নতুন আসা কোন বিদেশি ‘কোয়ারেন্টাইন’ ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষিদ্ধ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা সংক্রমণ, আতঙ্কে ৩৬০ স্থানীয় পরিবার!

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে নতুন কোন বিদেশি যেতে চাইলে তাকে ক্যাম্পে যাওয়ার আগে কমপক্ষে ১৪ দিন কোয়ারান্টাইনে থাকতে হবে। কোয়ারাইন্টানে থেকে আশংকা মুক্ত হলেই কেবল প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ক্যাম্পে যেতে পারবেন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রশাসন এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগে থেকেই কর্মরত বিদেশিরা এ নির্দেশনার আওতায় পড়বে না। কেননা, তারা আগে থেকেই ক্যাম্পে কাজ করার কারণে তাদের স্বাস্থ্যগত অবস্থা সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের মতোই।

‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা প্রতিরোধে বিদেশি নাগরিকদের আনাগোনায় কি ব্যবস্থা নিয়েছেন’- এমন প্রশ্নে কক্সবাজারের শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) ও সিনিয়র যুগ্ম সচিব মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার সংবাদমাধ্যমকে এমন তথ্য জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কি কি প্রদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৪৭টি করোনা ভাইরাস আইসোলেশন বেড রেডি করা আছে। প্রয়োজন হলে আরও ১৫০ শয্যার বেড প্রাথমিকভাবে প্রাকপ্রস্তুত রাখা হয়েছে। যেটা জরুরিভিত্তিতে ব্যবহার করা যাবে।

নতুন আসা কোন বিদেশি 'কোয়ারেন্টাইন' ছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষিদ্ধ

আরআরআরসি মোঃ মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোন করোনা ভাইরাস জীবাণু আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়নি। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলো এ বিষয়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কাজ করছে।

তার মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড়, ছোট, মধ্যম মিলিয়ে প্রায় ২০৭টি স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক কেন্দ্রে এক সপ্তাহ ধরে এ সেবা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে থার্মাল স্ক্যানারসহ কোন পরীক্ষা সামগ্রীর অপ্রতুলতা নেই। আধুনিক সব পরীক্ষা সামগ্রী রয়েছে। জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক হাই কমিশনের (ইউএনএইচসিআর) নির্মিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যে খালি ভবনগুলো রয়েছে, জরুরি অবস্থায় প্রয়োজনে সেগুলোও ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

আরআরআরসি বলেন, রোহিঙ্গা প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের হেলথ মনিটরিং টিম এসব ব্যবস্থা ও করণীয় বিষয়ে নিয়মিত মনিটরিং করছে।

আরআরআরসি মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, দেশের স্বাস্থ্য বিভাগীয় ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনাগুলোর পাঠানো করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত লিফলেট, হ্যান্ডবিল ইত্যাদি বার্মিজ ভাষায় অনুবাদ করে ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিলি করা হচ্ছে। যাতে রোহিঙ্গাদের সেগুলো বুঝতে সুবিধা হয়। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আতংকিত না করে তাদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে ক্যাম্পে প্রচুর কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে যাতে মিয়ানমারের কোন নাগরিক সহজে এদেশে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে বিজিবিকে (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও উখিয়া-টেকনাফে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার চলমান লার্নিং সেন্টার, মাদ্রাসা, মক্তব গত ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

শরণর্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় থেকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সোমবার (১৬ মার্চ) এক আদেশে এ ঘোষণা দেয়া হয়, যা কার্যকর রয়েছে।

ওই আদেশে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছাড়া সব ধরণের জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্যও বলা হয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!