রোহিঙ্গা এক পরিবারের ৮ জনের হাতে ভোটার আইডি, জড়িয়ে পড়েছে ইয়াবা ব্যবসা ও অপরাধ কর্মকান্ডে

বিবাহ নিবন্ধনে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে আশ্রিত ক্যাম্পে এক রোহিঙ্গা পরিবারের হাতে আইডি কার্ড, তারা বাঙালি বনে ইয়াবা ব্যবসাসহ অপরাধ কমকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তারই সুত্র ধরে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ভোটার আইডি কার্ড বাতিল চেয়ে বিভাগীয় নির্বাচন কমিশনারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আনসার উল্লাহ নামের এক ব্যাক্তি। তিনি টেকনাফের জাদিমুরার মৃত মো. কাশেমের ছেলে। তিনি বাদি হয়ে আবেদনে আটজনকে অভিযুক্ত করেছেন।

আবেদনে অভিযুক্তরা টেকনাফের জাদিমুরা অবস্থান করলেও চট্টগ্রামের আনোয়ারা বাসিন্দা বনে ভোটার আইডি ও স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন দীল মোহাম্মদ, মো. তাহের, মোহাম্মদ ওসমান, আবু বক্কর, মো. ইউনুছ, জুলেখা বেগম, শাকেরা বেগম ও নুর নাহার। এদের মধ্যে মো. তাহের বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অভিযুক্তরা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে টেকনাফের জাদিমুরা এলাকায় বসবাস শুরু করে। দীর্ঘ দিন অপরাধ কমকান্ড চালিয়ে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে সেখান অবস্থান করে। হঠাৎ করে ২০১০ সালে সেখান থেকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ এলকায় চলে যায়। দীর্ঘদিন থাকার পর সেখানকার দালালদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্র ও স্মার্ট কার্ড বানিয়ে ফেলেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট মিয়ানমার নাগরিকদের ঢল নামে বাংলাদেশে। এতে তাদের আত্মীয়স্বজন এপারে পাড়ি জমায়। ফলে তারা চট্টগ্রামের আনোয়ারারে বৈরাগ থেকে আবার টেকনাফের জাদিমুরা এলাকায় ফিরে আসেন। পরে জড়িয়ে পড়েন ক্যাম্পে ইয়াবা ব্যবসায়। তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে ক্যাম্পে ডাকাত দলের সঙ্গে। এরপর থেকে ক্যাম্পজুড়ে গড়ে উঠে তাদের মাদক, মানব পাচারসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড।

এতে স্থানীয় লোকজন ভয়-ভীতির মধ্যে রয়েছেন। তাদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে, তদন্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগকারি আনসার বলেন, দীল মোহাম্মদ নামে এক রোহিঙ্গা পরিবারের অন্তত ৮ জন জাতীয় সনদ ও স্মার্টকার্ড করেছে। আবার তারা রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে ক্যাম্প থেকে ত্রাণ সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি তারা ক্যাম্পের ডাকাত দলের সঙ্গে মিলে ইয়াবা, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি জানাচ্ছি, তাদের ভোটার বাতিল করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়া হোক।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, ‘এক রোহিঙ্গা পরিবার চট্রগ্রামের আনোয়ারার ঠিকানা দিয়ে জাতীয় সনদ করেছে বলে স্থানীয় লোকজনের কাছে শুনেছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!