চোখের পানি থামছে না টেকনাফের লবণ চাষীদের!

চোখের পানি থামছে না টেকনাফের লবণ চাষীদের!

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকনাফ
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

লবণের দাম হঠাৎ করে কমে যাওয়ায় টেকনাফের লবণ চাষিরা পড়েছেন বিপাকে! চাষিরা লবণ উৎপাদন করার সময় যে টাকা খরচ করেছেন, লবণ বিক্রি করে সেই টাকাটাও আদায় করতে পারবেন না। আরেকটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, উৎপাদন খরচের চেয়ে লবণের দাম অনেক কমে গেছে।

এদিকে লবণের দাম হঠাৎ করে কমে যাওয়ায় ক্রেতার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফের বেশীর ভাগ লবণ চাষি ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে লবণের চাষ করেছেন। লবণের সঠিক মুল্য না পাওয়ার কারণে কিভাবে তারা ব্যাংকের ঋণ শোধ করবেন সেই চিন্তায় তারা এখন চোখের পানি ফেলে পেলে লবণের ন্যায্য মুল্য পাওয়ার জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

গত কয়েক বছর ধরে লবণের সঠিক মুল্য পাওয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে গেছেন মাঠপর্যায়ের লবণ চাষিরা। কিন্তু সেই আশা পুরণ তো হয়ইনি, বরং লবণের দাম আগের চেয়ে আরো অনেকটা কমে গেছে।

লবণ চাষিদের অভিযোগ, প্রতিবছর একটি চক্র পাশ্ববর্তী দেশ ভারত ও মিয়ানমার থেকে লবণ আমদানি করার জন্য দেশীয় লবণ শিল্পের বিরুদ্ধে করে যাচ্ছে ষড়যন্ত্র।

বিসিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের নভেম্বরের শেষের দিকে টেকনাফে লবণ উৎপাদন শুরু করেন চাষিরা। এই উপজেলায় প্রতিবছর প্রায় সাড়ে তিন হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন করা হয়। তবে গত বছর শুধু টেকনাফ উপজেলা এক লাখ সাড়ে ১৪ হাজার টন লবণের চাহিদা পূরণ করেছে। এসময় সরকার লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ১৮ লাখ ৫০ হাজার টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার ইতোমধ্যে ৫০ হাজার টন লবণ উৎপাদিতও হয়েছে।

সরেজমিনে বেশ কয়েকটি লবণ মাঠ ঘুরে দেখা যায়, টেকনাফের নাফনদী সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকা সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও হ্নীলা ইউনিয়নে ২ হাজার একর জমিতে পড়ে আছে শত শত লবণের স্তুপ। প্রতিটি স্তূপে ৪০-৫০ মণ করে লবণ রয়েছে। এছাড়াও টেকনাফ সদর, হোয়াইক্যং ও শামলাপুর ইউনিয়নে আরও দেড় হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছে। এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে উৎপাদন করা প্রায় ৮ শত টন লবণ মাঠের ভেতরে গর্তে পড়ে আছে। শুধু সাবরাং ইউনিয়নের লবণ মাঠগুলোতে পড়ে আছে প্রায় ২৫০ হাজার টন লবণ।

এব্যাপারে সাবরাং ইউনিয়নের লবণ ব্যবসায়ী মোঃ শরীফ হোসেন বলেন, লবণ মজুদকারী মিল মালিকরা গত কয়েক বছর ধরে সুকৌশলে অসহায় ঋণগ্রস্ত লবণ চাষিদের সরলতার সুযোগ নিয়ে এবং সিন্ডিকেট তৈরী করে লবণের দাম কমিয়ে দিয়েছেন। সেই সুত্র ধরে এবারও তারা মাঠপর্যায়ে চাষিদের কথা চিন্তা না করে আবারও হঠাৎ করে লবণের দাম কমিয়ে দিয়েছেনে।

এতে ঋণগ্রস্ত লবন চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কারণ, তারা লবণ উৎপাদন করতে খরচ করেছে প্রতি কেজিতে সাড়ে ৬ টাকা। বিক্রি করতে গেলে পাবেন সাড়ে ৩ টাকা, এক কথায় লবণ মুল্য পানির দামের চেয়ে কমে গেছে।

টেকনাফ উপজেলা লবণ চাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন,
অসাধু অর্থলোভী লবণ ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে লবণের দাম কমিয়ে দেয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। লবণের ন্যায্যমূল্য নিয়ে কেউ ভাবছে না। লোকসান দিয়ে লবণ বিক্রি করে ঋণের টাকাও পরিশোধ করতে পারবে না অনেকে।

বিসিক টেকনাফের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যে এই সীমান্তে প্রায় ৫০ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় লবণ উৎপাদন আগের চেয়ে অনেক বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, চাষিরা লবণের সঠিক মুল্য না পেলে আগামীতে লবণ উৎপাদন করা বন্ধ করে দেবেন।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!