বাসর ঘর চুরমার করল ‘করোনা আতঙ্ক’, ইউএনও বললেন- কিছু করার ছিল না!

বাসর ঘর চুরমার করল ‘করোনা আতঙ্ক’, ইউএনও বললেন- কিছু করার ছিল না!

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে বিয়ে করতে এসেছিলেন তিনি। দুবাইয়ের দিরহাম কামানো এই যুবক অনেক স্বপ্ন এসেছিলেন দেশে। বিয়েও ঠিক করা ছিল আগে থেকেই। বিদেশ থেকে ফেরার ৫ দিনের মাথায় বিয়ের সানাইও বাজলো। গত ১৯ মার্চ নববধূকে ঘরে তুললেন। কিন্তু এ কী হায়! স্বপ্নের সেই রাজ্যের বাধ সাধলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা। বিয়ে করলেও বাসর করতে পারবেন ওই ‍যুবক! সেই যুবকের আর স্বপ্নের বাসর রাত আর কাটানো হলো না!

এমনই ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজারের কাছের উপজেলা উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইলপাড়া গ্রামে।

ধুমধাম করেই বিয়ের আয়োজন চলছিল। বরযাত্রীসহ উভয়পক্ষের শ-পাঁচেক লোক খাওয়ানোও হয়েছে। বড় এমাউন্টের মোহরানা দিয়ে বিয়েও পরিয়ে দিয়েছেন কাজী। কণের বাড়ি ছিল উখিয়ার জালিয়াপালং এলাকায়। সেখান থেকে কণে গেলেন শ্বশুরবাড়িতে। এবার চলছিল বাসর ঘর সাজানোর প্রস্তুতি। সেই খবর পৌঁছে গেলো উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নিকারুজ্জামানের কানে। তিনি দলবল নিয়ে হাজির বরের বাড়িতে। সাথে আসলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আর পুলিশ।

ইউএনওর এই বহর দেখে বরের বাড়ির লোকজন এদিক-ওদিক পালাতে শুরু করলেন। এরই ফাঁকে ইউএনও নিকারুজ্জামান সমাজের সর্দার ও বর-কণের বাবাকে ডাকলেন এবং সমঝোতার চেষ্টা করলেন। বর-কণের বাবার কাছ থেকে মুচলেকাও নিলেন।

কী আছে সেই মুচলেকায়
নতুন বিয়ে হওয়া বর-কণের বাবার কাছ থেকে এই বলে মুচলেকা নিলেন ইউএনও যে, বিদেশফেরত বর দেশে আসার ১৪দিন পার না হওয়া পর্যন্ত কণের বাবা তার মেয়েকে বরের বাড়িতে কোন অবস্থাতেই যেতে দেবেন না। একইভাবে বরও ১৪ দিন পার না হওয়ার আগে শ্বশুরবাড়িতে যাবেন না। তাকে কমপক্ষে ১৪ দিন ‘হোম কোয়ারান্টাইনে’ থাকতে হবে।

এই মুচলেকা দিয়ে কণের বাবা তার মেয়েকে শ্বশুরবাড়ি রাজাপালং ইউনিয়নের ডেইল পাড়া থেকে জালিয়াপালং এলাকার নিজের বাড়িতে নিয়ে আসতে বাধ্য হলেন।

উখিয়ার ইউএনওর এই বেরসিক ভূমিকায় বরের বাড়ির বাসরঘরে সাজানো সব ফুল পঁচতে শুরু করল। ওই সময় ইউএনওর কঠিন সিদ্ধান্ত দেখে বর-কণে উভয়পক্ষই মানসিকভাবে ভেংগে পড়েন, তাদের চোখ ভরে যায় অশ্রুতে!

এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নিকারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাটি একজন মানুষ হিসাবে আমার খুবই খারাপ লেগেছে। কিন্তু হাজারজনকে বাঁচানোর জন্য দুইজনের একটু মানসিক ক্ষতি হলেও জনস্বার্থে আমার আর কিছুই করার ছিল না।

তিনি বলেন, করোনা নামের মহামারি সংক্রমন থেকে সবাইকে বাঁচাতে নববিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর বাসররাত কাটানোর সেই স্বপ্ন আমাকে অত্যন্ত নির্মমতার সঙ্গে চুরমার করে দিতে হয়েছে।

এভাবেই ভয়ংকর করোনা ভাইরাস আমাদের সামাজিক আচার অনুষ্টানকে করে তুলেছে বিষাদময়। স্বামী-স্ত্রীর বাসররাতেও হানা দিচ্ছে করোনা নামের আতঙ্ক। এই দেখে এলাকার মানুষও হতভম্ব। সবাই বলছিলেন, ‘হায়রে করোনা, তুই এত নিষ্টুর!’

এদিকে উখিয়া উপজেলায় ২৯ জন বিদেশফেরত ব্যক্তি ‘হোম কোয়ারেন্টিনে’ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউএনও মোঃ নিকারুজ্জামান। এছাড়াও গত ১৭ মার্চ অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা একজন রোহিঙ্গা ১২ নাম্বার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের ইনচার্জের অধীনে সেখানকার হাসপাতালে কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন। তিনি নিজে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক এবং তার স্বজনদের দেখতে অস্ট্রেলিয়া থেকে কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে এসেছেন বলে জানালেন ইউএনও মোঃ নিকারুজ্জামান।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!