বলেছেন, ইস্টারের আগে আমেরিকার জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এখন তিনি বলছেন, অগাস্টে রিপাবলিকানদের কনফারেন্স যেমন হওয়ার কথা ছিল, তেমনই হবে।

ট্রাম্পের বক্তব্য, অগাস্টের মধ্যে করোনার প্রকোপ কমে যাবে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেভাবে আমেরিকা চলছে, তাতে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত হবেন। মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে বহু গুণ।
প্রসঙ্গত, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিশ্বের ২০০ দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে ৫ লাখ ৩১ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ২৪ হাজার জনের। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে এক লাখ ২২ হাজার মানুষ।

সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে ইতালিতে। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৮২১১। এরপর স্পেনে মারা গেছে ৪৩৬৫ জন। চীনে মারা গেছে ৩২৯১ জন। এ ছাড়া ইরানে মারা গেছে ২২৩৪ জন। ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা ১৬৯৮। যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছে ১২৯৬ জন মানুষ।

গত আড়াই মাসের বেশি সময় ধরে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যায় এগিয়ে ছিল চীন। দেশটিতে সংক্রমণ থেমে যাওয়ায় ভাইরাসটির নতুন কেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায় ইউরোপ। ফলে গত কয়েক দিনে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে গেছে ইতালি ও স্পেন।

এদিকে আক্রান্তের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ৮৫ হাজার ৬৫৩ জন মানুষের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরপর ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছে ৮১ হাজার ৭৮২ জন। স্পেনে ৫৭ হাজার ৭৮৬ জন মানুষকে আক্রান্ত হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও ইউরোপে আক্রান্তের কমে এসেছে। তবে আমেরিকায় সে সংখ্যা বাড়ছে। তাই অঞ্চলটি করোনার নতুন উপকেন্দ্র হয়ে ওঠার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!