মেয়র নাছিরের শেষ সেলফি!

মেয়র নাছিরের শেষ সেলফি!

‘যেতে নাহি দিব হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।’ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এ পঙ্ক্তিমালায়ই যেন লেখা হয়ে গেল পৃথিবীর আদি ও অবিনশ্বর বিধান। সে যেই হোক, একদিন ছেড়ে যেতে হবে নিজ স্থান, ছেড়ে দিতে হবে নতুনের জন্য।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদের চার বছর আট মাস সময় পূর্ণ হয়েছে আজ (বুধবার)। দায়িত্ব পালনের এ ধারাবাহিকতায় এদিন দুপুরে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় চসিকের ৫৬তম সাধারণ সভা। মাত্র চারটি মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠানের পর মেয়াদ পূর্ণ হবে এ পরিষদের। শেষ হবে চসিকের পঞ্চম পরিষদের দায়িত্ব।

সিটি করপোরেশনের আগামী পরিষদের সাধারণ সভায় থাকবেন না অনেকেই। একই বাগানে আসবে নতুন কুঁড়ি, থাকবে না শুধু আজকের মালিরা! তাই আজকের স্মৃতি ধরে রাখতে সাধারণ সভায় উপস্থিত কাউন্সিলর, সংরক্ষিত কাউন্সিলর, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সেলফিবন্দি হন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। নিজের মোবাইলে ধরে রাখেন সাধারণ সভার ছবি।

মেয়র নাছির উদ্দিনের এ সেলফিকাণ্ডে উপস্থিত সবাই স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন বলে জাগো নিউজকে জানান সভায় উপস্থিত বেশ কয়েকজন।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপিপ্রার্থী মনজুর আলমকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। ওইদিন রাতেই আ জ ম নাছিরকে নির্বাচন কমিশন বিজয় ঘোষণা করলেও আইনি জটিলতায় প্রায় তিন মাস পর তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সে হিসেবে নতুন মেয়র নির্বাচিত হলেও আগামী আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্বপালন করবেন মেয়র আ জ ম নাছির।

মেয়র নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে আজকের সাধারণ সভায় বিগত সভার কার্যবিবরণী আলোচনাসাপেক্ষে অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার নির্দেশিত মুজিববর্ষের কর্মসূচি পুনর্বিন্যাস অনুযায়ী চসিকের কর্মসূচিও পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় সিটি মেয়র নাছির উদ্দিন বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে চসিকের পূর্বনির্ধারিত সব ধরনের জমায়েত বা সমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। সকালে চসিক পুরোনো কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, কেক কাটা অনুষ্ঠান পালিত হবে। এছাড়া চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়ামসহ নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে রাত ৮টায় আতশবাজি পোড়ানো হবে। ১০টি সেল করে এ আতশবাজি পোড়ানো হবে। একই সঙ্গে নগরীর ১৫টি স্থান থেকে এক হাজার ফানুস উড়ানো হবে।