পৌরসভা করার দাবি

স্বপ্ন পুরণের পথে উখিয়া

স্বপ্ন পুরণের পথে উখিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, উখিয়া
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

আড়াই বছরে পাল্টে গেছে উখিয়ার চিত্র। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার পর ‘মানবতার শহর’ উখিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নাগরিক যোগাযোগে বিপ্লব যোগ করেছে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক প্রকল্প। একবছর আগেও উখিয়াবাসীর কাছে কক্সবাজার-টেকনাফ শহীদ জাফর আলম আরাকান সড়ক ছিল এক দুঃস্বপ্নের নাম।

গেল বছর বৃষ্টির সময়ে কোটবাজারবাসী সড়কে ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এখন কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কজুড়ে উন্নয়নের কাজ ত্বরান্বিত হচ্ছে। যদিও উখিয়ার যানজটে মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। এরপরও মানুষ মেনে নিয়েছেন।

যানজট নিরসন এবং স্বস্তিদায়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য নির্মাণকাজ দিনরাত বিরতিহীনভাবে চলছে। ব্যস্ত নাগরিক জীবনকে আরও সহজ ও আধুনিকতায় শামিল করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

এখন উখিয়াবাসীর আরেকটি প্রাণের দাবি হয়ে উঠেছে, উখিয়াকে পৌরসভা করা হোক।

পৌরসভা বাস্তবায়ন কমিটির চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা জাফর আলম চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ব্যয়বহুল উপজেলা উখিয়া সদরকে পৌরসভা ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি। পাথুরে গাথা নয়নাবিরাম ইনানী সমুদ্র সৈকতকে সমুদ্র বন্দর, বালুখালি ঘাট করিডোর, বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রি সড়ক দিয়ে দু-দেশের বাণিজ্যিক, কক্সবাজার-রামু হয়ে ঘুমধুম রেল লাইন সম্প্রসারণ বাস্তবায়ন হলে উখিয়া হবে অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র।

এমনিই রোহিঙ্গাদের কারণে এনজিওদের কাজের ফলে ঘুরে যাচ্ছে উখিয়ার অর্রথনৈতিক চাকা। প্রধানমন্ত্রী অনুধাবন করেছেন, কক্সবাজার সব সময় অবহেলিত ছিল। এদিকে কেউ কখনো থাকায়নি। প্রধানমন্ত্রী পুরো কক্সবাজারকে গড়ে তুলতে চেয়েছেন অর্রথনৈতিক কর্রমচঞ্চল এলাকা হিসেবে।

কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দ্রুত এগিয়ে চলা আটটি উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে কক্সবাজারের চেহারা পাল্টে যাবে। উন্নয়নে বদলে যবে কক্সবাজারবাসীর জীবনযাত্রার মান।

এডিপির চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হচ্ছে জরুরি সহায়তা প্রকল্প-কক্সবাজার-টেকনাফ জাতীয় মহাসড়ক (এন-১) উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৫ কোটি টাকা। জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প দ্বিতীয় পরযায় (চট্রগ্রাম জোন) কক্সবাজার অংশ, জনতাবাজার-গোরকঘাটা জেলা মহাসড়ক (জেড-১০০৪) ২৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সড়ক নিরমাণে ৫৯ কোটি টাকা, খুরুস্কুল-চৌফলদন্ডি-ঈদগাঁও জেলা মহাসড়ক (জেপ-১১৩২) ১৮ দশমিক ২৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণে ৩৮ কোটি টাকা। এই সড়কটির কাজ শেষ হলে ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার সদরের দূরত্ব অর্ধেক কমে যাবে।

ইয়াংসা-মানিকপুর-শান্তিবাজার জেলা মহাসড়ক (জেড-১১২৬) ১৯ দশমিক ৫২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্রমাণে ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ (জেলা মহাসড়ক জেড-১০৯৯) এর হাড়িয়াখালী হতে শাহপরীর দ্বীপ অংশ পূণঃনির্মাণ, প্রশস্তকরণ এবং শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ৫ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক (ব্রিজসহ) নির্মাণে ৫৪ কোটি টাকা। কাজটি সম্পন্ন হলে দীর্ঘ ৮ বছরের কষ্ট থেকে মুক্তি পাবেন শাহপরীর দ্বীপবাসী।

কক্সবাজার জেলার লিংক রোড-লাবণী মোড় সড়ক (এন-১১০) চার লেন উন্নীতকরণ প্রকল্পে (রিভাইসসহ) ১০ দশমিক ৯৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণে ৩৮৮ কোটি টাকা, কক্সবাজার জেলার একতা বাজার থেকে বনৌজা শেখ হাসিনা পর্রযন্ত সড়ক (জেড-১১২৫) উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণে ৩৬১ কোটি ২১ লাখ টাকা, কক্সবাজার জেলার রামু-ফাতেখারকুল-মরিচ্যা জাতীয় মহাসড়ক (এন-১০৯ এবং ১১৩) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নতকরণ প্রকল্পে ১৬ দশমিক ৭২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণে ২৬৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এই সড়কটির কাজ শেষ হলে সরাসরি রামু থেকে টেকনাফ যোগাযোগ সহজ হবে, মহাসড়কের লিংক রোড অংশে যানবাহনের চাপ ও যানজট হ্রাস পাবে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে এসব কাজ শুরু করা হয়। আগামী ২০২২ সালের জুন মাসে উল্লিখিত প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

২০১৯-২০ অর্রথবছরের এডিপিভুক্ত আটটি উন্নয়ন প্রকল্পে ১ দশমিক ৭৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতির তথ্য সাংবাদিকদের জানান কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের নকশা প্রণয়নকারী আমি। আশা করছি, কাজগুলো শেষ হলে জনগণ এর সুফল পাবেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!