ইতালি প্রবাসি মামুন মারুফকে কী বলেছিল ‘করোনাভাইরাস’?

টেকনাফে বিদেশফেরত নারী চিকিৎসক ‘সেল্ফ কোয়ারেন্টাইনে’

আনছার হোসেন
ডেস্ক রিপোর্ট
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বাংলাদেশের প্রতিথযশা একজন আলেম মুফতি কাজী ইব্রাহিম। তিনিই একটি বয়ানে প্রথম প্রকাশ করেন ইতালি প্রবাসি এক যুবক মামুন মারুফের সাথে সারাবিশ্বের এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত সংক্রামক রোগ ‘করোনা ভাইরাসে’র সাথে স্বপ্নে সাক্ষাতকারের বিষয়টি। এটি মুফতি কাজী ইব্রাহিম ওই যুবকের দেখা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্তির একটি সমাধানও দিয়েছেন, যার কোড নাম ছিল 1.Q7+6=13।

করোনা ভাইরাসের সাথে স্বপ্নে দেখা হওয়ার সেই আলোচিত সাক্ষাতকারটি কক্সবাজার ভিশন ডটকম পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। তাহলে পড়ুন কী ছিল সেই সাক্ষাতকারে!

ইতালি প্রবাসি মামুন মারুফ বলেন, আমি প্রতিদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমাতে যাই। প্রতিদিনের মতো সেদিনও রাত সাড়ে ১২টায় ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুমের মধ্যে হঠাৎ কদম ফুলের মতো করোনা ভাইরাসকে দেখি। এটা দেখতে অনেকটা গোলাকার এবং কাঁটাযুক্ত ছিল। ভাইরাসটা আমার সাথে কথা বলা শুরু করল।

মামুন মারুফ বলেন, আমি তাকে (করোনা ভাইরাস) জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমরা পৃথিবীতে কখন আসছ?’

করোনা ভাইরাস জবাব দেয়, ‘আমরা ২৩ অক্টোবর ২০১৯ সালে চীনে এসেছি। যখন আয়েশা নামের এক মুসলিম মেয়েকে তিনজন চাইনিজ সৈন্য মিলে ধর্ষণ করে। এবং সেই ধর্ষণে সে নিহত হয়। মৃত্যুর আগে সে যখন চিৎকার করে- চাইনিজ সৈন্যরা তার ঠোঁট সেলাই করে দেয়। তখন আল্লাহ তায়ালা আমাদের (করোনা ভাইরাস) নির্দেশ করলেন, “তোমরা যাও, চীনের অধিবাসীদের আক্রমণ কর।”

মামুন বলেন, আমি করোনা ভাইরাসকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমরা চীন দেশে কেন আসলে? পৃথিবীর অনেক দেশেই তো মুসলিমদের অনেক অত্যাচার এবং নির্যাতন করা হচ্ছে। যেমনঃ রোহিঙ্গায়, লিবিয়ায়, সিরিয়ায়। তাহলে আল্লাহ তায়ালা কেন তোমাদের চীনে আসার জন্য নির্দেশ দিলেন?’

করোনা ভাইরাস জবাব দেয়, ‘সেটা এইজন্য যে, একমাত্র একটা দেশ যার নাম চীন এবং নির্যাতিত এলাকার নাম হলো উইঘুর। চীনারা ইউঘুরের মুসলিমদের বিশাল বিশাল প্রাচীরের মধ্যে আটকে রেখে অমানবিক অত্যাচার, নির্যাতন করতেছে। এই নির্যাতনের খবর পৃথিবীর কারো জানার সাধ্য নাই। চীনারা এই নির্যাতনের খবর পৃথিবীর কাউকে জানতে দেয়নি।’

করোনা বলে, ‘এইজন্য নির্যাতিত সকল মানুষের আর্তনাদ, চিৎকার তারা একমাত্র তাদের প্রভুকে জানিয়েছে। এইজন্য আল্লাহ রাগান্বিত হয়েছেন। আয়েশা নামের ওই মেয়ের ধর্ষণজনিত হত্যাকান্ডের পরে আল্লাহ তায়ালা আমাদের পাঠিয়েছেন, “যাও, এখন প্রতিশোধ নাও”। যার কেউ নাই তার আল্লাহ আছে। এই জন্য আমরা চীনে এসেছি। প্রথমে ওই তিন ধর্ষক সৈনিক মারা যায় আমাদের আক্রমণে এবং এরপরে ওই দুই পাহারাদার সৈনিক। যে চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা করেছিল সেও মারা যায়।’

মামুন মারুফ : ‘তোমরা পৃথিবীতে কী করবে?’

করোনা ভাইরাস : ‘এরা যা বলে যে, আমরা পৃথিবীতে এসেছি। আবার চলে যাব, সেটা না। আমরা পৃথিবীর সাত ভাগের একভাগ মানুষকে মেরে দিয়ে যাব। সাড়ে ৮শ কোটির মধ্যে ১০০ কোটির বেশি মানুষকে আমরা মারব। তবে সবচেয়ে বেশি মারব আমরা বৌদ্ধ জাতিকে। যেমন- চীন, কোরিয়া এই শ্রেণীর, যারা মুসলিমদের অত্যাচার, নির্যাতন করেছে। এদের অবস্থা হবে ভিক্ষুকের মতো। তারা অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করে খাবে। এইরকম অবস্থা তৈরি করে দিয়ে যাব।’

মামুন মারুফ : ‘এরপরে তোমরা চীন থেকে কোথায় যাবে?’

