কক্সবাজারের প্রথম করোনা রোগী ‘ওমরাহ ফেরত’, পুরো পরিবার কোয়ারেন্টাইনে

কক্সবাজারের প্রথম করোনা রোগী ‘ওমরাহ ফেরত’, পুরো পরিবার কোয়ারেন্টাইনে

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

সৌদি আরব থেকে ওমরাহ থেকে ফিরেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে কক্সবাজার জেলায় সনাক্ত হওয়া প্রথম করোনা রোগী মুসলিমা খাতুন। গত ১৩ মার্চ তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেন।

মুসলিমা খাতুন করোনা রোগী হিসেবে সনাক্ত হওয়ার পর তিনি যে বাড়িতে থাকতেন সেটিকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইন’ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সাথে ওই পরিবারে থাকা ৬ জন সদস্যকে বাধ্যতামুলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

মুসলিমা খাতুনের ছেলে ও কক্সবাজার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমানও বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, তার পরিবারে তিনি ছাড়াও স্ত্রী, একজন কাজের মেয়ে এবং দুই ছেলে ও এক রয়েছেন। বর্তমানে তারা অনেকটা ‘বন্দি’ অবস্থার মধ্যে পড়েছেন নিজের বাড়িতে। বাইরে পুলিশ বাড়িটির সামনে অবস্থা নিয়েছে এবং বাড়ির বাইরে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’র ব্যানার টানিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ওমরা থেকে বাড়ি ফিরেই তার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি একই সাথে সর্দি, জ্বর, কাশি ও গলা ব্যথায় ভুগেন। তাকে ১৮ মার্চ কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তার করোনা হয়েছে বলে সন্দেহ করেন।

কক্সবাজারের প্রথম করোনা রোগী ‘ওমরাহ ফেরত’, পুরো পরিবার কোয়ারেন্টাইনে

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান, মুসলিমা খাতুন নামের ওই বয়স্কা রোগী কয়েকদিন আগে থেকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার রোগের লক্ষণে করোনা ভাইরাস মনে হওয়ায় তার শরীরের স্যাম্পল পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে তার রিপোর্ট ঢাকা থেকে কক্সবাজার পাঠানো হয়। সেখানে তার রিপোর্টে করোনা ভাইরাসের জীবাণু পজেটিভ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, আমাদের পরিবারের প্রায় সকলেই আমার মায়ের সংস্পর্শে এসেছিলাম। এ কারণে সবাই আশঙ্কায় রয়েছি। তাই আমাদের সবাই হোম কোয়ারাইন্টাইনে রয়েছি।

তবে মায়ের চিকিৎসা নিয়ে তিনি বলেন, মায়ের চিকিৎসা নিয়ে আমাদের করার কিছু নেই। সরকার যেভাবে তার চিকিৎসা ব্যবস্থা করবে সেভাবেই হবে।

তিনি তার পরিবারের বিষয়টিও সব সময় পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি আকুতি জানিয়েছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, পুলিশ অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোলাইমানের বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইন বাস্তবায়ন করেছে। বাড়ির সামনে সচেতনতার জন্য কোয়ারেন্টাইন ব্যানার টানিয়ে দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্যগত ও চিকিৎসার বিষয়টি সিভিল সার্জন দেখবেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, কক্সবাজারে প্রথম সনাক্ত হওয়া করোনা রোগীটি বিদেশফেরত। আমাদের স্থানীয়দের মধ্যে কেউই আশঙ্কার মধ্যে নেই। তারপরও সবাইকে কোনোভাবে সতর্কে অবহেলা করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!