রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে কক্সবাজারজুড়ে আজানের ধ্বনি, ‘করোনা’ থেকে মুক্তির আকুতি

রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে কক্সবাজারজুড়ে আজানের ধ্বনি, ‘করোনা’ থেকে মুক্তির আকুতি

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বিশ্বজুড়ে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া ঘাতকব্যাধি করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেতে পযর্টক নগরী কক্সবাজার ও আশপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ১০টা থেকে রাত ১২টা অব্দি সম্মিলিতভাবে মসজিদ ও বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে আজান দিতে শোনা গেছে।
অঘোষিত ‘লকডাউনে’ সুনসান শহরে রাতের নিস্তব্ধতাকে ভেঙে খান খান করে দিয়েছে ওই আজানের সেই ধ্বনি।

বিভিন্ন মসজিদে আর ঘরের জানালা বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে স্থানীয় শহরবাসি এই আজান দেন। করুণ সেই সুরে ছিল ‘করোনা’ থেকে মুক্তির আকুতি। মহান স্রষ্টার কাছে ওই আকুতি, তিনি যেন মানুষের ভুল-ক্রুটি গুলো ক্ষমা করে দিয়ে এই দুনিয়াকে আবারও বাসযোগ্য ও নিষ্কন্টক করে দেন।

জানা গেছে, স্থানীয় অধিবাসিরা উদ্যোগ নিয়ে এই আজানের আয়োজন করেছেন। তারা করোনা রোগের প্রাদূর্ভাব থেকে বাঁচতে আজান দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি পাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

স্থানীয় বিভিন্ন সুত্র জানায়, শুধু কক্সবাজার শহর নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ থেকে সম্মিলিতভাবে আজান দিতে শোনা গেছে ।

ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আজান ইসলামের এক মৌলিক ইবাদত। এটি মানুষকে নামাজের দিকে আহ্বান করে। আজানের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয়, বিপদ ও আজাব দূরীভূত হয়। হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূল (ﷺ) এরশাদ করেন- “اِذَا اُذِّنَ فِیْ قَرِیَةٍ اٰمَنَھَا اللہُ مِنْ عَذَابِهٖ فِیْ ذٰلِكَ الْیَوْمِ” যখন কোন গ্রামে আজান দেয়া হয়, তখন মহান আল্লাহ (ﷻ) সেদিন ওই গ্রামকে তার আজাব থেকে নিরাপদে রাখেন।

মহামারির সময় আজান দেয়া একটি মুস্তাহাব বিষয়। ফিকহে হানাফীর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রদ্দুল মুখতার বা ফতোয়ায়ে শামীতে আজানদানের ১০টি মুস্তাহাব সময়ের মধ্যে মহামারির সময় আজানের কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারি থেকে রক্ষায় অন্যান্য আমলের পাশাপাশি আজান দেয়া একটি শরীয়ত সমর্থিত মুস্তাহাব আমল। এটার জন্য কোনো সময় নির্ধারিত নেই বলেও জানিয়েছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি করোনা মহামারিতে আক্রান্ত স্পেনেও করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য স্রষ্টার কৃপা পেতে সম্মিলিতভাবে আজানের আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশি মুসলিম কমিউনিটি ওই আজানের আয়োজন করে। মাগরিবের সময় মুসলিম কমিউনিটির প্রত্যের বাড়ির দরজা-জানালা থেকে ওই আজান ধ্বনিত হয়।

এটি ছিল আধুনিক স্পেনে প্রায় সাড়ে ৫ শত বছর পর প্রকাশ্যে আজানের ধ্বনি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!