প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কথিত আত্মগোপন’ ও ‘কল্পিত ইতিহাস’ তৈরি!

কক্সবাজারে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ‘কথিত আত্মগোপন’ ও ‘কল্পিত ইতিহাস’ তৈরির অভিযোগ তুলল ‘বোয়াফ’!

বিশেষ প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের ‘ইনানীতে বঙ্গবন্ধুর অজ্ঞাতবাস’ ও সেই ‘কথিত আত্মগোপন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, কল্পিত এলাকা’য় বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ) নামের একটি সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছে, ‘পিতা মুজিবের চরিত্র হনন করতে’ একটি গোষ্টি বঙ্গবন্ধুর নামে কথিত আত্মগোপনের ইতিহাস প্রচার করে যাচ্ছে।

ওই সংবাদ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিয়ে ‘মিথ্যা ইতিহাস’ সৃষ্টি করার জন্য কক্সবাজারের একজন সিনিয়র সাংবাদিকের প্রতি ইঙ্গিত করে সেই সাংবাদিকের লেখা ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ প্রকাশিত ইনানীতে বঙ্গবন্ধুর ‘অজ্ঞাতবাস’ শিরোনামের সংবাদের কপি সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সাংবাদিক তোফায়েল আহমদই সর্বপ্রথম এই ধরণের সংবাদ প্রকাশ করে ‘কথিত আত্মগোপন, মিথ্যা, তথ্যহীন, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কল্প কাহিনী’ প্রচার করেছেন।

প্রশাসন যদি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এই অপপ্রচার বন্ধ না করে এবং ইনানীর চেংছড়িতে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ নিয়ে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ) আদালতের আশ্রয় নিতে বাধ্য হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম কক্সবাজার শাখার আহবায়ক মো. ওয়াহিদুর রহমান রুবেল, যিনি কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমানে জাতীয় ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি সানের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিকালে কক্সবাজার পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওয়াহিদুর রহমান রুবেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে পিতা মুজিবের চরিত্র হনন করতে একটি গোষ্টি বঙ্গবন্ধুর নামে কথিত আত্মগোপনের ইতিহাস প্রচার করে যাচ্ছে। এতে জাতির শ্রেষ্ট সন্তান বঙ্গবন্ধুর আপোষহীন চরিত্র যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তেমনি নতুন প্রজন্মের কাছে বিভ্রান্ত ইতিহাস রচনা করা হচ্ছে। আমরা চাই জাতির শ্রেষ্ট সন্তান বঙ্গবন্ধুর নামে সব ধরণের অপপ্রচার ও মিথ্যাচার বন্ধ করা হোক।

তার মতে, ১৯৫৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলীর মর্মান্তিক মৃত্যুকে পুঁজি করে ইস্কান্দর মির্জা ৭ অক্টোবর দেশে সামরিক শাসন জারি করেন। মাত্র চারদিনের মাথায় ১২ অক্টোবর শেখ মুজিব রহমানকে আটক করা হয়। এ সময় তাকে দেড়বছর বিনাবিচারে আটক রাখে। কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে ৬টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে সরকার (প্রমাণ স্বরূপ- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আসামি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জবানবন্দিতে তিনি নিজেই বলে গেছেন)। অথচ সামরিক শাসন জারির পর শেখ মুজিবুর রহমান নাকি পালিয়ে আত্মগোপনে এসেছিলেন কক্সবাজারের ইনানী চেংছড়িতে।

রুবেল বলেন, ২০০৯ সাল থেকে এমন একটি কাল্পনিক ইতিহাস প্রচার করা হয়। ভিত্তিহীন ওই গল্পের উপর ভর করে একটি স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন করা হচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমার সংগঠন ‘বোয়াফ’ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নামে মিথ্যাচার বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

