লিংকরোড বাজারে ‘করোনা নির্দেশনা’ মানছে না কেউ

লিংকরোড বাজারে ‘করোনা নির্দেশনা’ মানছে না কেউ

ইসলাম মাহমুদ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার শহরের প্রবেশদ্বার লিংকরোড। কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের এই টার্নিং পয়েন্টে প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবার সাপ্তাহিক বাজার বসে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে এখানে অন্য সময়ের মতো বাজার না বসারই কথা। আর কাঁচাবাজার বসলেও তা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে দূরত্ব বজায় রেখে সওদা-পাতি হওয়া কথা। কিন্তু লিংক রোড বাজারে সেই নিয়মের কিছুই মানা হচ্ছে না।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে লিংক রোডের সেই বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অন্য সময়ের মতোই বাজার বসেছে। ক্রেতারা জটলা পাকিয়ে বাজার করছেন। করোনা নিয়ন্ত্রণের কিছুই এই বাজারে মানা হচ্ছে না।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুক্রবার লিংক রোডের এই বাজারে মাছের দাম বেশি নেয়ায় ঘটনায় অনেক ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে হাতাহাতিও হয়েছে।

বাজারে আসা মিঠাছড়ির বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, এমন ঝুঁকি নিয়ে বাজারে আসা ঠিক হয়নি।

বিক্রেতা সোবহান বলেন, নিরাপদ দূরত্ব রেখে কেনাকাটা করতে বললেও কেউ কথা শুনে না। আমার করার কিছু নেই।

লিংকরোড বাজারে ‘করোনা নির্দেশনা’ মানছে না কেউ

বাজারে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, আমদের সচেতন হতে হবে, নাহলে একটু অসচেতনতায় করোনার ভয়ংকর পরিস্থিতির শিকার হতে হবে।

অনেকে মনে করছেন, কক্সবাজার শহরে জেলা প্রশাসন যেভাবে বাজার ও দোকান নিয়ন্ত্রণ করছে এখানেও সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তবে স্বাস্থ্যবিদদের দেয়া করোনা ভাইরাস বিষয়ক ‘নিরাপদ দূরত্ব’ বজায় রাখার যে কথাটি ছিল, এখন আর নিরাপদ কথাটির গুরুত্ব কতটুকু, এই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নতুন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বাতাসে ৩০ মিনিটের মতো ভেসে থাকতে পারে এবং চার দশমিক পাঁচ মিটার (১৪ দশমিক সাত ফুট) যাতায়াত করতে পারে বলে জানিয়েছে চীনের সরকারি এপিডেমিওলজিস্টের একটি দল।

গবেষকরা জানতে পেরেছেন, শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে নির্গত হওয়ার পর ভাইরাসটি কঠিন পৃষ্ঠে কয়েকদিন পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে এবং স্পর্শের মাধ্যমে অন্যের শরীরে চলে যেতে পারে। তাছাড়া কেউ সেই পৃষ্ঠে অবচেতনভাবে হাত রাখার পর নিজের নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করলে তারও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ভাইরাসটি কতোক্ষণ সক্রিয় থাকবে
করোনা ভাইরাসের জীবাণু কাঁচ, কাপড়, ধাতু, প্লাস্টিক ও কাগজের ওপর দুই থেকে তিনদিন টিকে থাকতে পারে।