Breaking

কক্সবাজারে প্রথম করোনারোগীর চিকিৎসাকারি ৩ ডাক্তারের করোনা টেস্ট ‘নেগেটিভ’

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ডা. ইউনুস, ডা. শামশুদ্দিন ও ডা. শাহজাহানের করোনা টেস্ট ‘নেগেটিভ’

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারে শনাক্ত হওয়া প্রথম করোনা রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়া প্রধান ৩ চিকিৎসকের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু পাওয়া যায়নি। এরা হলেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ ইউনুস ও ডা. আবু মোহাম্মদ শামশুদ্দিন এবং সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান। এরা তিনজনই কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক এবং কক্সবাজার জেলা হাসপাতালের সাথে সংযুক্ত।

জেলা প্রথম করোনা রোগী মুসলিমা আকতারের প্রথম চিকিৎসা দিয়েছিলেন এই চিকিৎসকই। ওই রোগীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এই তিন চিকিৎসক হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

করোনা রোগীর চিকিৎসার পরও করোনা ভাইরাস নিজেদের শরীরে সংক্রমিত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডা. মোহাম্মদ ইউসুস ও ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নিজেই।

তাঁরা জানান, গত ২৫ মার্চ তিন তাঁরা তিন ডাক্তারের করোনা পরীক্ষার নমুনা ঢাকাস্থ আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে আইইডিসিআর ল্যাব থেকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে তাদের নমুনা পরীক্ষা রিপোর্টে ‘নেগেটিভ’ পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ এই খবরকে ‘সুসংবাদ’ হিসেবেই দেখছে।

সুত্র মতে, এই তিন চিকিৎসক যখন জেলার প্রথম করোনা রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছিলেন তখন তাঁরা কোন ধরণের প্রোটেকশন ছাড়াই ওই রোগীর সংস্পর্শে এসেছিলেন। তখনও তারা জানতেন না, ওই রোগী নিশ্চিতই করোনা আক্রান্ত। শুধুমাত্র লক্ষণ দেখে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারে প্রথম করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয় গত ২৪ মার্চ। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা, সৌদি থেকে পবিত্র ওমরাহফেরত বয়োবৃদ্ধা মুসলিমা খাতুনের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু ধরা পড়ে। ইতোপূর্বে মুসলিমা খাতুন গত ১৩ মার্চ সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন। পরে ১৭ মার্চ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৮ মার্চ তাঁকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সুত্র মতে, জ্বর, কাঁশি, সর্দি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও পাতলা পায়খানা নিয়ে হাসপাতালে আসার পর ওই তিন চিকিৎসকই তাঁকে সরাসরি চিকিৎসা সেবা দেন। ওই রোগীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর সেই তিন ডাক্তারকেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ ইউনুস জানিয়েছেন, তাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের নমুনা পাওয়া না গেলেও ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন কাটাতে হবে।

উল্লেখ্য, প্রথম করোনা রোগী মুসলিমা খাতুন কক্সবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমানের মা। মুসলিমা খাতুনের করোনা শনাক্ত হওয়ার পর অধ্যক্ষ সোলাইমান, মেয়ে সাফিয়া খাতুনসহ তাদের নিকটাত্মীয় ৯টি পরিবারকে ‘লকডাউন’ করেছে প্রশাসন। এই পরিবারগুলোর মধ্যে কক্সবাজার শহরে ৩টি, চট্টগ্রামে ৩টি, কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী ও জালালাবাদ এবং রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে একটি পরিবার রয়েছে।

বর্তমানে ওই করোনা রোগীর চিকিৎসা চলছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে। তাকে হাসপাতালের পঞ্চমতলায় ৫০১ নাম্বার কেবিনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের ওই এলাকাটি লকডাউন করে তার চিকিৎসা চলছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!