করোনা আতঙ্কে কয়েদি মুক্তি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) থাবায় বিশ্বব্যাপী সাড়ে ১৪ হাজারের অধিক লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে মহামারি ভাইরাসটির আতঙ্কে ইরানের পথ ধরে বিপুল সংখ্যক কারাবন্দিকে সাময়িকভাবে মুক্তি দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, রবিবার (২২ মার্চ) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সহিংস কর্মকাণ্ড না ঘটিয়ে অন্য যে কোনো কারণে যারা কারাগারে রয়েছেন, তাদের সবাইকে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন।

প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, আমাদের কাছে বিচারবিভাগ থেকে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। আমরাও এসব নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেছি। এখনো কিছুটা সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা কেবল সহিংস ঘটনা ছাড়া যারা অন্য কারণে কারাগারে বন্দি রয়েছেন, তাদের বিষয়টি ভেবে দেখছি। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায়, কেবল তাদের ব্যাপারেই বলেছি, ঠিক আছে আপনাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

এর আগে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক কারাবন্দিকে মুক্ত করে দিয়েছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। যদিও ভাইরাসটির প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আসলে তাদের পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছে তেহরান সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস ও ওহিওসহ আরও অন্যান্য রাজ্যগুলোর কারাগারে বন্দি হালকা মাত্রার অপরাধীদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া যারা অসুস্থ এবং বয়স্ক, এবার তাদেরও বিশেষ বিবেচনায় ছেড়ে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মার্কিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৫৪৬ জন। তাছাড়া মারা গেছেন আরও ৪১৯ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, উৎপত্তিস্থল চীনের সীমা অতিক্রম করে এর মধ্যে বিশ্বের অন্তত ১৯২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। বিশ্বব্যাপী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৩ লাখ ৩৭ হাজার মানুষ। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যাও এরই মধ্যে ১৪ হাজার ৬৪৭ জনে পৌঁছেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনা ভাইরাস মানুষ ও প্রাণীদের ফুসফুসে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসজনিত ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস।

ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হওয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো- শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া ইত্যাদি। তাছাড়া শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিষ্ক্রিয় হয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। বর্তমানে সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো ভাইরাসটি নতুন হওয়ায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় সংক্রমিত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা। তাই মানুষের শরীরে এমন উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!