ওয়াহিদুর রহমান রুবেল প্রশ্ন তুলে বলেন, বঙ্গবন্ধুর নামে প্রচারিত কাল্পনিক ইতিহাসে বলা হয়, ‘সামরিক শাসন জারির পর ভিন্ন একটু সময় কাটানোর জন্য সাগরপথে পালিয়ে সোনাদিয়া হয়ে কক্সবাজারে আসেন। কক্সবাজারে এসে খবর দেন আওয়ামী লীগ নেতা একেএম মোজাম্মেল হককে। তিনি তৎকালিন ছাত্রলীগ নেতা লোকমান হাকিমকে দিয়ে ইনানীতে পাঠিয়ে দেন। বঙ্গবন্ধু আরাম আয়েশে থাকতে চাননি। চলে যান গহীন অরণ্যে। তাকে আশ্রয় দেন উপজাতির দাপুটে নেতা ফেলরং রোয়াজা চাকমা। তাকে রান্না করে খাওয়াতেন ছকিনা নামে এক মহিলা।’ অপরদিকে ‘যে বাড়িতে বঙ্গবন্ধু আশ্রয়ে ছিলেন বলে প্রচার করা হয়, সে উপজাতি পরিবারের দাবি- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু তাদের বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন। অত্যন্ত সুকৌশলে বঙ্গবন্ধুর নামে মিথ্যা, কাল্পনিক, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ইতিহাস প্রচার করা হয়, যেন তাদের আসল উদ্দেশ্য সফল হয়!

তার প্রশ্ন, যদি ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারির পর বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকেন, তবে কিভাবে তিনি পালিয়ে আসেন?

তার দ্বিতীয় প্রশ্ন, কক্সবাজার মহকুমা ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৬২ সালে। তাহলে কিভাবে লোকমান হাকিম মাস্টার ১৯৫৮ সালে ছাত্রলীগের নেতা হয়?

লিখিত বক্তব্যে রুবেল দাবি করেন, ছকিনার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছেন- এক সাংবাদিকের শিখিয়ে দেয়া কথাই তিনি বলেছেন। তাকে ঘর বানিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলো। তাদের দাবি, ছকিনা রান্না করে খাইয়েছিলো বলে প্রচার করলেও জমি দখল করতে ছকিনার পিতা ও ভাইকে ‘রাজাকার’ বলতো সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা এবং চাকমার ছেলে!

ওয়াহিদ রুবেল বলেন, মোজাম্মেল হক বা লোকমান হাকিম মাস্টার, ছকিনা কিংবা যারা জড়িত সবার প্রতি সম্মান রেখে বলছি, ‘কাল্পনিক ইতিহাস প্রচার করতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সু-কৌশলে জড়িয়ে নিয়েছেন। যা মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন জাগে- প্রয়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হককে সম্মান দেয়া হচ্ছে নাকি অসম্মান করা হচ্ছে? তাও ভাবতে হবে।

তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি- যদি ‘কাল্পনিক’ ইতিহাসের যদি কোন তথ্য প্রমাণ থাকে, তবে কাগজপত্র নিয়ে বসতে বলুন। যদি প্রমাণ করতে না পারেন, তবে পিতা মুজিবের নামে অপপ্রচার বন্ধ করে সঠিক ইতিহাস রচনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হয়, বঙ্গবন্ধুর ‘কাল্পনিক’ ইতিহাস রচনা করে ওই স্থানে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ১৯ বসবাসকারি পরিবারকে উচ্ছেদ করার জন্য মামলা দায়ের করা হয়। অথচ, স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক ও তার পুত্রের পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে মাত্র।

রুবেলের দাবি, বর্তমানে প্রশাসনের দখলে নেয়া বসতভিটায় সুপারি বিক্রির জন্য ১৮ লাখ টাকায় লিজ (বন্ধক) দেয়া হয়েছে। রবিঅং চাকমা এই লীজ (বন্ধক) প্রদান করেন সোনারপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীকে।

তিনি প্রশ্ন তুলেন, যদি প্রশাসন ওই জমি দখলে নিয়ে থাকেন, তবে রবিঅং চাকমা কিভাবে লিজ দিয়েছেন? লিজের টাকা কেন প্রশাসন পায়নি? এ টাকা গেল কোথায়? কেন প্রশাসন জানে না লিজের বিষয়টি?

ওয়াহিদুর রহমান রুবেল দাবি করেন, আমরা জেনেছি , বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা নিয়ে বঙ্গবন্ধুর চরিত্র হননের মিশনে নেমেছে একটি গোষ্ঠি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক মো. রিয়াদ, সদস্য সাইফুল ইসলাম, মোস্তফা, বিপ্লব, মোর্শেদ, নাহিদ, শামীম প্রমূখ।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!