হাসপাতালের ৫০১ নাম্বার কক্ষ ‘লকডাউন’

প্রথম করোনা রোগী থাকবেন কক্সবাজার হাসপাতালেই, চিকিৎসাও সেখানেই

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ২১ ডাক্তার-নার্স কোয়ারেন্টাইনে

আনছার হোসেন
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো সনাক্ত হওয়া করোনা ভাইরাসের রোগী মুসলিমান খাতুনকে জেলা সদর হাসপাতালে রেখেই চিকিৎসা দেয়া হবে। শুরুতে চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বিশেষ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল তা থেকে সরে এসেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা মনে করছেন, ওই রোগী সৌদি আরব থেকে ফেরার পর থেকে করোনা ভাইরাসের জীবাণু ছড়িয়ে এসেছেন। এখন সদর হাসপাতাল থেকে অন্যত্র নেয়া হলে সেই জীবাণু ছড়িয়ে ছড়িয়েই যাবেন!

ওই রোগীর চিকিৎসা কক্সবাজার সদর হাসপাতালেই হবে জানিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাসের প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা এখানেই দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, হাসপাতালের পঞ্চমতলায় ৫০১ কেবিনে ওই রোগীর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতালের ওই এলাকাটি ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে। বাইরে থেকে কোন লোক ওখানে যাবেন না, ওই কক্ষ থেকেও কেউ বাইরে আসতে পারবেন না। ডাক্তার ও নার্সরা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক পোষাক (পিপিই) পরেই ওই কক্ষে যাচ্ছেন।

ডা. মহিউদ্দিন জানান, ৫০১ নাম্বার কক্ষে বর্তমানে দুইজন মানুষ রয়েছেন। একজন রোগী নিজেই, অন্যজন তার মেয়ে। মায়ের সেবা করার জন্য মেয়েকে রাখা হয়েছে। তাকেও প্রয়োজনীয় প্রটেকশন দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, তিনি নিজেই ওই রোগীর চিকিৎসা তদারকি করছেন। রোগী স্বাভাবিক রয়েছেন।

সুত্র মতে, গত ১৮ মার্চ মুসলিমা খাতুন জ্বর, কাঁশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। ইতোপূর্বে তিনি সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র ওমরাহ শেষ করে গত ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর হয়ে দেশে আসেন। ওইদিন তিনি চট্টগ্রামে তার ছেলে ব্যাংকার হারুনের বাড়িতে অবস্থান করেন। পরদিন ১৪ মার্চ তিনি সড়ক পথে সাধারণ বাসে কক্সবাজারের চকরিয়া ‍উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ায় নিজের বাড়িতে পৌঁছান। বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে কক্সবাজার শহরে তাঁর বড় ছেলে, কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমানের টেকপাড়া কালুর দোকান সংলগ্ন পাহাড়তলী এলাকার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। ওখান থেকে প্রথমে তাঁকে কক্সবাজার শহরের ফুয়াদ আল-খতীব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা নেয়ার পর ১৮ মার্চ তিনি ভর্তি হন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে।

জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মনে করেন, এই দীর্ঘ সময়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ওই রোগী রোগের জীবাণু ছড়িয়েছেন। আশংকা করা হয়, যারাই ওই সময়ে তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন তাদের করোনা আক্রান্ত হতে পারে। তাই তাদের সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে থাকা জরুরি। কিন্তু সবাইকে তো কোয়ারেন্টাইনে আনার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) করোনা রোগ সনাক্ত হওয়ার পর ওই রোগীকে অন্যত্র সরাতে গেলে আবারও পথে পথে জীবাণু ছড়ানোর আশংকা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারে প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মুসলিমা খাতুন চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়ার মরহুম রশীদ আহমদের স্ত্রী।

সুত্র মতে, গত ১৮ মার্চ মোসলিমা খাতুন জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যে সকল ডাক্তার-নার্স তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন, তাদের সবাইকে কোয়েরেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। এমনকি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহিউদ্দিন নিজেও কোয়েরেন্টাইনে রয়েছেন।

এদিকে করোনা রোগী মোসলিমা খাতুনের সংস্পর্শে আসা সবাইকে দুই সপ্তাহের কোয়েরেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে অধ্যক্ষ সোলাইমানের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়েরেন্টাইন নিশ্চিত করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। তাছাড়াও মুসলিমা খাতুন যে মেয়েটি হাসপাতালে ও বাড়িতে মায়ের সেবা করেছেন তার শহরের পল্লবী লেইনের বাড়িটিও লকডাউন করা হয়েছে।

তবে একাধিক সুত্র বলছে, চকরিয়ার খুটাখালীতে মুসলিমা খাতুনের সংস্পর্শে আসা আত্মীয়স্বজন এখনও অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!