ইসলামপুরে গভীর রাতে চিংড়িঘের ও লবণ মাঠে ডাকাতদলের এলোপাতাড়ি গুলি, ভাঙচুর ও লুটপাট

coxsbazar vision

নিজস্ব প্রতিবেদক
কক্সবাজার ভিশন ডটকম

কক্সবাজার সদরের উপকূলীয় ইউনিয়ন ইসলামপুরে চিংড়ি ও মৎস্য ঘেরে ৪ ঘন্টা ধরে দেড়শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে ভাংচুর, লুটপাট এবং দুই শ্রমিককে তুলে নিয়ে একজনকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময় ৪ জনকে মারধর করা হয়।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সদরের ইসলামপুর ইউনিয়নের উত্তর নাপিতখালী গোল্ডেন ফার্ম এসোসিয়েট নামের একটি চিংড়ি ও লবণ মাঠে এই ঘটনা ঘটে।

রাত ১১টা থেকে দফায় দফায় গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই ডাকাতির ঘটনা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আশপাশ এলাকা থেকে গুলির খালি খোসা এবং ডাকাতদলের ফেলে যাওয়া একটি ওয়াকিটকি (ওয়ারলেস) উদ্ধার করেছে ঈদগাঁহ পুলিশ।

তবে ডাকাত দলের সদস্যদের বাড়ি খুটাখালী হলেও একজনকেও আটক করতে পারেনি চকরিয়া থানা পুলিশ। উদ্ধার করা যায়নি ব্যবহৃত কোন আগ্নেয়াস্ত্র।

সংঘটিত ডাকাতি ও লুটপাটে বাধা দেয়ায় লবণ চাষী মোস্তাক আহমদ (৫০) এবং নাজু নামের অপর এক শ্রমিককে তুলে নিয়ে যায়। ওই সময় ফের বাধা দেয়ায় আমানু, রমজান, সোহেল ও আবছার নামের আরও ৪ জনকে মারধর করে ডাকাত দলের সদস্যরা।

সুত্র মতে, রাতের অন্ধকারে মারধরের শিকার নাজু’কে ছেড়ে দিলেও মঙ্গলবার সকালে মুমূর্ষু অবস্থায় ছেড়ে দেয়া হয় মোস্তাক আহমদকে। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে আশংকাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মোস্তাক আহমদকে বাঁশখালী এলাকার হাকিম আলীর ছেলে এবং ওই লবণ মাঠের বর্গা।

গোল্ডেন ফার্ম এসোসিয়েটের পরিচালক শাহজাহান চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, ইসলামপুর ইউনিয়নের জুমনগর এলাকার মৃত ফজল করিমের ছেলে আক্তার আহমদের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জন অস্ত্রধারি ডাকাত এসে প্রথমে উপর্যোপরি গুলিবর্ষণ করে ভীতি প্রদর্শন করেন। তারপর ঘেরের দু’টি বাসায় ভাংচুর চালিয়ে পানি উত্তোলনের ৪টি মেশিন, চুলাসহ গ্যাস সিলিন্ডার দু’টি, সৌর বিদ্যুৎ দু’টি, মাছ শিকারের ১০টি জাল, কলবোট জাল দু’টি, লবণ বিক্রির নগদ ৭৫ হাজার টাকাসহ ৫ লক্ষাধিক টাকার সরঞ্জাম ডাকাতি করে নিয়ে গেছে।

তিনি দাবি করেন, ডাকাতিতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে দুই শ্রমিককে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় হামলাকারিরা এবং আরও ৪ জনকে মারধর করে আহত করে তারা।

মারধরের শিকাররা প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও মোস্তাক আহমদের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে ঘেরটির অংশীদাররা এক হয়ে ধাওয়া করলে ডাকাত দলের সদস্যরা ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে পশ্চিম দিকে পালিয়ে যায়।

ঘেরের অংশীদার জসিম উদ্দিন জানান, ডাকাত দলের সদস্যরা জলপথে বোটযোগে এসে ডাকাতি করেছে।

তাদের ধারণা, সবার বাড়ি চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হতে পারে। ডাকাতি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ডাকাত দল পালিয়ে নদী পার হয়ে চকরিয়া উপজেলা খুটাখালীর দিকে চলে যায়। এসময় ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে ৩টি গুলির খালি খোসা, এবং একটি ওয়াকিটকি (ওয়ারলেস) উদ্ধার করা হয়। যদিও পরে চকরিয়া থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কাউকে আটকের চেষ্টা চালায়নি বলে অভিযোগ করেন অংশীদাররা।

এ ব্যাপারে ঈদগাঁও তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথে একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সদর এবং চকরিয়া উপজেলার মধ্যবর্তী এলাকা হওয়ায় দূর্বৃত্তরা দ্রুত খুটাখালী ইউনিয়নে পালিয়ে যায়। আটকের চেষ্টা চালানো হয়েছে অনেকক্ষণ।

তিনি বলেন, ২৫/৩০ রাউন্ডের মতো গুলিবর্ষণ হয়েছে। ৩টি খালি খোসা ও একটি ওয়াকিটকিও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘের মালিক অথবা অংশীদার এবং চাষার পক্ষে কেউ মামলা করলে তদন্তপূর্বক আইনের আওতায় আনা হবে।

error: Content is protected!! অন্যের নিউজ নিয়ে আর কতদিন! এবার নিজে কিছু লিখতে চেষ্টা করুন!!