করোনা ভাইরাস : ‘এরপরে আমরা উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকায় যাব। প্রথমে উত্তর আমেরিকায় আমরা আক্রমণ করব। সেখানে অনেকে ইসলামের ছায়াতলে এসে আশ্রয় নেবে। এরপরে আমরা যাব দক্ষিণ আমেরিকায় এবং এর সাথেই ইরানে। কারণ, ইরানের লোকজন পবিত্র কোরআনকে পরির্বতন করে ইসলামকে কলুষিত করেছে। ইরান থেকে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল দিয়ে আক্রমণ করব। সেখানে যারা মুনাফিক তাদের আমরা আক্রমণ করব। এরপরে আমরা যাব আরব মধ্যপ্রাচ্যে, সেখানে যারা মুনাফিক তাদের আমরা আক্রমণ করব। ১০০ কোটির বেশি মানুষকে আমরা মেরে ফেলব।’

মামুন মারুফ : ‘তোমরা যে মুসলিমসহ বিভিন্ন দেশে হামলা করবে সেখানে তো ঈমানদার লোকও মারা যাবে?’

করোনা ভাইরাস : ‘না। যারা অজু করে, সালাত পড়ে। যারা খাঁটি আল্লাহর বান্দা, তাদের কিছুই হবে না। যারা অজু করে, তাদের দুই হাত থেকে, তাদের দুই চোখ থেকে, চেহারা থেকে একটা আলো বের হয়। সেই আলো শুধু আমরা দেখতে পাই, মানুষ দেখতে পায় না। এইজন্য খাঁটি মুসলিমদের আমরা আক্রমণ করি না।’

মামুন মারুফ : ‘আমাদের বাংলাদেশ নিয়ে তোমাদের কী চিন্তা-ভাবনা?’

করোনা ভাইরাস : ‘পৃথিবীর অন্য কোন দেশেও এতো আলোচনা নাই ইসলাম নিয়ে, যত আলোচনা আছে বাংলাদেশে। এইজন্য তোমাদের ব্যাপারে আমাদের কোন আক্রমণের পরিকল্পনা নাই। তবে তোমাদের দেশের মধ্যে যারা মুনাফিক, আল্লাহ বিরোধী তাদের আমরা ছাড়ব না।’

মামুন মারুফ : ‘তোমাদের থেকে বাঁচার উপায় বা এর চিকিৎসা কী?’

করোনা ভাইরাস : 1.Q7+6=13 হলো করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন বা ঔষধ।’

মামুন মারুফ : ‘এরপরে তোমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা কী?’

করোনা ভাইরাস : ‘আমরা এখন আছি Cobit-19 ভাইরাসে। এটা আরো আপগ্রেড হয়ে আমরা আক্রমণ করব ইন্ডিয়াকে। আমরা নিচ থেকে উপরের দিকে যাব। দিল্লি হয়ে কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে যাব। পাকিস্তানে যারা বেঈমান, মুনাফিক, কোরআন বিরোধী তাদের আক্রমণ করব। তবে আফগানিস্তানেও আমরা কিছু করবো না, কেননা তারা হলেন ইমাম মাহাদীর ভাই! আমরা ইহুদী সম্প্রদায়কেও তেমন কিছুই করতে পারব না। কারণ তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ইহুদীদের মারবেন ঈসা (আঃ)।’

মামুন মারুফের স্বপ্নে দেখা সেই সাক্ষাতকারকে ঘিরে এক আলোচনায় মুফতি কাজী ইব্রাহিম ব্যাখ্যা দিয়ে করোনা থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে 1.Q7+6=13 সুত্র তুলে ধরেন এবং তার কুরআনিক ব্যাখ্যা দেন। তাঁর সেই ব্যাখ্যাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রল হতে শুরু করে। তিনি দাবি করেন, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিস্কারের সুত্রও তিনি জানেন, কিন্তু বলবেন না!

মুফতি ইব্রাহিম কী ব্যাখ্যা দিলেন সেই সুত্রের?
1.Q7+6=13 এই সূত্রের অর্থ সম্পর্কে মুফতি ইব্রাহীম বলেন, ‘এইটা একটা জটিল বিষয়। এইটার আলোকে ও (মামুন মারুফ) চেষ্টা করতেছে কোনো ভ্যাকসিন আবিস্কার করা যায় কিনা। 1 মানে আল্লাহ এক। এক আল্লাহর প্রতি ফেইথ থাকতে হবে। ফেইথ যদি না থাকে, ঈমান যদি না থাকে তাহলে কোনো কিছুই কাজে আসবে না। অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তার প্রতি অবিচল থাকতে হবে। Q মানে কুরআন। Q7 হলো কুরআনের সুরা ফাতিহার ৭টি আয়াত। এই ৭টি আয়াত তো এমনিতেই শেফা, ৭ বার সুরা ফাতিহা পড়লে যে কোনো রোগব্যাধি থেকে এমনিতেই মুক্তি আসে। এইটা বিশাল একটা সূত্র। এর অনেক ব্যাখ্যা আছে। আমাকে সে (মামুন মারুফ) যে কথাগুলো বলেছে তা প্রত্যেকটি সায়েন্টিক বলে মনে হয়েছে। আমরা তো ওষুধ কম্পানিও না, সেইটা বানানোর মতো ক্ষমতাও নাই। সে যদি পারে ব্যক্তিগতভাবে, তাহলে উপকার করার চেষ্টা করবে, এই আর কি …।

সুত্র : অনলাইন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!