ঈদগাঁওর বিদেশফেরত প্রবাসিদের ঘরে ঘরে অভিযান, ঘর কোয়ারেন্টাইন চলছে

টেকনাফে ভারতফেরত এক রোহিঙ্গা পরিবারের চারজন ‘কোয়ারেন্টিনে’

আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওতে অবশেষে সদ্য বিদেশফেরত প্রবাসীদের ঘরে ঘরে অভিযানে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে নগদ জরিমানা আদায় ও ঘর কোয়ারেন্টাইন ঘোঘণা করা হচ্ছে।

২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ঈদগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ মাইজ পাড়া থেকে শুরু করা অভিযানে ওই এলাকার সৌদিফেরত প্রবাসী আলী আকবরকে ঘরের বাইরে ঘোরাফেরা করায় নগদ ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১০ দিনের জন্য তার ঘরকে (৫ এপ্রিল পর্যন্ত) কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করা হয়।

একই এলাকার আরেক প্রতিবেশী প্রবাসী মৃত মোস্তাক আহমদ ওরফে মোতাহেরের ছেলে শিমুলকে দেশে ফিরে ঘরের বাইরে না যাওয়ায় তাকে জরিমানা করা হয়নি, তবে আগামি ৫ এপ্রিল পর্যন্ত তার ঘরও কোয়ারেন্টাইন ঘোষণা করা হয়।

এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদউল্লাহ মারুফ। এসময় সাথে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মরণঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে জনগণকে রক্ষার স্বার্থে সরকার সদ্য বিদেশফেরত প্রবাসিদের ১৪ দিন টানা ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দিলেও বৃহত্তর ঈদগাঁওর ৫ ইউনিয়নে সহস্রাধিক প্রবাসী ঘরে ফিরলেও তারা সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে অবাধে এলাকায় চলাফেরা করছেন। এতে লাখো জনগোষ্ঠী চরম করোনা ভাইরাস আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে দেরিতে হলেও প্রশাসন অভিযান শুরু করাতে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে তারা সকল প্রবাসীর বাড়িতে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়ে বলেন, স্ব স্ব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের অবহেলার কারণে সদ্য ফেরত প্রবাসীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করতে পারছেন।

প্রয়োজনে তদন্তপূর্বক জড়িত জনপ্রতিনিধিদের আইনের আওতায় নেয়ারও দাবি জানান তারা।

অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, মরণঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে কঠোর হস্তে সরকারের নির্দেশনা অমান্যকারী প্রবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান। রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারে একমাত্র করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্ত হয় সদ্য সৌদিফেরত মুসলিমা আক্তার নামের এক বৃদ্ধ মহিলা। যার স্থায়ী ঠিকানা চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া এবং বর্তমান বসবাস কক্সবাজার পৌর শহরে। তার রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার পর তাকে ইতোপূর্বে চিকিৎসাকারী কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ডজনাধিক ডাক্তার, নার্সকেও কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে এবং বর্তমানে ওই রোগী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ঘটনার পর পুরো কক্সবাজার জেলাজুড়ে করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!