এক পরিবার অভূক্ত কাটালো সারাদিন

করোনা রোগী একজন, ঘরে ‘বন্দি’ হলো ৮ পরিবার

কক্সবাজারের প্রথম করোনা রোগী ‘ওমরাহ ফেরত’, পুরো পরিবার কোয়ারেন্টাইনে

আনছার হোসেনমহিউদ্দিন মাহী
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

‘করোনা’ নামের মহামারি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন পবিত্র ওমরাহ পালন করে ফেরা কক্সবাজারের এক বয়োবৃদ্ধা নারী, আর সেই নারীর কারণে ‘মানবেতর জীবনযাপনে’র মুখে পড়েছে তার নিকটাত্মীয় অন্তত ৮টি পরিবার। শুধুমাত্র ওই রোগীর ‘সংস্পর্শে’ আসার কারণে ওই ৮টি পরিবারের সব ক’জন সদস্যই ‘লকডাউনে’ আটকা পড়েছেন।

এ এক দুঃসহ অবস্থা! ওই পরিবারগুলোর কেউ বাড়ি থেকে বের হতেও পারছেন না, আবার কেউ বাইরে থেকে তাদের সাথে দেখাও করতে যেতে পারছেন না। তাদের নিত্যদিনের খাওয়া-দাওয়াও বন্ধ হওয়ার পথে। একটি পরিবার তো বুধবার (২৫ মার্চ) সারাদিন অভূক্তই কাটিয়ে দিয়েছেন!

এমনই অভিযোগ তুলেছেন কক্সবাজারের প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী মুসলিমা খাতুনের ছেলে, কক্সবাজার সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান।

তিনি দাবি করেছেন, তারা তো খাদ্য ও নিত্যপণ্য সংকটে পড়েছেনই, সেই সাথে দুর্ভোগ হয়ে এসেছে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা মা মুসলিমা খাতুন ও মায়ের সেবায় হাসপাতালের কেবিনে থাকা ছোট বোন সাফিয়া খাতুনের খাবার পৌঁছানো।

তাঁর অভিযোগ, কোন আত্মীয়-স্বজনকেই হাসপাতালে খাবার নেয়ার পাওয়া যাচ্ছে না! কাউকে পাওয়া গেলেও খাবার নিয়ে হাসপাতালে গেলে সেই খাবার রোগীর কেবিনে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

তাঁর মতে, হাসপাতালে খাবার নিলে সেই খাবার কেবিনে পৌঁছাতে নানা টালবাহানা করা হয়। যিনি খাবার নিয়ে যান, তিনিও তিরস্কৃত হন।

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, তিনি নিজেই ‘লকডাউনে’র কারণে নিজের বাড়িতে আটকা পড়েছেন। পরিবারের ৬ সদস্য নিয়ে এখন মহা বেকায়দায়। ঘরে যা খাবার ছিল বুধবার (২৫ মার্চ) কোন রকমে চলেছে। এখন বাইরে থেকে খাবারও আনা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘আমাদেরও বের হতে দেয়া হচ্ছে না, আবার আমাদের কাছে আসতে চাইলে তাদেরও আসতে দেয়া হচ্ছে না। এই অবস্থায় আমাদের দিনগুলো কিভাবে যাবে? আমরা কী অভূক্ত দিন কাটাবো!’

তিনি জানান, কক্সবাজার শহরে তার বাড়িসহ নিকটাত্মীয়দের ৩টি বাড়ি, চট্টগ্রামে ৩টি বাড়ি এবং চৌফলদন্ডী ও জালালাবাদে দুইটি লকডাউন করে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে ব্যানার টানানোর পাশাপাশি লাল পতাকা উড়ানো হয়েছে।

তাঁর অভিযোগ, তাদের যে বোনটি মায়ের সেবায় হাসপাতালে দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের ৩ জন সদস্য বুধবার (২৫ মার্চ) সারাদিন অভূক্ত কাটিয়েছে। কাউকে দিয়ে সেই ঘরে খাবার পাঠানো যায়নি। ওই বাড়িতে কাউকে ঢুকতেও দেয়া হচ্ছে না।

তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তিনি বলেন, মায়ের এই অবস্থা হবে আমাদের জানা ছিল না। তাই স্বাভাবিক ভাবেই ঘরে খাবার মজুদ রাখা হয়নি। এখন লকডাউনে পড়ে ‘মানবেতন জীবনে’ আটকা পড়েছি।’

এ ব্যাপারে জানতে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শাহীন মো. আবদুর রহমানের মোবাইলে একাধিকবার কল দেয়া হয়েছিল। তাঁরা কেউই ফোন কল রিসিভ করেননি।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ মার্চ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বয়োবৃদ্ধা নারী মুসলিমা খাতুনের শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু সনাক্ত হয়। তিনি গত ১৩ মার্চ ওই রোগী সৌদি আরব থেকে ওমরাহ পালন করে দেশে ফেরেন। গত ১৭ মার্চ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৮ মার্চ তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জ¦র, কাঁশি, সর্দি, গলাব্যথা ও শ^াসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়া ওই রোগীর স্যাম্পল পাঠানো হয় ঢাকাস্থ আইইডিসিআর ল্যাবে। ওখান থেকেই ২৪ মার্চ রিপোর্ট আসে ‘করোনা পজিটিভ’।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!