আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন পূর্বপ্রস্তুতি

করোনা ভাইরাস: ঝুঁকিমুক্ত নয় কক্সবাজার

করোনা ভাইরাস: ঝুঁকিমুক্ত নয় কক্সবাজার

মিনার হাসান
অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে কাঁপছে পুরো বিশ্ব। প্রাণঘাতী ভাইরাসটি দ্রুত ছড়ানোর কারণে আতঙ্ক এখন বিশ্বজুড়ে। বিশ্বের প্রায় অর্ধশত দেশে ভাইরাসটি আক্রমণ করেছে। বাংলাদেশে সর্বশেষ তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর। সারাবিশ্বে ৭০টিরও বেশি দেশে লক্ষেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন হাজারেরও বেশি।

এ অবস্থায় পৃথিবীর অনেক দেশে পর্যটক নিষিদ্ধ করা হয়েছে পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন স্থান হলো কক্সবাজার। বছরে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক ভ্রমণ করে কক্সবাজার। মানবতার শহর কক্সবাজারে বর্তমানে অবস্থান নিয়েছে প্রায় ১ মিলিয়ন রোহিঙ্গা। যাদের সেবা দেয়ার জন্য কাজ করছে দেশি বিদেশী প্রচুর এনজিও কর্মী। সব মিলিয়ে প্রচুর মানুষের সমাগম রয়েছে এই জেলায়, তাই করোনা ঠেকাতে দরকার বাড়তি সতর্কতা।

২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম এই ভাইরাসের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয় চীনের উহান প্রদেশে। ভাইরাসটি চিহ্নিত হয় গত ৩১ ডিসেম্বর। প্রথমজনের মৃত্যু ঘটে গত ৯ জানুয়ারি।

পৃথিবীর অনেক দেশে পর্যটন এলাকা সমূহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে নিরাপত্তাজনিত কারণে, তাই পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ সরকারেরও ভাবার সময় এসেছে লোক-সমাগম স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার।

সর্বশেষ করোনা ঠেকাতে সৌদি সরকার ওমরাহ পালন বন্ধ করে দিয়েছে, সংক্রমণের আশঙ্কাজনক বৃদ্ধির কারণে ভুটান ও ভারতের সিকিমে পর্যটকদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে সাময়িকভাবে।

বাংলাদেশের বড় একটি শিল্প পর্যটন শিল্প, যা থেকে বাংলাদেশ সরকার ব্যাপক রাজস্ব আয় করে থাকে।

রহস্যময় করোনা ভাইরাসের বিস্তার কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সারাবিশ্বের পর্যটন খাতে। পর্যটনখাতে করোনা ভাইরাসের এই নেতিবাচক প্রভাব আগামী বছরও অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, করোনা ভাইরাসের কারণে মারাত্মক সংকটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে বৈশ্বিক বিভিন্ন শিল্পখাত। এই ভাইরাসের কারণে বিশেষ করে ধস নেমেছে সারাবিশ্বের পর্যটনখাতে।

এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পর্যটনখাতে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের এ নেতিবাচক প্রভাব বজায় থাকবে ২০২১ সালেও। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে নিউমোনিয়াসদৃশ কভিড-১৯ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এশিয়া মহাদেশের কয়েকটি দেশে। এরই মধ্যে ৭৫ শতাংশ পর্যটক ফেব্রুয়ারি ও মার্চে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণের পরিকল্পনা বাতিল করেছে।

যদি বাংলাদেশে করোনার প্রভাব পড়ে, তাহলে বাংলাদেশে স্বাভাবিক উন্নয়নে বাধা আসতে পারে, উন্নয়ন অব্যাহত রাখার জন্য সরকারের প্রয়োজন আরেকটু বাড়তি সতর্কতা। যে সব স্থানে লোকের সমাগম বেশী হয়, বিশেষভাবে পর্যটন স্থান সমূহে লোক সমাগম সীমিত করার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

‘প্রতিষেধকের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ তাই বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এখন থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি বাংলাদেশ যেহেতু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দেশের তালিকায় প্রবেশ করেছে, সেহেতু দেশের প্রত্যেক সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজন করোনা ইউনিট চালু করা ।

আইইডিসিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে দেশের বিভিন্ন স্থল, নৌ ও বিমানবন্দরগুলোতে ইমিগ্রেশন ও আইএইচআর স্বাস্থ্য ডেস্কগুলোতে সতর্কতা ও রোগের সার্ভেইল্যান্স জোরদার করা হয়েছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৭২০ সালে দুনিয়াজুড়ে ২০ কোটি মানুষ শুধুমাত্র প্লেগ রোগে মারা যায়। তার ১০০ বছর পর ১৮২০ সালে শুধুমাত্র ভারত ও পূর্ব এশিয়ায় কলেরা রোগে মারা যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ। এবং আফ্রিকা ইউরোপে বসন্ত রোগে মারা যায় ৩৫ লক্ষ মানুষ। তারও ১০০ বছর পর ১৯২০ সালে দুনিয়াজুড়ে মারা যায় ৫ কোটি মানুষ। ২০০২ সালে সার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় প্রায় ৭০০ মানুষ, কিন্তু মানব সভ্যতাকে থামাতে পারেনি এই প্রাণঘাতী ভাইরাস সমূহ।

করোনার এই প্রভাব কয়েক বছর থাকলেও আশা করা যায়- এটিও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই সকলের উচিত আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকা এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি চীনের উহান শহরের একটি মাছের বাজার থেকে এই ভাইরাসটি ছড়িয়েছে। নিউমোনিয়া-সদৃশ এ ভাইরাসটি নতুন এক ধরণের করোনা ভাইরাস। নোবেল করোনা ভাইরাস, উহান করোনা ভাইরাস, উহান ফ্লু, উহান সি ফুড মার্কেট নিউমোনিয়া ভাইরাস ও উহান নিউমোনিয়া নামে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়েছে ভাইরাসটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একে বলছে- 2019-nCoV।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!