টেকনাফে আসছে মিয়ানমারের গরু-মহিষ, ‘করোনা’ সনাক্তের ব্যবস্থা নেই

করোনা ভাইরাস: টেকনাফ সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা

নুরুল হক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে পশুর (গরু-মহিষ-ছাগল) করিডোরে ‘করোনা ভাইরাস’ শনাক্তের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এখনও পর্যন্ত সীমান্তে বাংলাদেশ-মিয়ানমার পণ্য ও পশু আমদানি রপ্তানি অব্যাহত রয়েছে। এসব পণ্য ও পশু স্থলবন্দর ও করিডোর দিয়ে উঠা-নামা করছে।

তবে বন্দরে ভাইরাস সনাক্তে মিয়ানমারের কার্গো ও ট্রলারের মাঝিমাল্লাদের পরীক্ষা করা হলেও সাবরাং শাহপরীর দ্বীপের পশুর করিডোরে এখনো কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে আতংক।

এ নিয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, জনবল ও লজিষ্টিক সাপোর্টের অভাবে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে মেডিকেল টিম কাজ না করলেও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকদের মাধ্যমে নজরদারি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ‘করোনা ভাইরাস’ সনাক্তে গত ২৯ জানুয়ারি থেকে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি মেডিকেল টিম টেকনাফ স্থলবন্দরে কাজ করছে। তবে মিয়ানমার থেকে পণ্য নিয়ে আসা সেদেশের নাগরিকদের থার্মাল প্লাস দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শুভ্র দেব।

চিকিৎসক শুভ্র দেব বলেন, ‘এ পর্যন্ত অন্তত ২শ জনের মতো মিয়ানমার নাগরিকের ভাইরাস সনান্তের পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কোন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে প্রথমে জানতে চাই, শরীরে কোন ট্রাভল করছে কিনা? পরে থার্মাল প্লাস দিয়ে পরীক্ষা করি। তারপর জ্বর-সর্দি, কাশি ও শরীরের তাপমাত্রা বাড়তি কিনা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তবে ভাইরাস সনাক্তের পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। তবে যে ব্যবস্থায় ভাইরাস শনাক্তের কাজ করছি, তাতে নিজেদেরও ঝুঁকি রয়েছে।’

এদিকে ঢাকায় তিনজন বাংলাদেশি করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে বাড়তি সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

সীমান্ত বাণিজ্যের আওতায় টেকনাফ স্থলবন্দর ও করিডোরে বিভিন্ন পণ্য ও পশু বোঝাই জাহাজ ও ট্রলারের যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু করিডোরের চেয়ে স্থলবন্দরে মিয়ানমারের পণ্য বেশি আসা যাওয়া করায় স্থলবন্দরে মেডিকেল টিম কাজ করছে। কিন্তু শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে ভাইরাস শনাক্তে এখনো কোন কার্যক্রম নেয়া হয়নি। এই করিডোরে প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে ট্রলারে শত শত গরু-মহিষ আসে। এসব ট্রলারে করে আসে সেদেশের নাগরিকরাও। এ সকল মিয়ানমার নাগরিকদের ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা করা হয় না। তাছাড়া সেদেশ থেকে যে সব পশু আসছে তারও কোন পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।

স্থানীয়দের দাবি, করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সারাবিশ্বে মহামারি ঘোষণা করেছে। এ ভাইরাসটি বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি আমাদের দেশেও প্রবেশ করেছে। এ পর্যন্ত দেশে দুই দফায় পাঁচজনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে সীমান্ত এলাকায় স্থলবন্দর ও করিডোরে তদারকির ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি করছেন তারা।

টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের ব্যবস্থাপক মো. জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘এ ভাইরাস নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে। মিয়ানমার থেকে আসা মাঝি মাল্লাদের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে প্রতিদিন মেডিকেল টিম দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তবে আগের তুলনায় মিয়ানমার থেকে পণ্য আসা কিছুটা কমেছে।’

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টিটু চন্দ্র শীল বলেন, ‘স্থলবন্দরে ভাইরাস শনাক্তে মেডিকেল টিম মিয়ানমারের ট্রলারে আসা মাঝিমাল্লাদের থার্মাল প্লাস দিয়ে পরীক্ষা করছে। খুব দ্রুত সময়ে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরেও টিম কাজ করবে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি আইসোলেশন রুম খোলা হয়েছে। তাছাড়াও এই ভাইরাস সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!