করোনা ভাইরাস: টেকনাফ সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা

করোনা ভাইরাস: টেকনাফ সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা

নুরুল হক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পরপরই সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে সর্তকতা বাড়ানো হয়েছে। কেননা পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমারের সাথে টেকনাফ স্থলবন্দর ও করিডোরে বিভিন্ন পণ্য ও পশু বোঝাই জাহাজ ও ট্রলারের যাতায়াত রয়েছে। ফলে বন্দরে আগত ট্রলারের মাঝি-মাল্লাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণসহ স্কেনিংয়ের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে নিয়মিত।

এদিকে টেকনাফ স্থলবন্দরে একটি মেডিকেল টিম মিয়ানমার থেকে আসা প্রতিটি ট্রলারে থাকা মাঝিমাল্লাদের করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই মেডিকেল টিমের টিম লিডার হচ্ছেন ডা. শুভ্র দেব।

টিম লিডার ডা. শুভ্র দেব বলেন, ‘ঢাকায় তিন বাংলাদেশি করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার পরপরই টেকনাফ স্থল বন্দরে প্রতিদিন মিয়ানমার থেকে ট্রলারে করে আসা মাঝিমাল্লাদের মাঝে ভাইরাস শনাক্তকরণের কাজ গুরুত্বসহকারে পালন করা হচ্ছে। তবে সরাসারি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা জানতে তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যথেষ্ট ব্যবস্থা নেই। তবে যে ব্যবস্থায় আমরা করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এতে নিজেরাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছি বলে মন্তব্য করেন এই চিকিৎসক।

স্থানীয়দের মতে, বন্দর ও করিডোর এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকির ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হোক। কারণ পাশ্ববর্তী রাষ্ট্র মিয়ানমারের সাথে টেকনাফ স্থল বন্দর ও করিডোরে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তবে চীনের সাথে সেদেশের রয়েছে সীমান্ত। ওই সীমান্ত দিয়ে চীনের পণ্য সরাসরি মিয়ানমার হয়ে বাণিজ্যিক ভাবে বাংলাদেশে ডুকছে। এসব পণ্যের সাথে ট্রলারে করে আসছেন মিয়ানমারের মাঝিমাল্লা ও নাগরিকরা। এর সুবাধে মিয়ানমার নাগরিকদের আসা-যাওয়া রয়েছে। তাছাড়া চীনসহ বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। যার ফলে বাড়ছে আতঙ্ক। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

গত রোববার ঢাকায় তিন বাংলাদেশীর শরীরে করোনা ভাইরাস সনাক্ত করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশেও এই ভাইরাস নিয়ে আতংক দেখা দিয়েছে। তবে এই ভাইরাস বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়লেও মিয়ানমারে এখনও সংক্রমণের কোন খবর পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. টিটু চন্দ্র শীল বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জরুরী মেডিকেল টীম গঠন করা হয়েছে। ভাইরাস সনাক্তে প্রতিদিন বন্দরে আগত জাহাজ ও ট্রলারের গরু ও মাঝিমাল্লাদের থার্মাল স্কেনিং করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, যেহেতু টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের সাথে যাত্রী পারাপারের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে এই এলাকা খুব বেশি সমস্যা সৃষ্টির আশংকা দেখা যাচ্ছে না। তবে যদি কারো শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি ও কাশির মতো সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দেয় সাথে সাথে হাসপাতাল কতৃপক্ষকে অবগত করতে বলা হয়েছে। এই ভাইরাস সম্পর্কে জনসচেতনতার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডা. টিটু শীল।

টেকনাফ স্থল বন্দর ইউনাইটেড ল্যান্ডপোর্ট ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে বন্দরে সতর্কতা জারি রয়েছে। উপজেলা হাসপাতালের পক্ষ থেকে মেডিকেল টীম কাজ করছে। বন্দরে আসা মিয়ানমারের ট্রলারে থাকা নাগরিকদের স্কেনিং করা হচ্ছে। তাছাড়াও তাদের বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এসকল নাগরিকরা যেন দেশের অভ্যন্তরে ডুকতে না পারে, সে ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!